বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ
ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)
ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য পিটিআই)

ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার করোনা আক্রান্ত বৃদ্ধের ঝুলন্ত দেহ

তিনদিন আগে ওই বৃদ্ধের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে।

ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ। তীব্র গতিতে বেড়েই চলেছে সংক্রমণের সংখ্যা। লাগাম পরানো যাচ্ছে না মৃত্যুর হারেও। এই অবস্থায় ভয় ধরাচ্ছে মানুষের অমানবিক আচরণ।

ইতিমধ্যেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে শহরে ঘটে যাওয়া বেশ কয়েকটা অমানবিক ঘটনা। কোথাও রাস্তার উপরেই পড়ে থাকছে করোনা আক্রান্তের দেহ। কোথাও বাড়িতেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা পড়ে থাকছে দেহ। আবার এমনও অমানবিক ঘটনা ঘটেছে যে, করোনা আক্রান্ত জীবিত রোগীকেই ফেলে আসা হয়েছে শহরের বাইরে! ‌এবার আরও একটি হৃদয়বিদারক ঘটনার সাক্ষী থাকল তিলোত্তমা।

আত্মঘাতী হলেন করোনা আক্রান্ত এক বৃদ্ধ। তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হল ফ্ল্যাটের মধ্যে থেকে। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রিজেন্ট পার্ক থানা এলাকার পুঁটিয়ারিতে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনদিন আগে ওই বৃদ্ধের করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। এরপরে তাঁর ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, করোনা রিপোর্ট পজিটিভ হওয়ার কারণে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তারই এই মর্মান্তিক পরিণতি। অবসাদের জেরেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন ওই বৃদ্ধ। অন্যদিকে, আরও একটি দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে গিয়েছে গড়িয়াহাট থানা এলাকার ফার্ন রোডের একটি ফ্ল্যাটে। এই ফ্ল্যাট থেকে এক করোনা আক্রান্ত মহিলার মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই ফ্ল্যাটে একাই থাকতেন সন্ধ্যা মাহাতো (‌৪৯)‌ নামের ওই মহিলা।

জানা গিয়েছে, কয়েকদিন আগেই তিনি করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। শুক্রবার দুপুর থেকে তাঁর কোনও সাড়াশব্দ পাচ্ছিলেন না আবাসিকরা। কিন্তু করোনার ভয়ে ওই ফ্ল্যাটের দরজা ভাঙতে সাহস পাচ্ছিলেন না কেউ। অবশেষে পড়শিরা গড়িয়াহাট থানায় খবর দিলে পুলিশ ৬ ঘণ্টা পরে এসে দরজা ভেঙে সন্ধ্যার দেহ উদ্ধার করে।

আবার শুক্রবারই বাগুইআটি এলাকার রঘুনাথপুরে এক করোনা আক্রান্ত রোগীর দেহ প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়। তবে দেহ উদ্ধারের আগেই এদিন এলাকা স্যানিটাইজ করার কাজ শুরু করে বিধাননগর পুরসভা। এই ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের অভাবের অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা। পরিবার সূত্রে খবর, অবসরপ্রাপ্ত এক রেলকর্মীর করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পজিটিভ আসে। অভিযোগ, তারপর থেকে বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরেও বেড পাওয়া যায়নি। পরিবারের দাবি, শেষপর্যন্ত রাত ১০টা নাগাদ অ্যাম্বুল্যান্সেই মৃত্যু হয় ওই করোনা রোগীর। মৃতের স্ত্রীও করোনা আক্রান্ত। গতকাল রাত থেকে মৃত স্বামীকে নিয়ে একাই ছিলেন তিনি। প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর তাঁর দেহ উদ্ধার করে প্রশাসন। একের পর এক এই ধরণের অমানবিক ঘটনার জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন শহরবাসী।

বন্ধ করুন