বাংলা নিউজ > ময়দান > পাওনা টাকা চাইতে গেলে এক দোকানদারকেও মারধর করেছিলেন সুশীল, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
সুশীল কুমার।
সুশীল কুমার।

পাওনা টাকা চাইতে গেলে এক দোকানদারকেও মারধর করেছিলেন সুশীল, ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

  • সতীশ গোয়েলকে মারধর করার পর, সুশীল কুমারের বিরুদ্ধে থানায় এফআইআর করা হয়েছিল। কিন্তু পুলিশ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি বলে দাবি করেন সতীশ।

শুধু সাগর রানা ধনকড়দেরই নন, এর আগে অন্যদেরও মারধর করেছেন সুশীল কুমার। পুলিশি তদন্তে এমনই তথ্য উঠে এসেছে। সতীশ গোয়েল নামে এক দোকানদার তাঁর পাওনা টাকা চাইতে গেলে, সুশীল নাকি তাঁকেও মারধর করেছিলেন।

সেই দোকানদারের দাবি অনুযায়ী, ছত্রসাল স্টেডিয়ামের রেশন তাঁর দোকান থেকে বাকিতে দেওয়া হত। একেবারে সেই ধারের টাকা শোধ করে দেওয়া হত। সুশীলের শ্বশুড় সৎপাল সিং কোচ থাকার সময় থেকেই এই নিয়ম চালু হয়েছিল।

২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতি তৈরি হলে, সে সময় ছত্রসাল স্টেডিয়ামের আর এক কোচ, নাম বীরেন্দ্র, ধারে রেশন নিতেন সতীশ গোয়েলের দোকান থেকে। কিন্তু কোনও টাকাই তিনি দেননি। সেই টাকার অঙ্ক বেড়ে ৪ লাখে পৌঁছে গিয়েছিল। বীরেন্দ্র অন্যত্র বদলি হয়ে চলে গেলে, সুশীলের থেকে সেই টাকা চেয়েছিলেন সতীশ।

সতীশ গোয়েল দাবি করেছেন, অশোক নামে এক ব্যক্তি একদিন এসে, বীরেন্দ্র যে ৪ লাখ টাকার রেশন নিয়েছিলেন, সেই বিলগুলো নিয়ে যান। সঙ্গে জানান, সুশীল তাঁকে ডেকে পাঠিয়েছেন। সেই দোকানদার গিয়ে সুশীলের কাছে পাওনা টাকা চান। কিন্তু সেই ধার শোধ করার বদলে দোকানদারকেই সুশীল তাঁর আখড়ার ছেলেদের নিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ।

সতীশ নাকি সুশীলকে বলেওছিলেন, এই টাকাটা না পেলে তিনি মরে যাবেন। সেটা শুনে সুশীল বলেছিল, ‘মরে যাবে, তা হলে মরে যাও।’ এর পর সুশীলের বিরুদ্ধে তিনি এফআইআর করলেও, সে সময় নাকি সুশীলের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থাই নেয়নি পুলিশ। উল্টে সতীশই ভয়ে কিছুদিন বাড়িতে আত্মগোপন করেছিলেন।

সতীশের দাবি, ‘এখন পুলিশ আমাকে ডেকে পাঠিয়েছে। তারা এখন বলছে, সুশীল কুমারের বিরুদ্ধে তারা ব্যবস্থা নিয়েছে। সুশীলের ডানহাত অজয়, লকডাউনের সময়ে বিতরণের জন্য ২৫ হাজার টাকার রেশন নিয়েছিল, সেই টাকাও দেয়নি। স্টেডিয়ামের অনেক ছেলেই আমাকে বলেছিল, কোচেরা নাকি আমার পাওনা শোধ করার জন্য, তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন। স্টেডিয়ামের ভিতর একটা বড়, অসাধারণ গাড়ি বেশির ভাগ সময়ে দাঁড়িয়ে থাকত। আমি ভাবতাম, এর জন্য অনেক কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। আমি ভাবতেই পারিনি ওরা কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল।’

ছত্রসাল স্টেডিয়ামে জুনিয়র জাতীয় চ্যাম্পিয়ন সাগর রানা ধনকড় হত্যা মামালায় প্রধান অভিযুক্ত সুশীল কুমারই। সাগর এবং তাঁর দুই বন্ধু সোনু ও অমিত কুমারকে মারাধর করার অভিযোগ রয়েছে সুশীলের বিরুদ্ধে। প্রসঙ্গত সুশীলের মার খেয়েই মারা যান সাগর। এর পর আত্মগোপন করেন ৩৭ বছরের কুস্তিগীর। তাঁকে হন্যে হয়ে খোঁজার পর শেষ পর্যন্ত শনিবার গ্রেফতার করে দিল্লি পুলিশ। সঙ্গে তাঁর বন্ধু অজয় কুমারকেও গ্রেফতার করা হয়। এখন তিনি পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন

বন্ধ করুন