বিজনোরে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়িয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। ২০ ডিসেম্বররের ঘটনা।
বিজনোরে নতুন নাগরিকত্ব আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ জড়িয়েছিলেন বিক্ষোভকারীরা। ২০ ডিসেম্বররের ঘটনা।

বিজনোরে গুলিতে যুবকের মৃত্যুতে ৬ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর

বছর কুড়ির মহম্মদ সুলেমানের হত্যায় জড়িত থাকার জন্য অভিযোগ দায়ের হয়েছে নাহতওর থানার স্টেশন হাউস অফিসার রাজেশ সিং সোলাঙ্কি, সাব ইন্সপেক্টর আশিস তোমার এবং কনস্টেবল মোহিত কুমার এবং তিন অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে।

বিজনোরে পুলিশের গুলিতে সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন প্রতিবাদীর মৃত্যুর কয়েক দিন পরে এসএইচও-সহ ৬ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করলেন নিহতের ভাই।

বছর কুড়ির মহম্মদ সুলেমানের হত্যায় জড়িত থাকার জন্য অভিযোগ দায়ের হয়েছে নাহতওর থানার স্টেশন হাউস অফিসার রাজেশ সিং সোলাঙ্কি, সাব ইন্সপেক্টর আশিস তোমার এবং কনস্টেবল মোহিত কুমার এবং তিন অজ্ঞাতপরিচয় পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে।

গত ২০ ডিসেম্বর সিএএ বিরোধী প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণকারী সুলেমান পুলিশের গুলিতে মারা যান বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বিক্ষুব্ধরা পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে আত্মরক্ষার্থে পালটা গুলি চালায় পুলিশও। অভিযোগ, বিক্ষোভকারীরা আশিস তোমারের রাইফেল ছিনিয়ে নেয় এবং মোহিত কুমারকে আক্রমণ করে। বুলেট বিঁধে আহত হন মোহিতও।

সুলেমানের ভাই শোয়েব মালিক জানিয়েছেন, ‘পুলিশ স্বীকার করেছে যে তাদের গুলি লেগেই আমার ভাই মারা গিয়েছে। কিন্তু সে এই সবে সরাসরি যুক্ত ছিল না। মসজিদ থেকে প্রার্থনা সেরে ফেরার পথে তাকে পুলিশ তুলে নেয় এবং ওই রাস্তার উপরেই গুলি করে।’

মালিকের দাবি, ঘটনার পরেও নিহতের পরিবারকে পুলিশ হেনস্থা করে। তিনি বলেন, ‘আগে পুলিশ বলেছিল যে, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া গুলি লেগেই সুলেমান মারা গিয়েছে। এখন তারা স্বীকার করছে যে, পুলিশের ছোড়া গুলি বিঁধেই ভাইয়ের মৃত্যু হয়। মনে হচ্ছে বিষয়টি বেশ রহস্যময়। আমরা সুবিচার চাই।’

এ ছা়ড়াও শোয়েবের অভিযোগ, ‘পরিবারের সদস্যদের তাঁদের ইচ্ছা অনুয়ায়ী সুলেমানের শেষকৃত্য়ে অংশগ্রহণ করতে দেওয়া হয়নি। আমরা তার দেহ গ্রাম থেকে ২০ কিমি দূরে বয়ে নিয়ে গিয়ে তার মামাবাড়ির কাছে সমাধিস্থ করি।’

ঘটনার পরে আহত সোলাঙ্কিকে জেলা অপরাধ রেকর্ড ব্যুরোতে বদলি করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজনোরের অতিরিক্ত এসপি (গ্রামীণ) বিশ্বজিত্ শ্রীবাস্তব।

বিজনোরের পুলিশ সুপার সঞ্জীব ত্যাগি জানিয়েছেন, ‘নিহতের পরিবার যদি এফআইআর দায়ের করে থাকে, আমরা তার তদন্ত করব। বিক্ষোভকারীদের হামলার জেরে আত্মরক্ষার জন্য আমরা গুলি চালালে সুলেমানের মৃত্যু হয়। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের ছোড়া গুলি লেগে মারা যা আনাস নামে আর একজন।’

জানা গিয়েছে, ওই ৬ পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (হত্যা), ১৪৭ (দাঙ্গা), ১৪৮ (বিপজ্জনক অস্ত্র-সহ দাঙ্গা) ও ১৪৯ (অবৈধ জমায়েতে অংশগ্রহণকারী প্রত্যেক সদস্যের বিরুদ্ধে একটি নির্দিষ্ট কারণে মিলিত অপরাধ সংগঠন করা) ধারায় অবিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বন্ধ করুন