বাংলা নিউজ > ময়দান > বেজিং অলিম্পিক্স থেকে কেন সরে দাঁড়িয়েছিলেন? নিজেই জানালেন সানিয়া, দেখুন ভিডিয়ো

বেজিং অলিম্পিক্স থেকে কেন সরে দাঁড়িয়েছিলেন? নিজেই জানালেন সানিয়া, দেখুন ভিডিয়ো

সানিয়া মির্জা।

মহিলাদের সিঙ্গলসের প্রথম রাউন্ডে সানিয়ার প্রতিপক্ষ ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের ইভেটা বেনেসোভা। সেই ম্যাচে ২-৬ ব্যবধানে প্রথম সেটে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন সানিয়া। সেই সময়ে তিনি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান। যার ফলে অলিম্পিক্স থেকেও সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন সানিয়া।

 হঠাৎ করেই ২০০৮ সালের বেজিং অলিম্পিক্স থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন সানিয়া মির্জা। সেই সময়ে এই ঘটনা নিয়ে তীব্র বিতর্ক হয়েছিল। হঠাৎ করে কেন তিনি সরে দাঁড়ালেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কোনও দিন মুখ খোলেননি সানিয়া। ১৩ বছর বাদে অবশেষে সেই বিতর্কিত ঘটনাটি নিয়ে মুখ খুললেন হায়দরাবাদী সুন্দরী।

একটি ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময়ে সানিয়ে বলেছেন, ‘আসলে সবার মতোই আমিও নিজের সেরাটা দেওয়ার মানসিকতা নিয়েই বেজিং অলিম্পিক্স শুরু করেছিলাম। কিন্তু ডান হাতের কব্জির তীব্র যন্ত্রণা আমার সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। তখন আমার সবে ২০ বছর বয়স।’ এর সঙ্গেই তিনি যোগ করেছেন, ‘এই চোটের আগে পর্যন্ত সব কিছু ঠিকঠাক চলছিল। কিন্তু এই চোট আমাকে মানসিক ভাবে একেবারে বিধ্বস্ত করে দেয়। তখন শুধু কাঁদতাম। প্রায় এক মাস ধরে খাওয়া দাওয়া ছেড়ে দিয়েছিলাম। তিন-চার মাস ধরে নিজেকে ঘরবন্দি করে রেখেছিলাম। চূড়ান্ত মানসিক অবসাদে ভুগছিলাম।’

সানিয়া আরও বলছিলেন, ‘২০ বছর বয়সে সেই চাপ নেওয়াটা খুবই কঠিন বিষয় ছিল। তখন প্রতিদিন পড়ছিলাম, আমি শেষ হয়ে যাচ্ছি। আমি আর কখনও ফিরতে পারব না। কখনও অলিম্পিক্সে অংশ নিতে পারব না। সেটা ছিল ভয়ানক বিষয়। তখন আমার হাতের কব্জিতে এতটাই ব্যথা ছিল, আমি চুলও আঁচড়াতে পারতাম না। আমি তখন ভাবতাম, আমি আমার পরিবারের সম্মান রাখতে পারিনি, নিজের সম্মান রাখতে পারিনি, আমার দেশের সম্মান রাখতে পারিনি। কারণ আমি অলিম্পিক্স থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছি।’

সে বার মহিলাদের সিঙ্গলসের প্রথম রাউন্ডে সানিয়ার প্রতিপক্ষ ছিলেন চেক প্রজাতন্ত্রের ইভেটা বেনেসোভা। সেই ম্যাচে ২-৬ ব্যবধানে প্রথম সেটে হেরে যাওয়ার পর দ্বিতীয় সেটেও ১-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েন সানিয়া। সেই সময়ে তিনি ম্যাচ থেকে সরে দাঁড়ান। আসলে ওই সময়ে তাঁর ডান হাতের কব্জির ব্যথা বাড়তে শুরু করে। ফলে ম্যাচ থেকে নাম তুলে নেওয়ায় অলিম্পিক্স থেকেও সরে দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছিলেন সানিয়া।

১৩ বছর আগের সেই ঘটনা এখনও তাঁকে যন্ত্রণা দেয়। তবে সেই ঘটনা থেকে তিনি শিক্ষা নিয়েছেন। সানিয়া বলছিলেন, ‘আসলে মানুষের জীবনে এমন অনেক ঘটনা ঘটে, যার উপর কারও কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এখন বয়স হয়েছে, সে কারণেই বুঝি, তখন অবসাদে চলে গিয়ে নিজের ক্ষতি না করলেও চলত। হয়তো অল্প বয়সে পরিচিতি পেয়ে যাওয়ায় আমাকে নিয়ে সকলের প্রত্যাশা বেশি ছিল। আর সেটা পূরণ করতে না পারার যন্ত্রণা থেকেই হয়তো বাড়াবাড়ি করে ফেলেছিলাম।’

বন্ধ করুন