বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > মা–বাবা ভাড়া মিলছে তিন হাজার টাকায়, সীমান্ত জুড়ে কপালে ভাঁজ প্রশাসনের
সীমান্তে ভারতীয় জওয়ানরা।

মা–বাবা ভাড়া মিলছে তিন হাজার টাকায়, সীমান্ত জুড়ে কপালে ভাঁজ প্রশাসনের

  • এই চক্র এখন জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দালালদের সঙ্গে আধার কার্ড তৈরির কেন্দ্রগুলির কর্মীদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এখন টাকা দিলেই ভাড়া পাওয়া যাচ্ছে মা–বাবা। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্ত এখন এটাই বড় খবর। এমনকী এই ভাড়াটে মা–বাবার তথ্য ব্যবহার করে বাংলাদেশের নাগরিকরা আধার, ভোটার কার্ড বানিয়ে ফেলছে বলে অভিযোগ। এই চক্র এখন জেলাজুড়ে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। দালালদের সঙ্গে আধার কার্ড তৈরির কেন্দ্রগুলির কর্মীদের যোগসাজশ রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বিষয়টি ঠিক কী ঘটছে?‌ সূত্রের খবর, বাংলাদেশের যে ব্যক্তি এখানের আধার কার্ড তৈরি করছে তার নাম ও ছবি নেওয়া হচ্ছে। তারপর খোঁজ করা হয় ভাড়াটে মা–বাবার। সীমান্ত এলাকার দুঃস্থ পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ৩০০০–৫০০০ টাকা। ব্যস, মা–বাবা বানিয়ে আধার কেন্দ্রগুলিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তার আগে দালালদের মারফত অবৈধভাবে বাংলাদেশ থেকে এপারে কাস্টমারদের নিয়ে আসা হয়। ভাড়াটে মা–বাবা দিয়ে আধার কার্ড–ভোটার কার্ড বানিয়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয় একটি সূত্রে খবর, ভাড়াটে বাবার থেকে ছেলের বয়সের ১৮–২০ বছর পার্থক্য রাখা হয়। বাংলাদেশ থেকে এপারে এসে ভাড়াটে মা–বাবাদের দিয়ে সহজে নাগরিকত্ব পাওয়া যাচ্ছে। বালুরঘাট ও হিলি ব্লকের পাশাপাশি গঙ্গারামপুরে প্রচুর এমন বাংলাদেশি নাগরিক এপারে এসে নথি বানিয়ে স্থায়ী বাসিন্দা হয়ে রয়েছেন।

সূত্রের খবর, এক একজনকে বাবা বানিয়ে ছয়–সাতজন এদেশে নাগরিক হয়েছে। আর সরকারি কর্মীদের ধরে পরে ভাড়াটে বাবা–মার নাম সরিয়ে মৃত ব্যক্তির নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। এই কাজে প্রায় ৩০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। এই বিষয়ে অতিরিক্ত জেলাশাসক বিবেক কুমার বলেন, ‘‌ভোটার কার্ডে নাম তোলার সময় তথ্য যাচাই করা হয়। অনেকের আবেদন ভুয়ো পাওয়া যায়। তাদের কার্ড বাতিল করে দেওয়া হয়। যদিও আমাদের কাছে এখনও লিখিত অভিযোগ নেই। অভিযোগ পেলেই খতিয়ে দেখা হবে।’‌

বন্ধ করুন