মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

ভিনরাজ্যে যাবেন না, কাজ মিলবে এরাজ্যেই, প্রবাসী শ্রমিকদের বললেন মমতা

  • মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, কাজের জন্য আর অন্য রাজ্যে যাওয়ার দরকার নেই। ঘরের ছেলেরা ঘরেই থাকুন। সময় লাগলেও রাজ্য সরকার কাজের ব্যবস্থা করবে।

ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া পশ্চিমবঙ্গের পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্য না ছাড়তে অনুরোধ করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, সময় লাগতে পারে, কিন্তু রাজ্যের বাসিন্দাদের এরাজ্যেই কাজের ব্যবস্থা করবে রাজ্য সরকার। সঙ্গে ১০০ দিনের কাজে রাজ্যে ফিরে আসা শ্রমিকদের নিয়োগ করতে নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

এদিন অন্য রাজ্যগুলির প্রতি অভিমান করে মমতা বলেন, ‘যারা দুর্দিনে তাড়িয়ে দেয়, তাদের কাছে আর যাবেন না।’ কিন্তু মমতার এই মন্তব্য নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর এরাজ্যেই সবার কাজ মেলা নিয়েও সন্দিহান অনেকে। 

এদিন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ভিনরাজ্য থেকে ইতিমধ্যে ১ লক্ষা মানুষ রাজ্যে ফিরেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০,০০০ মানুষ ফিরেছেন বাসে। বাকিরা ট্রেনে ও অন্যান্য বাহনে ফিরেছেন। ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের প্রতি মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, কাজের জন্য আর অন্য রাজ্যে যাওয়ার দরকার নেই। ঘরের ছেলেরা ঘরেই থাকুন। সময় লাগলেও রাজ্য সরকার কাজের ব্যবস্থা করবে। 

মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবির বাস্তবতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। প্রায় ৯ বছর পার করল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। তাঁর শাসনকালে পশ্চিমবঙ্গ থেকে ভিনরাজ্যে শ্রমিকের কাজ করতে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে বলে দাবি বিরোধীদের। এমনকী ভিনরাজ্যে পশ্চিমবঙ্গের ঠিক কত শ্রমিক কাজ করেন তার কোনও হিসাবও নেই রাজ্য সরকারের কাছে। এই পরিস্থিতিতে ভিনরাজ্যে কাজ করা শ্রমিকদের ফেরাতে এতদিন কেন উদ্যোগী হল না তার সরকার? আর উদ্যোগী হয়ে থাকলেও কেন মিলল না সাফল্য? আর হঠাৎ করে কোথা থেকে এত লোকের জন্য কাজ জোগাড় করবেন তিনি? যতদিন কাজ না জোগাড় হবে ততদিন কী ভাবে বেঁচে থাকবে মানুষগুলো?  

ভিনরাজ্যে কাজ করতে যাওয়া শ্রমিকদের কথায়, পশ্চিমবঙ্গে প্রত্যন্ত এলাকায় দক্ষ ও অদক্ষ দুই ধরণের শ্রমিকেরই নিয়মিত কাজ মেলা মুশকিল। আর কাজ মিললেও তার জন্য পয়সা মেলে কম। ফলে কাজের খোঁজে কলকাতা বা কোনও শহরে যেতেই হয়। সেই যদি ভিটেমাটি ছাড়বই তাহলে যেখানে বেশি পয়সা মিলবে  সেখানে যাব না কেন? 

এছাড়া যে সব রাজ্য থেকে শ্রমিকরা বাড়ি ফিরছেন তারা ‘তাড়িয়ে দিয়েছে’ বলে মুখ্যমন্ত্রী যে প্রশ্ন করেছেন, বিতর্ক রয়েছে তা নিয়েও। ভিনরাজ্য থেকে যেমন ফিরছেন এরাজ্যের বাসিন্দারা। তেমনই কলকাতা-সহ পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত বহু মানুষ লকডাউন জারি হওয়ার পর নিজের রাজ্যে ফিরে গিয়েছেন। ওড়িশা সরকারের দাবি, পশ্চিমবঙ্গ থেকে ফেরা একাধিক ব্যক্তির দেহে সেখানে করোনা সংক্রমণ মিলেছে। সোমবার ঝাড়খণ্ডে পশ্চিমবঙ্গ ফেরত ২ জনের দেহে মিলেছে করোনা। এছাড়া কোটা থেকে যে ১০১টি বাসে করে পড়ুয়ারা এরাজ্যে ফিরেছিলেন তাতে করে রাজ্যে ফিরেছেন রাজস্থানের বহু বাসিন্দা। প্রশ্ন ওঠে, তাদের কি ‘তাড়িয়ে দিয়েছে’ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। 

সমাজতত্ববিদরা বলছেন, মানুষ প্রবাসে কাজ করতে গিয়ে উপার্জন হারালে সেখানে টিকে থাকা মুশকিল হয়। কারণ শহরে জীবন যাপনের খরচ অনেক বেশি। তাই কাজ না থাকলে বাড়িতে ফিরে আসার প্রবণতা দেখা দেয় তাদের মধ্যে। শিল্পবিপ্লবের পর থেকে গত কয়েকশ বছরে এই প্রবণতা দেখা গিয়েছে। এর মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু নেই। 

 

বন্ধ করুন