বাড়ি > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়তে বহু কষ্টে তৈরি হাসপাতালের দরজা খুলে দিলেন ক্যাবচালক
অদ্ভূত বৈপরীত্য। একদিকে সইদুল যখন কষ্টে তৈরি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখনই শুক্রবার বীরভূমের সিনাইয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলতে গেলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পিটিআই-এর ছবি। (PTI)
অদ্ভূত বৈপরীত্য। একদিকে সইদুল যখন কষ্টে তৈরি হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার প্রস্তাব দিচ্ছেন, তখনই শুক্রবার বীরভূমের সিনাইয়ে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলতে গেলে বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। পিটিআই-এর ছবি। (PTI)

কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়তে বহু কষ্টে তৈরি হাসপাতালের দরজা খুলে দিলেন ক্যাবচালক

  • ৫০ শয্যার হাসপাতাল তৈরি করতে প্রায় সর্বস্ব বিক্রি করতে হয়েছিল। সেই হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানাতে রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন সইদুল।

হাসপাতাল তৈরি করতে স্ত্রীর সব গয়না ও নিজের ৪টি ট্যাক্সি বিক্রি করেছিলেন তিনি। করোনা সংক্রমণে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানাতে সেই হাসপাতালের দরজা খুলে দিলেন বারুইপুরের ক্যাবচালক সইদুল লস্কর (৪৫)।

কয়েক বছর আগে মৃত ছোটবোনের স্মৃতিতে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি তৈরি করতে প্রায় সর্বস্ব বিক্রি করতে হয়েছিল বারুইপুরের পুঁড়ি গ্রামের বাসিন্দা সইদুলকে। এবার সেই হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার বানানোর জন্য রাজ্য সরকারকে প্রস্তাব দিয়েছেন এই যুবক।

বৃহস্পতিবার সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে তিনি জানিয়েছেন, ‘বেশ কয়েক বছর আগে কেনা জমিতে ২০০৪ সালে নিউমোনিয়ায় মৃত ছোটবোন মারুফার নামে হাসপাতাল তৈরি করি। এমন দিন গিয়েছে, যখন স্বামী-স্ত্রী শুধু মুড়ি খেয়ে হাসপাতাল তৈরির জন্য টাকা জমিয়েছি। টাকা জোগাড় করতে নিজের তিনটি ট্যাক্সি ও স্ত্রী শামিমার গয়নাও বিক্রি করতে হয়। হাসপাতাল তৈরির সময় প্রতিটি ইট গাঁথতে দেখেছি আমরা।’

তিনি জানিয়েছেন, এই হাসপাতালের আউটডোর ও এমার্জেন্সি বিভাগে প্রতিদিন ৩০০ রোগীর চিকিৎসা হয়। অত্যাধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জাম সংগ্রহের জন্য চেষ্টা করছেন বলেও জানিয়েছেন সইদুল। কিন্তু রাজ্যে করোনা সংক্রমণ হানা দিলে সে পরিকল্পনা আপাতত মুলতুবি রেখে হাসপাতালে রাজ্য সরকারের কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খুলবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

জানিয়েছেন, ‘স্ত্রী ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলে জেলা আধিকারিকদের কাছে হাসপাতালে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার খোলার প্রস্তাব দিয়েছি। তাঁরা আশ্বাস দিয়েছেন, প্রস্তাবটি স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও মুখ্যমন্ত্রীর দফতরে পাঠানো হয়েছে।’

এ ছাড়া করোনা মোকাবিলায় রাজ্য সরকারের ত্রাণ তহবিলে ৫,০০০ টাকা জমা দিয়েছেন সইদুল। তিনি জানিয়েছেন, তাঁর হাসপাতালের ১০ জন প্যারামেডিক কর্মীকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যাবে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার এক জেলা আধিকারিক জানিয়েছেন, করোনা কোয়ারেন্টাইন সেন্টার তৈরির জন্য সইদুলের হাসপাতালের মৌলিক পরিষেবা রয়েছে। প্রশাসনিক নির্দেশ পেলে কোয়ারেন্টাইন সেন্টার গড়ার বিষয়ে পদক্ষেপ করা সম্ভব।

বন্ধ করুন