বাড়ি > বায়োস্কোপ > সুশান্তের শোকে আজ যারা কাতর, একদা তারাই তাঁকে গালাগালি দিয়েছে: রিচা চড্ডা
রিহার্সালে যাওয়ার জন্য সুশান্ত আমাকে তার বাইকে রাইড দিত, জানিয়েছেন কৃতজ্ঞ রিচা।
রিহার্সালে যাওয়ার জন্য সুশান্ত আমাকে তার বাইকে রাইড দিত, জানিয়েছেন কৃতজ্ঞ রিচা।

সুশান্তের শোকে আজ যারা কাতর, একদা তারাই তাঁকে গালাগালি দিয়েছে: রিচা চড্ডা

  • যাঁরা আজ দুঃখে কাতর, আগে তাঁরাই অধস্তনদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন।

আজ যাঁরা দুঃখপ্রকাশ করছেন, তাঁরাই এর আগে অধস্তনদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন। সুশান্ত সিং রাজপুতের আত্মহত্যার জেরে উঠে আসা বলিউডি পক্ষপাত নিয়ে কাটাছেঁড়ার মাঝে নিজের ব্লগে এমনই তোপ দাগলেন অভিনেত্রী রিচা চড্ডা।

গত ১৪ জুন বান্দ্রায় নিজের আবাসনে আত্মঘাতী হন সুশান্ত। তাঁর মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান ফিল্ম দুনিয়া এর পরেই মেতে উঠেছেন ছবির জগতে পক্ষপাতিত্ব প্রসঙ্গে। হিনন্দি ছবির প্রাক্তন অভিনেতা ও কলাকুশলীদের সন্তানদের বলিউডে বিশেষ সুযোগ দেওয়া হয় বলে ইতিমধ্যে অনেকেই মুখ খুলেছেন, আবার তাঁদের বিরোধিতা করে মত প্রকাশের লোকও কম নেই। 

রিচা তাঁর ব্লগে লিখেছেন, ‘বলা হচ্ছে যে, ইন্ডাস্ট্রিতে ঘরের লোক ও বহিরাগতদের মধ্যে বিভাজন রয়েছে। আমার মতে, হিন্দি ছবি ও তাকে ঘিরে গোটা পরিমণ্ডল দয়ালু ও নির্দয় মানুষে বিভক্ত।’

তিনি লিখেছেন, ‘বংশের প্রথম সদস্য হিসেবে যে স্বল্প সময় এখানে কাটিয়েছি, আমার হিসেবে তাতে মনে হয়েছে যে ইন্ডাস্ট্রি এক খাদ্যচক্রের মতো কাজ করে। যারা মনে করেন, যা কিছু করে পার পাওয়া যাবে, তারা বদমাইশ। যাঁরা আজ দুঃখে কাতর, আগে তাঁরাই অধস্তনদের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ করেছেন।’ 

বলিউডি পক্ষপাতিত্ব সম্পর্কে তিনি সোজাসুজি বলেছেন, ‘পক্ষপাতিত্ব শব্দটা শুনলেই হাসি পায়। আমি স্টারেদের সন্তানদের মোটেই ঘৃণা করি না। কেনই বা করব? কারও বাবা যদি স্টার হন, তাহলে সে পরিবারে জন্মানোর জন্য কি কারও নিজের বাবা-মা সম্পর্কে লজ্জিত হওয়া উচিত? আমরা কি আমনাদের বাবা-মা-কে নিয়ে লজ্জা পাই? এই তর্ক ঘৃণ্য ও নির্বোধ। আমি এই পেশায় স্বয়ংসিদ্ধা, তা বলে কি আমার সন্তানদের বলা হবে যে সংগ্রা্ম আমি করেছি, তার জন্য তাদের লজ্জিত হওয়া উচিত?’

সংগ্রাম প্রসঙ্গে প্রায় এক দশক আগে সুশান্ত সিং রাজপুতের সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্ব নিয়েও জানিয়েছেন রিচা। তাঁর কথায়, ‘আমরা একই নাটকের দলে ওয়ার্কশপ করেছি। সেই সময় আমি আন্ধেরিতে এক বন্ধুর সঙ্গে ৭০০ বর্গফুট ফ্ল্যাটে থাকি। রিহার্সালে যাওয়ার জন্য সুশান্ত আমাকে তার বাইকে রাইড দিত, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ। গরিব বা দেউলিয়া না হলেও টাকা এক বড় চিন্তার বিষয় ছিল স্বীকার করতে বাধা নেই। এক ত্ব পরিচর্যার ব্র্যান্ডের অ্যাড অডিশনে যাওয়ার সময় অটোরিকশায় বসে ভাবতাম, পৌঁছানোর আগে আমার মেকআপ না গলে যায়! এটা কোনও স্টার-সন্তানকে কখনও ভাবতে হয় না। তবে যদি কখনও এমন ঘটে, তবে অটোরিকশায় সফর করার জন্যই তাদের সাধারণ জীবনযাপনের প্রশংসায় সবাই পঞ্চমুখ হবে। আবার এই কারণে তাদের ওপর আমার কোনও রাগও নেই।’

রিচার দাবি, যাঁরা সুবিধা পেয়ে থাকেন, তাঁরা তা উপলব্ধি করতেই পারেন না। তাই এই নিয়ে তর্কাতর্কি অর্থহীন বলেই তাঁর মনে হয়। তাঁর মতে, ‘সুবিধা পাওয়ার এক্তিয়ারের মুখোমুখি না হয়ে তাই নিয়ে সাম্যের দাবিতে তর্কের অবকাশ নেই। কারও মৃত্যুর জন্য সুবিধাভোগীদের দায়ী করা অথবা অভিনেত্রীদের ধর্ষণ করার ডাক দিয়ে কোনও উদ্দেশ্য সাধন হবে না।’

সুশান্তের মৃত্যুর পরে তাঁর বন্ধুদের ঘৃণাপূর্ণ মেসেজ পাঠানো নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রিচা লিখেছেন. ‘শোক ও বিস্ময় প্রকাশে আমাদের দলগত মতপ্রকাশের বহর দেখে আমি হতাশ। কত নীচে লোকে নামতে পারে, তা এই সব মেসেজ দেখে বোঝা যায়।’

তিনি লিখেছেন, ‘প্রয়াত অভিনেতার কেয়েক জন ফ্যানের প্রোফাইল ঘেঁটে আমি অবাক হয়েছি। এখন যাঁরা শোকপ্রকাশ করছেন, পদ্মবত-এর সময় সুশান্তের অবস্থানের কারণে এরাই তাঁকে নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেছিল। এখন আবার তারাই সুশান্তের মৃত্যুর কারণ হিসেবে বন্ধুদের তাঁর পাশে না দাঁড়ানোর অভিযোগ তুলছে।’

এ ছাড়া বেশ কিছু ছবি নির্মাতা তাঁদের শয্যাসঙ্গী না হলে নবাগতা অভিনেত্রীদের কাজ দেন না বলেও অভিযোগ রিচার। তাঁর মতে, কারণ হিসেবে অনিচ্ছুক অভিনেত্রীদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার বলতেও কসুর করেন না সেই সমস্ত নির্মাতা।

 

বন্ধ করুন