সোহিনী গুহ রায় (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)
সোহিনী গুহ রায় (ছবি-ইনস্টাগ্রাম)

রেশম ঝাঁপি, ময়ুরপঙ্খীর পর টেলি তারকা সোহিনী কী ভাবছেন?

নিজের প্যাশনকেই গুরুত্ব দিয়েছেন সবসময়। অভিনয়ের পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক কেরিয়ারও সমান ভাবে সফল। এমবিএ পাশ করে এইচ আর এর চাকরি, সেখান থেকে সোজা টলিভিশন। সোহিনী গুহ রায়, স্মল টাউন গার্ল থেকে আজকের টেলি তারকা হয়ে ওঠার জার্নিটা নিজেই শোনালেন HT Bangla-কে।


এমবিএ কমপ্লিট করে বেশ বড়সড় একটা চাকরি করছিলেন। সফল অ্যাকাডেমিক কেরিয়ার। হঠাৎ সব ছেড়েছুড়ে অভিনয়ের জগতে চলে এলেন! কেন?

সোহিনী- প্রথম থেকেই অভিনয়ের ওপর একটা টান ছিলই। আমাদের বাড়িতে পড়াশোনার পাশাপাশি প্যাশনটাকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া হয়। লেখাপড়া তো করতেই হবে তাই সেটা মন দিয়ে করেছি। আবার সখের জায়গাটাকেও হারিয়ে যেতে দিইনি। আমি কোচবিহারের মেয়ে। কোচবিহার ঐতিহ্যময় শহর। অত্যন্ত কালচারাল একটি জায়গা। ওখানে সব বাড়িতেই কম বেশি শিল্প চর্চার চল রয়েছে। আমাদের বাড়িতেও সেই পরিবেশই পেয়েছি ছোটবেলা থেকে। বাবা আগে থিয়েটার করতেন। মা নাচ গানের সঙ্গে যুক্ত। কালচারাল আবহে আমার বেড়ে ওঠা। স্ক্রিনে আসার একটা ইচ্ছে প্রথম থেকেই আমার ছিল। বাড়িতে সেই ইচ্ছের কথা জানার পর আমাকে সবাই উৎসাহ দেন অভিনয়ের বিষয়ে। সবাই সাহস দিয়েছিল, আমিও রিস্কটা নিয়ে ফেলেছিলাম। ব্যাস, একটা নতুন শুরু।

সোহিনীর ফেসবুক পেজ থেকে
সোহিনীর ফেসবুক পেজ থেকে


কোচবিহার থেকে টলিউড। সেখান থেকে টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রির একেবারে গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠার জার্নিটা কেমন ছিল?

সোহিনী-- আমার জার্নিটা একটু অন্যরকম। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে লড়াইটা বাড়ি থেকে শুরু হয়। ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি শুনলেই অনেক বাড়িতে সহজভাবে মেনে নেয় না। আমার ক্ষেত্রে অবশ্য বাড়ির সাপোর্টটা প্রথম থেকেই পেয়েছি। কোচবিহারে সেন্ট মেরি’জ থেকে স্কুলিং, আর কলকাতায় লোরেটোতে কলেজ। তারপর চাকরি এবং এমবিএ করা। আমি এইচ আর ছিলাম। তিন বছর চাকরি করার পর অভিনয়ের জগতে আসা। তাই আমার ক্ষেত্রে লড়াইটা এখান থেকে শুরু বলা যেতে পারে। প্রথমে রুদ্রদার (রুদ্রনীল ঘোষ) একটা প্রোজেক্ট, ‘চকাচক কমেডি শো’-এ কাজ করার সুযোগ পাই। সেখানে ওঁরাই আমাকে ‘রেশম ঝাঁপি’র অডিশনের ব্যাপারে জানায়। আমি অডিশন দিতে যাই এবং ওঁরা আমায় সিলেক্ট করেন। সিলেক্ট হওয়ার পর অডিশনের ওখানে মজা করে ওঁরা আমায় বলেন, ‘শুটিং-এ আসার সময় একটা হিল জুতো নিয়ে এসো’! সবাই খুব ফ্রেন্ডলি ছিলেন। মজা করে কাজ করতাম। এই ভাবেই শুরু হয়েছিল। এদিকে প্রথম মেগা সিরিয়ালের কাজ করার সুযোগ, তাও আবার মেইন ক্যারেক্টর! সারা দিনই প্রায় ফ্লোরে, শুধু তো অভিনয়ন নয়, অনেক কিছু শিখছি তখন। চাকরি আর শুটিং যে একসঙ্গে করা যাবে না সেটা অল্প সময়ের মধ্যেই টের পেলাম। অগত্যা, চাকরি ছেড়ে সম্পূর্ণ ভাবে অ্যাক্টিং কেরিয়ারে কনসেনট্রেট করলাম।

সাবেকি সাজে সোহিনী (ফেসবুক)
সাবেকি সাজে সোহিনী (ফেসবুক)


প্রথমে কালার’স-এ ‘রেশম ঝাঁপি’ তারপর স্টার জলসায় ‘ময়ুরপঙ্খী’ এরপর কী প্ল্যানিং?

সোহিনী-- মেগা দিয়ে আমার কেরিয়ার শুরু। প্রথম থেকেই ইউনিটের সাহায্য পেয়েছি। কখনও মনে হয়নি যে আমি নতুন কাজ করতে এসেছি। বিশেষ করে যখন রেশমঝাঁপির কাজ শুরু হল তখন আমার লাস্ট সেমিস্টার শুরু হতে আর মাত্র কিছুদিন হাতে, আমি শুটিং-এর ফাঁকে লেখাপড়া করতাম। মেক-আপ ভ্যানে নতুন বউয়ের সাজে বসে পড়াশুনা করতাম। প্রোডিউসার সহ ইউনিটের সবাই খুব সাহায্য করতেন। এখন টেলিভিশনের পাশাপাশি সিনেমাতেও কাজের কথা চলছে। এপ্রিল থেকেই ফিল্মের শুটিং শুরু হওয়ার কথা ছিল। এখন অবশ্য সবটাই বদলে গিয়েছে। লকডাউন শেষ হওয়ার পর, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আগামী কাজ আরম্ভ হওয়ার কথা।



সোশ্যাল মিডিয়াতে আপনার আঁকা ছবি বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। আর কী কী প্যাশন এবং পছন্দ রয়েছে?

সোহিনী-- ছোটবেলায় আমি ছোটবেলায় খুব মন দিয়ে ছবি আঁকতাম, কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অনেক কিছুই বদলে যায়। পড়াশোনার চাপে, কাজের চাপে, বিভিন্ন ব্যস্ততায় ছবি আঁকা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল বহুদিন, এখন আবার আঁকায় মন দিয়েছি। সোশ্যল মিডিয়াতে পোস্ট করেছি আমার আঁকা কয়েকটি ছবি। এতদিন পর আবার আঁকছি, বেশ ভালো লাগছে। এছাড়া বই পড়তে ভালোবাসি। মেপ-আপ রুমে সবার সঙ্গে গল্প করার চেয়ে গল্পের বই পড়তে বেশি পছন্দ করি। মিশনারি স্কুল এবং কলেজে আমার ছাত্র জীবন কেটেছে, তাই ডিসিপ্লনটা আমার লাইফস্টাইলের একটা মূল পছন্দের অঙ্গ। তবে এখন একটু অনিয়ম হচ্ছে। জিম, এক্সারসাইজ কোনওটাই ঠিক মত হচ্ছে না। অন্য সময় কিন্তু খাওয়াদাওয়া (শুটিং-এ থাকলেও বাড়ির খাবারটাই খাই) থেক জিমে যাওয়া সবটাই নিয়ম মাফিক চলে।

কোনও কিছু মিস করেন?

সোহিনী— আমার শহর কোচবিহারকে মিস করি। শহর থেকে একটু বাইরে গেলেই ডুয়ার্সের জঙ্গল, কুয়াশা ভেজা মায়া পথ, ওয়াইল্ড লাইফ, সবুজ চা বাগান, পাহাড় অরণ্যের মাঝে স্বপ্নের মত জনপদ! যেন প্রকৃতির আপন দেশ! অসম্ভব সিনিক বিউটি। এই সব ছেড়ে থাকতে কার মন চায়? তাছাড়া ওখানকার ওয়েদার খুব ভালো। কলকাতায় প্রথম আসার পর আমার স্কিন প্রবলেম শুরু হয়। গরমের ফলে সারা গায়ে ইনফেকশন হয়ে গিয়েছিল, চামড়া উঠে যাচ্ছিল। অনেকটা সময় লেগেছিল এই ওয়েদারের সঙ্গে মানিয়ে নিতে। এখন তো সারাদিন বাড়িতে, অন্য সময় কাজের মধ্যে থাকি তাই মন খারাপ করার অবকাশ হয়ত হয় না। বই পড়ছি, রান্না করছি, ছবি আঁকছি, ছবি তুলে সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করছি। ভালো সময়ের অপেক্ষায় রয়েছি সকলে। আশা করি খুব তাড়াতাড়ি কোভিড- ১৯ কে হারিয়ে আমরা জীবনের মূলস্রোতে ফিরব।

সঙ্গে পছন্দের বই, ছবি ফেসবুক।
সঙ্গে পছন্দের বই, ছবি ফেসবুক।
বন্ধ করুন