বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবল > EURO 2020: একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-সি'র খুঁটিনাটি
ইউয়েফা ইউরো ট্রফি। ছবি- গেটি ইমেজেস।
ইউয়েফা ইউরো ট্রফি। ছবি- গেটি ইমেজেস।

EURO 2020: একনজরে দেখে নেওয়া যাক গ্রুপ-সি'র খুঁটিনাটি

  • এই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেরা দাবিদার 'অরেঞ্জ আর্মি' অর্থাৎ নেদারল্যান্ডস।

শুভব্রত মুখার্জি

ইউরো কাপ ২০২০ গ্রুপ-সি'র দিকে একঝলক তাকিয়ে আমরা একথা সহজেই বলতে পারি এই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সেরা দাবিদার 'অরেঞ্জ আর্মি' অর্থাৎ নেদারল্যান্ডস। ২০১০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে হেরে রানার্স হতে হয়েছিল ডাচদের। তারপর থেকে তাঁদের দেশের ফুটবল কিছুটা সময় একটা পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে গেছে।

আর কয়েকদিন পরেই শুরু হবে ইউরোপের শ্রেষ্ঠ আন্তর্জাতিক ফুটবল টুর্নামেন্ট ইউরো কাপ। এবারেই প্রথমবার ১১টি দেশের ১১টি স্টেডিয়ামে হবে খেলা। যা ইউরোর ইতিহাসে নজিরবিহীন। ইউরো কাপ ২০২০ সালের গ্রুপ ‘সি’ অপেক্ষাকৃত সহজ গ্রুপ। একনজরে দেখে নিন গ্রুপ ‘সি’-তে রয়েছে যে চারটি দল-

১) নেদারল্যান্ডস

২) অস্ট্রিয়া

৩) ইউক্রেন

৪) নর্থ ম্যাসেডোনিয়া

দেখে নেওয়া যাক এই গ্রুপের বিভিন্ন দেশের দলগুলিকে।

∆ নেদারল্যান্ডস:-

নেদারল্যান্ডস মানেই ‘টোটাল ফুটবল’-এর কথা মনে পড়ে যায় দর্শকদের।ডেনিস বার্গক্যাম্প, ফ্রাঙ্ক ডি'বোর, এডগার ডাভিডসদের নাম ভেসে আসে। যাদের হাত ধরে ৯০'এর দশক এবং ২০০০'এর গোড়ার দিকে বিশ্ব ফুটবলকে শাসন করেছে হল্যান্ড। মাঝখানে ২০১০ সালের পরে দলকে আবার ঢেলে সাজানোর পরে এবার ধীরে ধীরে তাদের পুরনো ফর্মে ফিরেছেন ডাচরা। 

এই ইউরোতে তাঁদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই ফুটবলার মেমফিস ডিপাই ও ফ্রাঙ্কি ডি'জং। ইউরোতে ১৯৮৮ সালে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই নেদারল্যান্ডস দলের সবথেকে ভাল পারফরম্যান্স। ইয়োহান ক্রুয়েফের দেশ চারবার তৃতীয় স্থানও অধিকার করেছে। ইউরোর ইতিহাসে তাঁরা অন্যতম শক্তিধর দেশ বললেও অত্যুক্তি হবে না। 

এই পর্যন্ত তারা ৩৫টি ম্যাচ খেলে জয় পেয়েছেন ১৭টিতে, ১০টিতে হারের মুখ দেখতে হয়েছে, ড্র হয়েছে বাকি আটটি ম্যাচ। ইউরো ২০২০ সালে ডাচদের ভাল পারফরমেন্স নির্ভর করছে তাদের ফরোয়ার্ড মেমফিস ডিপাইয়ের ফর্মের উপর। প্রাক্তন ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেডের এই ফুটবলার বর্তমানে লিঁয়-তে খেলেন। ডিপাই জাতীয় দলের হয়ে ৬৪ ম্যাচে ২৬টি গোল করেছেন। ২৪ বছরের ফ্র্যাঙ্কি ডি'জং নেদারল্যান্ডসের মাঝমাঠের বড় ভরসা। বার্সেলোনার এই ফুটবলার জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই ২৭টি ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।

∆ অস্ট্রিয়া:-

আসন্ন ইউরোতে অস্ট্রিয়ার অন্যতম দুই ভরসা ডাভিড আলাবা এবং মার্সেল শ্যাবিটজার। ইউরোতে এখন পর্যন্ত বলার মতন তেমন পারফরম্যান্স নেই অস্ট্রিয়ার। ইউরোর ইতিহাসে মাত্র তিনবার তারা মূলপর্বে খেলেছে। ২০০৮ ও ২০১৬ সালে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল তাঁদের। ইউরোতে অস্ট্রিয়ার পারফরম্যান্স বলতে ছয় ম্যাচ খেলে চারটিতেই হার আর মাত্র দু'টিতে ড্র। এখন পর্যন্ত জয়ের মুখ দেখতে ব্যর্থ তাঁরা। 

অস্ট্রিয়ার অ্যাটাকিং মিডিও মার্সেল শ্যাবিটজার দলের অন্যতম তারকা। তিনি বর্তমানে বুন্দেশলিগার দল আরবি লাইপজিংয়ের হয়ে খেলেন। জাতীয় দলের হয়ে ইতিমধ্যেই ৫০টি ম্যাচ খেলে ৮টি গোল করে ফেলেছেন। তাঁর পাশাপাশি নিঃসন্দেহে দলের প্রধান ভরসা সদ্য় রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দেওয়া আলাবা। 

∆ ইউক্রেন:-

অবিভক্ত সোভিয়েত ইউনিয়নের অংশ ছিল ইউক্রেন। ১৯৬০ সালে অবিভক্ত অবস্থায় ইউরো জয় ছিল তাঁদের ইউরোর সেরা পারফরম্যান্স। স্বাধীন দেশ হিসেবে দু'বার ইউরোর মূলপর্বে যোগ্যতা অর্জন করলেও দু'বারই গ্রুপ পর্যায় থেকে বিদায় নিতে হয়েছে তাঁদের।ইউরোতে ইউক্রেনের পারফরম্যান্স ও আহামরি নয়। এখন পর্যন্ত ৬টি ম্যাচ খেলে মাত্র একটি ম্যাচে জয় ও পাঁচটিতে হারের সম্মুখীন হয়েছে তাঁরা। কোন ম্যাচ ড্র হয়নি।

লেফট ব্যাক, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার সহ যে কোন পজিশনে খেলতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা আলেকজান্দ্রো জিনচেঙ্কো ইউক্রেনের অন্যতম ভরসা। ইপিএল চ্যাম্পিয়ান ম্যান সিটির হয়ে খেলা এই ফুটবলার ৩৯টি ম্যাচ খেলেছেন জাতীয় দলের হয়ে।

∆ নর্থ ম্যাসেডোনিয়া:-

স্বাধীন দেশ হিসেবে ফিনল্যান্ডের মতন এই ইউরোতেই তাঁদের অভিষেক ঘটতে চলেছে। ছোট্ট এই ইউরোপীয় দেশটির ইউরো কাপে স্বাধীন দেশ হিসেবে তেমন সাফল্য না থাকলেও যুগোস্লাভিয়ার অংশ হিসেবে পাঁচবার ইউরোর মূলপর্বে খেলেছেন তাঁরা। তবে প্রথমবার এই ইউরোতেই স্বাধীন দেশ হিসেবে মূলপর্বে অংশগ্রহণ করবেন গোরান পান্ডেভরা।

নাপোলির মিডফিল্ডার এইলিফ এইলমাস নর্থ ম্যাসেডোনিয়ার হয়ে ২৭ ম্যাচে সাতটি গোল করেছেন। রাইটব্যাক স্টেফান রিস্টভস্কি। ডায়নামো জাগ্রেবের হয়ে খেলেন। জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ৬৪টি ম্যাচ। এই দুই ফুটবলার এই ইউরোতে তাঁদের দেশের হয়ে বিপক্ষের অনেক হিসেব নিকেশ বদলে দিতে পারেন।

বন্ধ করুন