বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে ইচ্ছানুযায়ী জীবনে বাধা দিতে পারেন না বাবা-মা, রায় আদালতের
প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত যুগলের লিভ-ইন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট।
প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত যুগলের লিভ-ইন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট।

প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানকে ইচ্ছানুযায়ী জীবনে বাধা দিতে পারেন না বাবা-মা, রায় আদালতের

  • বিবাহযোগ্য বয়সে না পৌঁছালেও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের সঙ্গে প্রাপ্তবয়স্কা নারীর একত্রে বসবাসে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারে না, জানাল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট।

বিবাহযোগ্য বয়সে না পৌঁছলেও প্রাপ্তবয়স্ক অবিবাহিত যুগলের লিভ-ইন সম্পর্ককে স্বীকৃতি দিল পঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্ট। আদালতের মতে, দুই প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের শর্তে জীবনযাপন করতে পারেন।

পঞ্জাবের এক যুগলের পুলিশি নিরাপত্তার আবেদনের শুনানিতে মঙ্গলবার হাই কোর্ট জানায়, বিবাহযোগ্য বয়সে না পৌঁছালেও আবেদনকারী পুরুষের সঙ্গে অন্য আবেদনকারী নারীর একত্রে বসবাসে কেউ বাধা সৃষ্টি করতে পারে না, কারণ তাঁরা দু'জনেই ১৮ বছরের চেয়ে বেশি বয়েসি।

আদালতের শুনানিতে জানানো হয়, আবেদনকারী পুরুষের জন্ম তারিখ ৮.১০.২০০০. এবং আবেদনকারী নারীর জন্ম তারিখ ২৯.০৬.২০০১.। 

বিচারপতি অলকা সারিন তাঁর নির্দেশে বলেন, ‘বর্তমান মামলায় প্রথম আবেদনকারী (নারী) ১৮ বছরের বেশি বয়েসি, তাই প্রাপ্তবয়স্ক। তাঁর জন্য কী ভালো বা খারাপ, সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাঁর আছে। তিনি দ্বিতীয় আবেদনকারীর (পুরুষ), যিনিও প্রাপ্তবয়স্ক, তাঁর সঙ্গে লিভ-ইন সম্পর্কে যুক্ত থাকতে চান। দুই আবেদনকারীই প্রাপ্তবয়স্ক এবং নিজেদের জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার দুজনেরই রয়েছে।’

সেই সঙ্গে আদালত জানায়, ‘প্রথম আবেদনকারীর আত্মীয়রা প্রাপ্তবয়স্ক ছেলে কী ভাবে ও কার সঙ্গে থাকবেন, তা বলে দিতে পারেন না। নিজেদের ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তানের জীবনযাপন নির্ধারণ করতে পারেন না অভিভাবকরা। প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্কের অধিকার রয়েছে নিজের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জীবনযাপনের।’

এর আগে পুলিশি নিরাপত্তা চেয়ে তাঁদের আবেদনে ওই যুগল আদালতকে জানিয়েছিলেন, তরুণীর পরিবার তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেয়নি এবং তার জন্য তাঁদের ভয়ানক ফল ভোগ করতে হবে বলে শাসানো হচ্ছে।

যুগলের অভিযোগ, সম্পর্কের কথা জানতে পেরে তরুণীকে মারধর করে তাঁর পরিবার। তাঁকে ঘরে বন্ধ করে রেখে অন্যত্র বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হয় ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া হয়। পাশাপাশি, তরুণের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখলে তাঁকে খুন করা হবে বলেও শাসানো হয়। 

তরুণীর আইনজীবী আদালতে জানান, তাঁর মক্কেল গত ২০ ডিসেম্বর বাড়ি ছেড়ে তরুণের সঙ্গে বসবাস করতে যান। বিবাহযোগ্য বয়স না হওয়ায় ওই যুগল লিভ-ইন সম্পর্কে রয়েছেন বলেও জানান আইনজীবী। 

বিচারপতি সারিন জানান, সন্তানকে তাঁদের ইচ্ছা অনুযায়ী জীবনযাপনে বাধ্য করতে পারেন না অভিভাবকরা। সেই সঙ্গে তিনি ফতেহগড় সাহিব এলাকার এসএসপি-কে উল্লিখিত যুগলকে  নিরাপত্তা দিতে নির্দেশ দেন।

বন্ধ করুন