বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > পাহাড়ে অশান্তি আসন্ন, পুলিশ কর্তাদের সতর্ক করলেন দার্জিলিং রেঞ্জের ডিআইজি
বিমল গুরুং
বিমল গুরুং

পাহাড়ে অশান্তি আসন্ন, পুলিশ কর্তাদের সতর্ক করলেন দার্জিলিং রেঞ্জের ডিআইজি

  • বিমল গুরুং কবে পাহাড়ে পা রাখবেন তা এখনও অজানা। তিনি কলকাতায় আছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে কোনওদিন তিনি পাহাড়ে আসতে পারেন। ইতিমধ্যেই পাহাড় ডুড়ে বিমল বিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে।

বিমল গুরুং কবে পাহাড়ে পা রাখবেন তা এখনও অজানা। তিনি কলকাতায় আছেন বলে সূত্রের খবর। এই পরিস্থিতিতে আশঙ্কা করা হচ্ছে যে কোনওদিন তিনি পাহাড়ে আসতে পারেন। ইতিমধ্যেই পাহাড় জুড়ে বিমল বিরোধী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। মিছিল, মিটিং, পথসভা থেকে সেই ছবিই উঠে আসছে। এবার বিমল গুরুংয়ের প্রত্যাবর্তন ঘিরে দার্জিলিং–কালিম্পং, দুই জেলায় পাহাড়ে অশান্তির আশঙ্কা করছে রাজ্য পুলিশ প্রশাসন।

তিন বছর ধরে গা–ঢাকা দিয়ে থাকার পরে গত ২১ অক্টোবর হঠাৎ কলকাতায় আত্মপ্রকাশ করেন বিমল গুরুং। সেদিনই ঘোষণা করেন তৃণমূলকে সমর্থনের কথা। তার পরই পাহাড়ে চাপা উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। গুরুংয়ের ছবি দেওয়া মোর্চার পতাকা দেখা যায় পাহাড়ে। পরদিন সোনাদায় বিরাট মিছিল করে বিনয় তামাংপন্থীরা। যেখানে বার্তা দেওয়া হয়— যিনি পাহাড়ে ছেড়ে গিয়েছেন, তাঁর আর পাহাড়ে জায়গা নেই। আর সেখান থেকেই অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, এই পরিস্থিতিতে উত্তেজনা বাড়তে পারে ধরে নিয়ে গত বুধবার, গুরুংয়ের কলকাতায় আসার পরের দিন দার্জিলিং রেঞ্জের ডিআইজি অমিত জাভালগি চূড়ান্ত সতর্কবার্তা পাঠিয়েছেন। সেখানে দার্জিলিং এবং কালিম্পংয়ের পুলিশ সুপারকে বলা হয়েছে, ২১ অক্টোবর বিমল গুরুংকে গোর্খা ভবনের আশেপাশে দেখা গিয়েছে। তিনি সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথাও বলেছেন। তাঁকে ঘিরে পাহাড়ে যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা দেখা না দেয়, সে দিকে নজর রাখতে হবে। যাঁরা বিভিন্ন মামলায় ফেরার, তাঁরা যদি আত্মসমর্পণ করেন বা পাহাড়ে ফিরে আসেন, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। এই সংক্রান্ত প্রতিটি মামলার তথ্য, কেস ডায়েরি তৈরি রাখতে হবে।

এখন পাহাড়জুড়ে দুটি সমীকরণ তৈরি হয়েছে। একটা গুরুং সমীকরণ। আর একটা তামাং সমীকরণ। এই দুই সমীকরণ আর মিলে যেতে পারে না। তাই পাহাড়ে অশান্তি অনিবার্য। শুধু বিমলের পা রাখার অপেক্ষা। এই পরিস্থিতিতে যাতে নতুন করে পাহাড়ে আগুন না জ্বলে ওঠে সেদিকে সতর্ক থাকতে পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা যে অমূলক নয়, তার প্রমাণ সোনাদার মিছিলে যেমন মিলেছে, তেমনই পুজোয় দেখা গিয়েছে, দার্জিলিং চকবাজারে লাগানো গুরুংয়ের ছবি–সাঁটা পতাকা উপড়ে ফেলে সেখানে সাধারণ মোর্চার পতাকা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়েছে। সুতরাং অশান্তির মেঘের ঘনঘটা যে আসন্ন তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

 

বন্ধ করুন