বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > ‘আমরা জানি কত দূর যেতে হয়, তাই যুদ্ধ জিতেছি’‌, মমতাকে আক্রমণ শিশির অধিকারীর
শিশির অধিকারী। ফাইল ছবি
শিশির অধিকারী। ফাইল ছবি

‘আমরা জানি কত দূর যেতে হয়, তাই যুদ্ধ জিতেছি’‌, মমতাকে আক্রমণ শিশির অধিকারীর

  • নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকানোর পেছনে বাপ–ব্যাটার হাত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে হট–টপিক নন্দীগ্রাম। কারণ এখানে মুখোমুখি লড়াই করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী। তার উপর নন্দীগ্রামে পুলিশ ঢোকানোর পেছনে বাপ–ব্যাটার হাত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাতে আরও নজরকাড়া হয়ে উঠেছে নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্র। পাল্টা জবাব দিলেন শিশির অধিকারীও। সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁর অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী দল ছাড়ার পর মারার চক্রান্ত হয়েছিল। আর সেদিন সিপিআইএমের বাহিনীর মোকাবিলায় স্থানীয়দের যুদ্ধের জন্য তৈরি করেছিলেন বলেও দাবি করলেন শিশির অধিকারী।

রবিবার রেয়াপাড়ার সভায় তৃণমূল সুপ্রিমো দাবি করেছেন, ‘‌এই বাপ–ব্যাটার অনুমতি ছাড়া সেদিন পুলিশ নন্দীগ্রামে ঢুকতে পারত না।’‌ এই নিয়ে শিশির অধিকারীর পাল্টা প্রতিক্রিয়া, ‘ওঁর কথায় উত্তর দেওয়া কঠিন। পাগল–ছাগল ছাড়া গোটা ভারত জানে কার সঙ্গে সিপিআইএমের লড়াই হচ্ছিল! সরকার তৈরির পর লক্ষ্মণ শেঠকে নিয়ে গিয়েছিলেন বিধায়ক শিউলি সাহা। আজ বলছেন লক্ষ্মণ বাবা! সেই লক্ষ্মণ, কুলক্ষ্মণ কোথায় আছে জানি না! উনি তো ওকে নিতে চেয়েছিলেন। ওঁর হাতে লেখা দরখাস্ত কপি আছে। খালি আমাদের জন্যে নিতে পারেননি।’‌

নন্দীগ্রামে হিংসা চালালেও সিপিআইএম কেন কোনও মামলা করেনি ওদের বিরুদ্ধে?‌ এই প্রশ্ন তুলেছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার জবাবে সংবাদমাধ্যমে শিশিরবাবু বলেন, ‘‌আমার পরিবারের বিরুদ্ধে কটা কেস? দেড়শোর বেশি কেস আছে। উনি বলছেন একটাও কেস নেই।’‌ এরপরই তিনি আক্রমণাত্মক মেজাজে বলেন, ‘‌পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, দার্জিলিং থেকে গুন্ডা, বদমাইশদের নিয়ে আসা হয়েছিল। যুদ্ধ করার জন্য খেজুরি ও নন্দীগ্রামের কয়েকটা ছেলেকে তৈরি করেছিলাম। তাদেরকে ওরা গুলি করে মেরেছে। ট্রাকে লাশ নিয়ে গিয়েছে। পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়ার কান্না দেখলে মাথা খারাপ হয়ে যাবে। উত্তরবঙ্গের কালো কালো চেহারার লোক এসেছিল। আমরা যুদ্ধ জিতেছি। আমি যখন বন্দুকের যুদ্ধ করব বলেছিলাম। চারবার অনুমতি দেননি। পঞ্চমবারে সায় দিলেন।’‌

তাহলে কী বোঝাপড়া করে গুলি চালানো হয়েছিল? শিশিরবাবু জানান, বুদ্ধদেববাবুকে আমরা খেলিয়েছি। ওঁর প্রশাসনকে কীভাবে খেলাতে হয় আমরা বাপ–ছেলে জানতাম। আমরা জানি কত দূর যেতে হয়। তাই যুদ্ধ জিতেছি। সব জায়গায় হেরেছেন। আমাদের সঙ্গে মানুষ আছে। ১ তারিখে প্রমাণ দেব। আমরা ৬০ শতাংশ হলে দিদিমণি আড়াই শতাংশ। কত মানুষের কাঁধের উপরে দাঁড়িয়ে সিঁড়ি করে উনি জিতেছেন। আমি ঘাঁটাতে চাই না। উনি ঘাঁটাতে চাইলে কঠিনভাবে ঘাঁটাব। উল্লেখ্য, এই বিষয়ে বিবৃতি দিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ও বাম নেতা বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য। তিনি লিখেছেন, ‘‌গত এক দশকে পশ্চিমবঙ্গ সবদিক দিয়েই পিছিয়ে পড়েছে। নন্দীগ্রাম ও সিঙ্গুরে এখন শশ্মানের নীরবতা। সেসময়ের কুটিল চিত্রনাট্যের চক্রান্তকারীরা আজ দু’‌ভাগে বিভক্ত হয়ে পরস্পরের বিরুদ্ধে কাদা ছোঁড়াছুড়ি করছে।’‌

বন্ধ করুন