বাংলা নিউজ > ময়দান > টোকিও অলিম্পিক্স > রিল নয়, এ বার রিয়েলে ‘চক দে ইন্ডিয়া’, সিনেমার গল্পের মতোই যেন রানিদের লড়াইটাও
ভারতের মহিলা হকি দল।

রিল নয়, এ বার রিয়েলে ‘চক দে ইন্ডিয়া’, সিনেমার গল্পের মতোই যেন রানিদের লড়াইটাও

  • অস্ট্রেলিয়া মহিলা হকি দল যেখানে তিন বার অলিম্পিক্সে সোনা পেয়েছে। এবং দু'বার হকি বিশ্বকাপ জিতেছে। সেখানে ২০১৬ রিও অলিম্পিক্সে ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্স ছিল জঘন্য। সে বার ‘লাস্টগার্ল’ ছিল তারা। আর সেখান থেকেই এই রূপকথার উত্থান।

‘চক দে ইন্ডিয়া’ সিনেমাকেই এ বার আবার বাস্তবে রূপ দিচ্ছেন ভারতের এক দল লড়াকু কন্যা। অলিম্পিক্সের মঞ্চে শুরুটা খারাপ করলেও, ধীরে ধীরে তাঁরা ছন্দে ফিরেছেন। সকলকে অবাক করে দিয়েই কঠিন প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সেমিফাইনালে পৌঁছে গিয়েছেন রানি রামপালরা। গ্রুপ লিগের প্রথম তিনটে ম্যাচ হেরে দেওয়ালে পিঠ ঠেকে গিয়েছিল যাঁদের, তাঁরাই পৌঁছে গিয়েছেন সেমিফাইনালে। মনে করিয়ে দিয়েছেন, কবীর খানের মেয়েদের লড়াইয়ের কথা। সেই লড়াইটা অবশ্য রুপোলী পর্দার ছিল। আর রানি রামপালদের লড়াইটা একেবারে বাস্তব।

এর আগে অবশ্য মীর রঞ্জন নেগির প্রশিক্ষণে ২০০২ সালে কমনওয়েলথ গেমসে সোনা জিতেছিল ভারতীয় মহিলা হকি দল। কিন্তু প্লেয়ার নেগির জীবনের লড়াইটা একেবারে সহজ ছিল না। কুৎসা, নিন্দা এবং গ্লানিতে ভরা ছিল। পাকিস্তানের সঙ্গে ম্যাচে গোল খাওয়ার জন্য কিপার নেগিকে রীতিমতো সামাজিক লাঞ্ছনা সহ্য করতে হয়েছিল। সেই জায়গা থেকেই বেরিয়ে ভারতীয় মহিলা দলকে সোনা জিতিয়েছিলেন কোচ নেগি। তাঁর জীবনের শাপমোচনের গল্প নিয়েই  ‘চক দে ইন্ডিয়া’ সিনেমাটি তৈরি হয়েছিল। কিন্তু টোকিও অলিম্পিক্সে আরও একবার রিয়েল হয়ে উঠছে ‘চক দে ইন্ডিয়া’র মহিলা হকি প্লেয়ারদে লড়াইয়ের গল্পটা।

সোমবার অস্ট্রেলিয়াকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারে উঠেছেন রানি রামপাল-বন্দনা কাটারিয়ারা। ম্যাচের দ্বিতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি কর্নার থেকে ভারতের হয়ে একমাত্র গোলটি করেছেন গুরজিৎ কৌর। এই প্রথম মহিলা হকিতে অলিম্পিক্সের সেমিফাইনালে উঠল ভারত। সেমিফাইনালে আর্জেন্তিনার বিরুদ্ধে খেলবে ভারতীয় মহিলা দল।

ভারতের পুরষ দলের মতোই মহিলা হকি দলও পদক জয় থেকে এখন আর একটা ম্যাচ দূরে। প্রসঙ্গত, এই অস্ট্রেলিয়ার কাছে চলতি টোকিও গেমসেই শ্রীজেশরা ১-৭-এ হেরে মাথা নীচু করে মাঠ ছেড়েছিলেন। সেই শোধটাও এ দিন তুলে নিলেন রানি রামপালরা।

অস্ট্রেলিয়া মহিলা হকি দল যেখানে তিন বার অলিম্পিক্সে সোনা পেয়েছে। এবং দু'বার হকি বিশ্বকাপ জিতেছে। সেখানে ২০১৬ রিও অলিম্পিক্সে ভারতীয় মহিলা দলের পারফরম্যান্স ছিল জঘন্য। সে বার ‘লাস্টগার্ল’ ছিল তারা। আর সেখান থেকেই এই রূপকথার উত্থান। 

এ বার অলিম্পিক্সে গ্রুপ লিগের প্রথম তিনটি ম্যাচে ১১টা গোল হজম করেছে ভারতের মেয়েরা। প্রথম তিনটি ম্যাচ হেরে গ্রুপ লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। সেখান থেকে সম্ভবত কোনও এক অদৃশ্য কবীর খানের জাদুকাঠির ছোঁয়ায় বদলে গিয়েছে ভারতীয় মহিলা হকি দল। গ্রুপ লিগের শেষ দু'টি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড এবং দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে চতুর্থ স্থানে থেকে কোয়ার্টার ফাইনলে ওঠে ভারত। তাও আবার গ্রুপ লিগের শেষ ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দেয় গ্রেট ব্রিটেন। তার জন্যই কিন্তু কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার সুযোগ পায় তারা। 

এর পরেই তারা ঘটায় অঘটন। শেষ আটের লড়াইয়ে অন্য গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন দল শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সকলকে চমকে দেন রানি রামপালরা। রিও গেমসের লাস্টগার্ল থেকে এ বার টোকিও-তে শেষ চারে ভারতের মহিলা দল। স্বাভাবিক ভাবেই উচ্ছ্বাসে ভাসছে গোটা দেশ। যে দলকে নিয়ে কোনও প্রত্যাশা ছিল না, তারাই এ বার পদক জয়ের স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

বন্ধ করুন