দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দিলীপ ঘোষের গলায় মালা পরাচ্ছেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। ছবি ফেসবুক
দ্বিতীয়বার পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর দিলীপ ঘোষের গলায় মালা পরাচ্ছেন রাজ্য বিজেপি নেতারা। ছবি ফেসবুক

ভবিষ্যতে আরও কড়া কথা শোনার জন্য নিজেকে তৈরি করুন, বিরোধীদের বললেন দিলীপ

  • আমাদের কর্মীকে খুন করে টাঙিয়ে দেওয়ার পরে কি আমার কাছ থেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা আশা করেন?

দ্বিতীয় দফায় আরও ৩ বছরের জন্য বিজেপির রাজ্য সভাপতি নির্বাচিত হয়ে পুরনো ফর্মে দিলীপ ঘোষ। বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দফায় পদে বসার কয়েক ঘণ্টা পর বক্তব্যে ফের ফুটে উঠল তাঁর আগ্রাসী মনোভাব ও রসিকতাবোধ। একই সঙ্গে বাম – কংগ্রেস – তৃণমূলকে একই বন্ধনীতে রেখে বিঁধলেন তিনি। বুঝিয়ে দেন, সমালোচনা যতই হোক ঝাঁঝ কমবে না তাঁর।

এদিন দিলীপবাবু বলেন, গতবার রাজ্য সভাপতি হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই আমাকে বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে বলা হয়। রাজ্য সভাপতি কী জিনিস বোঝার আগেই ভোটের ময়দানে নেমে পড়ি। মানুষ আমাকে বিধায়ক করেন। তার ৩ বছর পর আবার লোকসভা ভোটে লড়তে সাংসদ হই। এবার আবার সভাপতি পদে বসলাম।

ফের সভাপতির পদে বসে এদিন প্রথমে বিজেপির নিহত কর্মীদের স্মরণ করেন দিলীপ। বলেন, ৯৬ জন কর্মী আমাদের মধ্যে নেই। তারা সবাই অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের সদস্য। তাদের জন্য পার্টি তেমন কিছুই করতে পারেনি। কয়েক ডজন কর্মী চলচ্ছক্তিহীন হয়ে পড়ে রয়েছেন। প্রায় ২,০০০ কর্মী জেলবন্দি। ৩,০০০ কর্মী বাড়ি ছাড়া। তারা বাড়ি ছেড়েছেন কিন্তু দল ছাড়েননি। এটাই বিজেপির শক্তি।

এর পরই বাম – কংগ্রেস – তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান দিলীপবাবু। বলেন, আমার কথা নিয়ে খুব সমালোচনা হচ্ছে। আমি বলব মন শক্ত করুন, আরও কঠিন কথা ভবিষ্যতে শুনতে হবে।

দিলীপবাবু বলেন, ‘পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় আমি বলেছিলাম ‘লড়াই শ্মশানে শেষ হবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাই হয়েছিল। প্রচুর মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। আমাদের তরতাজা কর্মীকে খুন গাছে ঝুলিয়ে দিয়েছিল। আর এই সরকার এত নির্মম, যে পুলিশ সুপার গাছের নীচে দাঁড়িয়ে বলে দিলেন, এটা খুন। কোনও ময়নাতদন্ত হল না, দেহ ছুঁলেন পর্যন্ত না। এরাজ্যে কোনও গণতন্ত্র নেই। তার পর কি এরা আমার থেকে মিষ্টি মিষ্টি কথা আশা করেন?’

এদিন বামেদেরও চরম আক্রমণ শানান দিলীপবাবু। বলেন, ‘কতগুলো বাচ্চা বাচ্চা ছেলেমেয়েকে রাস্তায় নামিয়ে আন্দোলন হচ্ছে। ওদিকে সংসদে ওদের দিকে তাকালে দয়া হয়। কারও ১ জন কারও ২ জন সাংসদ। এরাজ্যে বামেদের ৩৬ জন সাংসদ ছিলেন। এখন একজনও নেই। ওদের নেতা হচ্ছেন কানহাইয়া কুমার আর ঐশী ঘোষ। যার নাক টিপলে এখনো শিকনি বেরোয়। তার ভাষণ শুনতে আবার নাকি যাবেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি সোমেন মিত্র।‘

দিলীপ ঘোষের দাবি, বিজেপির উত্থানে এরাজ্যের ছন্নছাড়া হয়ে গিয়েছে বিরোধীরা। কর্মীদের চাঙ্গা করতে দিলীপবাবু বলেন, ‘এখন আমাদের ওপর মানুষের আশা অনেক বেশি। আমাদের সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে। বিজেপি কর্মীদের মনের জোরেই সাফ হয়ে যাবে বিরোধীরা।’

বন্ধ করুন