বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > Santanu Sen: ‘‌ম্যাডাম, আপনি আমাকে ডেকে নিতে পারতেন’‌, শান্তনু–মমতার সংলাপে নয়া ছবি

Santanu Sen: ‘‌ম্যাডাম, আপনি আমাকে ডেকে নিতে পারতেন’‌, শান্তনু–মমতার সংলাপে নয়া ছবি

শান্তনু সেন, রাজ্যসভার সাংসদ 

২০০৬ সালে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন। বিডিও অফিস থেকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৎকালীন বিরোধী নেত্রীর টানা অনশন আজও স্মৃতিতে টাটকা বাংলার মানুষের। সেই ঘটনা নিয়েই এই ছবি। চিত্রনাট্যের শুরু থেকেই গ্রামবাংলার অভাগী মায়ের যন্ত্রণা, বঞ্চনা, তুলে ধরা হয়েছে। আর সেখানে চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মেয়ে দুর্গাকে।

‌অভিনেতা–সাংসদকে দেখেছে বাংলা। এবার দেখল সাংসদ–অভিনেতাকে। দেবকে দেখা গিয়েছিল অভিনেতা থেকে সাংসদ হতে। আর শান্তনু সেনকে দেখা গেল চিকিৎসক–সাংসদ থেকে অভিনেতা হতে। তিনি পেশায় চিকিৎসক থেকে কাউন্সিলর হয়েছিলেন। এখন তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ। তাও আবার কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া দিয়ে বেশ জনপ্রিয়। তবে এখানেই নিজের প্রতিভাকে থামিয়ে না রেকে অন্য ভূমিকায় নিজেকে মেলে ধরলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শান্তনু সেন। এবার অভিনয়ে পা রাখলেন তিনি। রাজ্য সরকারের ‘‌কন্যাশ্রী’‌ প্রকল্পের উপর তৈরি ছবিতে পুলিশের ডিজি’‌র ভূমিকায় অভিনয় করছেন শান্তনু সেন।

ঠিক কী নিয়ে ছবি?‌ এই ছবিতে তুলে ধরা হয়েছে সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে ‘‌কন্য়াশ্রী’‌ প্রকল্প। যে কন্যাশ্রী প্রকল্প আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছে। সেই ছবিতে রাজ্য পুলিশের ডিজি’‌র চরিত্রে অভিনয় করছেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ শান্তনু সেন। আর সেখানে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন টলি–পাড়ার অভিনেত্রী কনীনিকা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। শ্যুটিংও শুরু হয়ে গিয়েছে। পুলিশের পোশাক পরে শান্তনু সেন পেশাদার অভিনেতার মতোই সংলাপ বলছেন। আর ছবিটি মুক্তি পেলেই রাজ্য– রাজনীতিতে চর্চা তুঙ্গে উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কেন কন্যাশ্রী প্রকল্পকে ছবিতে রাখা হল?‌ জানা গিয়েছে, বাংলার মেয়েদের জীবনে এই প্রকল্প নজির গড়েছে। তার জন্য রাষ্ট্রপুঞ্জে সেরা প্রকল্পের স্বীকৃতি পেয়েছে বাংলার কন্যাশ্রী প্রকল্প। তাই এই প্রকল্প নিয়েই পরিচালক উজ্জ্বল মিত্রের পরিচালনায় নতুন ছবি। সেখানেই রাজ্য পুলিশের ডিজি’‌র চরিত্রে দেখা যাবে সাংসদ–অভিনেতা শান্তনু সেনকে। এই ছবিতে কনীনিকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের চরিত্রে অভিনয় করলেও এখানে তাঁর চরিত্রের নাম মায়া চট্টোপাধ্যায়।

কেমন সংলাপ সেখানে রয়েছে?‌ ছবির শ্যুটিং চলাকালীন সংলাপ শোনা গেল শান্তনু সেনের গলায়, ‘‌ম্যাডাম, আপনি আমাকে ডেকে নিতে পারতেন। তা না করে নিজেই...বিশেষ দরকার, সে তো বুঝতেই পারছি।’‌ আবার বলতে শোনা গেল, ‘‌যে ছবি আপনি দেখেছেন, আমি হুবহু সেই ছবি আপনার সামনে তুলে ধরব।’‌ এই সংলাপ থেকেই বোঝা গেল ছবির প্রেক্ষাপট ২০০৬ সালে সিঙ্গুরের জমি আন্দোলন। বিডিও অফিস থেকে গান্ধীমূর্তির পাদদেশে তৎকালীন বিরোধী নেত্রীর টানা অনশন আজও স্মৃতিতে টাটকা বাংলার সাধারণ মানুষের। সেই ঘটনা নিয়েই এই ছবি। চিত্রনাট্যের শুরু থেকেই গ্রামবাংলার অভাগী মায়ের যন্ত্রণা, বঞ্চনা, ছেঁড়া, ফাটা আঁচল তুলে ধরা হয়েছে। আর সেখানে চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সেই মায়ের স্নেহে বেড়ে ওঠা সাধারণ মেয়ে দুর্গাকে ঘিরে।

কী বলছেন কনীনিকা–শান্তনু?‌ এই ছবি নিয়েই উজ্জ্বল মিত্রের পরিচালনায় এগোচ্ছে সিনেমার গল্প। মমতার চরিত্রে অভিনয় নিয়ে প্রশ্ন করলে কনীনিকা বলেন, ‘‌শ্যুটিং চলছে। আমি পুরোপুরি কপি করছি, এমন নয়। ওঁকে পুরোপুরি কপি করা সম্ভবও নয়।’‌ নতুন অভিনেতা শান্তনু বলেন, ‘‌যৌবনে নাটকে টান ছিল। নতুন অভিজ্ঞতা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে নতুন উৎসাহ।’‌ ছবিটি চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মুক্তি পাবে বলে খবর।

বন্ধ করুন