বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > Snake Farming: সাপ চাষ-ই এই গ্রামের প্রধান পেশা! জানুন কোথায় ও কেন
ফাইল ছবি: রয়টার্স (Reuters)

Snake Farming: সাপ চাষ-ই এই গ্রামের প্রধান পেশা! জানুন কোথায় ও কেন

বাড়ি বাড়ি বড় বড় কাঠের বাক্স। আর তার মধ্যে রীতিমতো কিলবিল করছে সাপ। অনেকে আবার গভীর চৌবাচ্চা করেও তাতে সাপ ছেড়ে রেখে দেন।প্রতিটিই ভয়ানক বিষধর প্রজাতির।

আপনাদের গ্রামে কী চাষ বেশি হয়? এই প্রশ্নের উত্তরে বেশিরভাগ ব্যক্তিই বলবেন ধান, গম, সর্ষে, সবজি, মাছের মতো কিছু। কিন্তু যদি কেউ বলেন, যে তাঁদের গোটা গ্রামে সাপ চাষ হয়? ভাবছেন এমন আবার হয় নাকি! হ্যাঁ, বাস্তব কল্পনার চেয়েও বেশি অবিশ্বাস্য। সেটারই প্রমাণ চিনের জিসিকিয়াও নামের একটি গ্রাম। সাপ চাষ করার জন্য বিশ্বজুড়ে বিখ্যাত এই গ্রাম।

গ্রামে গেলেই সেটা বেশ বোঝা যায়। বাড়ি বাড়ি বড় বড় কাঠের বাক্স। আর তার মধ্যে রীতিমতো কিলবিল করছে সাপ। অনেকে আবার গভীর চৌবাচ্চা করেও তাতে সাপ ছেড়ে রেখে দেন।

সাপগুলির যে বিষ নয়, এমনটাও নয়। প্রতিটিই ভয়ানক বিষধর প্রজাতির। আরও পড়ুন: সাপে কামড়ানো বধূকে নিয়ে যাওয়া হল ওঝার কাছে, কয়েক ঘণ্টায় মৃত্যু

এমন আজব 'কৃষি'র কারণ কী?

আসলে, চিনের কিছু অংশে সাপের মাংসের বেশ চাহিদা রয়েছে। সেগুলি চিলি চিকেনের মতো সয়া সস, পেঁয়াজ পাতা দিয়ে রান্না করা হয়। কখনও বা স্যুপের মতো করে বানানো হয়। খেতে অনেকটা যেন মাছ ও চিকেনের মাঝামাঝি। তবে একটু শক্ত।

অন্যদিকে, সাপের পিত্তি, শরীরের বিভিন্ন অংশও খান অনেকে। সাপের দেহ মদের বোতলের মধ্যে পুরে রেখে দেওয়া হয়। সেটা পান করেন কেউ কেউ। মনে করা হয়, এটি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করে। শরীর সতেজ রাখে ও দীর্ঘায়ু হতে সাহায্য করে। তবে আধুনিক প্রজন্মের মধ্যে এ বিষয়ে সেভাবে আগ্রহ নেই।

সাপের বিষ ও শরীরের বিভিন্ন অংশ ওষুধ তৈরির কাজেও ব্যবহার করা হয়। আরও পড়ুন: সাপে কামড়ে ছিল শিশুকে, চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে ওঝার কাছে পরিবার, মৃত্যু শিশুর

মদের মধ্যে রাখা সাপ। ছবি: রয়টার্স
মদের মধ্যে রাখা সাপ। ছবি: রয়টার্স (Reuters)

শুধু চিনের মধ্যেই নয়। চিনের বাইরেও সাপের চাহিদা আছে। জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় রফতানি করা হয়। সাপ পাঠানো হয় জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও।

কিন্তু গোটা গ্রাম কীভাবে এই ব্যবসায় নেমে পড়ল?

স্থানীয়দের কথায়, ইয়াং হোঙচাঙ নামের এক কৃষকই প্রথম সাপ পালন করা শুরু করেন। আজ থেকে বেশ কয়েক দশক আগের কথা। এই সাপের ব্যবসা করেই বেশ জাঁকিয়ে বসেন তিনি। তাঁর দেখাদেখি অন্যান্য গ্রামবাসীরাও তখন কৃষিকাজ বা অন্য পেশা ছেড়ে দেন। সবাই মিলে সাপের ব্যবসাতেই নেমে পড়েন।

সাপচাষীরা জানাচ্ছেন, এক সময়ে জিসিকিয়াও গ্রামটার নামই কেউ জানত না। জানবেই বা কী করে! ছোট কৃষকদের নিয়ে সামান্য একটা গ্রাম। অনুন্নত এলাকা। সাধারণত আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়া পরিবারের বাস। কিন্তু সাপের ব্যবসা করেই তাঁদের সবার কপাল ফিরে গিয়েছে। আগের তুলনায় গোটা গ্রামটাই যেন অনেক বেশি উন্নত হয়ে গিয়েছে। অনেকে এই সাপের কারবার থেকেই বছরে ১০ লক্ষ টাকার(ভারতীয় মুদ্রায়) কাছাকাছি আয় করেন।

 

বন্ধ করুন