বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > ইন্টারভিউ শেষ হতেই নম্বরের কাগজ নিয়ে নিয়েছিলেন মানিক, দাবি পরীক্ষকের

ইন্টারভিউ শেষ হতেই নম্বরের কাগজ নিয়ে নিয়েছিলেন মানিক, দাবি পরীক্ষকের

মানিক ভট্টাচার্য।

আমার ও পরে যে ৬০ – ৬২ জনের ইন্টারভিউ নেওয়ার ভার ছিল তাদের কারও প্রশিক্ষণ ছিল না। অথচ আমরা জানতাম, প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক। এক জন প্রার্থীর ইন্টারভিউ নিতে ৫ – ৬ মিনিট লেগেছে। কোনও অ্যাপটিটিউড টেস্টের বালাই ছিল না। অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য চক – ডাস্টার ব্ল্যাক বোর্ড লাগে। সেসব কিছুই সেখানে ছিল না।

প্রাথমিকে ২০১৬-র নিয়োগপ্রক্রিয়ায় চাকরি পাওয়া ৩৬০০০ অপ্রশিক্ষিত শিক্ষককে বহিষ্কারের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। কী ভাবে অ্যাপটিটিউড টেস্টের নামে প্রহসন হয়েছে তা বিস্তারে তুলে ধরেছেন তাঁর রায়ে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ যে বিলক্ষণ সত্য তা স্বীকার করলেন ওই বছর ইন্টারভিউর দায়িত্বে থাকা এক প্রাক্তন শিক্ষক অধুনা ওষুধ ব্যবসায়ী। একটি সংবাদমাধ্যমকে তিনি বলেন, আদালতের রায় সঠিক পথে এগিয়েছে।

নিত্যানন্দপাল নামে ওই অবসপ্রাপ্ত শিক্ষক বেসরকারি সংবাদমাধ্যম টিভি নাইনকে জানিয়েছেন, ১৯৮৬ সালে চাকরিতে যোগদান করেছিলাম। ২০১২ সালে স্বেচ্ছাবসর নিই। তখন আমি তৃণমূলের শিক্ষক সেলের দার্জিলিং জেলার দায়িত্বে ছিলাম। প্রাক্তন শিক্ষক হওয়ায় আমাকে ইন্টারভিউ বোর্ডে রাখা হয়। কিন্তু আমার ও পরে যে ৬০ – ৬২ জনের ইন্টারভিউ নেওয়ার ভার ছিল তাদের কারও প্রশিক্ষণ ছিল না। অথচ আমরা জানতাম, প্রশিক্ষণ থাকা বাধ্যতামূলক। এক জন প্রার্থীর ইন্টারভিউ নিতে ৫ – ৬ মিনিট লেগেছে। কোনও অ্যাপটিটিউড টেস্টের বালাই ছিল না। অ্যাপটিটিউড টেস্টের জন্য চক – ডাস্টার ব্ল্যাক বোর্ড লাগে। সেসব কিছুই সেখানে ছিল না।

এর পরই বিস্ফোরক দাবি করেন নিত্যানন্দবাবু। তিনি বলেন, ‘যেদিন ইন্টারভিউ হয়েছিল সেদিন জেলাতেই ছিলেন মানিক ভট্টাচার্য। পরীক্ষা শেষ হলে তিনি পরীক্ষাকেন্দ্রে আসেন। আমি সহ অন্যান্য পরীক্ষকদের কাছ থেকে নম্বর লেখা কাগজগুলো তিনি নিয়ে যান। অথচ সেই কাগজ জমা পড়ার কথা ছিল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদে’। তাঁর আশঙ্কা, অযোগ্যদের কাছে চাকরি বিক্রি করতেই হয়তো নম্বর লেখা কাগজগুলি আগেভাগে হস্তগত করেছিলেন মানিক। এমনকী সিবিআই ডাকলে তিনি হাজিরা দিতে তৈরি বলেও জানিয়েছেন নিত্যানন্দবাবু।

 

বন্ধ করুন