বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > N‌etaji-Governor: ‘‌ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে ফেলা হচ্ছে নেতাজির স্মৃতি’‌, বণিকসভায় সরব হন রাজ্যপাল

N‌etaji-Governor: ‘‌ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে ফেলা হচ্ছে নেতাজির স্মৃতি’‌, বণিকসভায় সরব হন রাজ্যপাল

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু

তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কেন্দ্রে থাকা বিজেপি সরকার বারবার নেতাজি আবেগকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে। অথচ সাম্প্রদায়িকতার রং ছেড়ে বেরতে পারেননি তাঁরা। এদিন ঘুরিয়ে মোদী সরকারকেই বার্তা দিয়ে রাখলেন নেতাজিকন্যা বলে মনে করা হচ্ছে। এদিনের অনুষ্ঠানে ভিডিয়ো বার্তা দেন নেতাজিকন্যা অনিতা বসু।

এবার নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে নিয়ে সরব হলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি মনে করেন, ইতিহাসে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এমনকী নেতাজিকে ঘিরে থাকা সমস্ত তথ্য প্রকাশ্যে আনা উচিত বলে সরব হন রাজ্যপাল। একইসঙ্গে তিনি ঘোষণা করেন, রাজভবনের যে পোর্টিকো রয়েছে সেটা নামকরণ করা হবে নেতাজির নামে। এই পোর্টিকো হল, একটি শিল্পকলার স্থাপত্য ছাতা। ঔপনিবেশিক শক্তির বিরুদ্ধে নেতাজির লড়াইকে স্মরণ করতেই এটি তৈরি করা হয়েছিল। যা আছে রাজভবনে।

এদিন বণিকসভায় অর্থনীতিবিদ সঞ্জীব সান্যালের একটি বই উদ্বোধন করতে গিয়ে ছিলেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। সেখানেই এই দাবি তুলেছেন বাংলার রাজ্যপাল। তাঁর কথায়, ‘‌যাবতীয় সত্য প্রকাশ্যে আসুক। নেতাজিকে নিয়ে অর্ধসত্য জানার দিন শেষ।’‌ নেতাজিকে নিয়ে ইতিহাস নতুন করে লেখার দাবিও করেছেন তিনি। এদিনের অনুষ্ঠানে ভিডিয়ো বার্তা দেন নেতাজিকন্যা অনিতা বসু।

ঠিক কী বলেছেন রাজ্যপাল?‌ এদিন বণিকসভায় উপস্থিত বিশিষ্টজনের সামনে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তিনি কড়া ভাষায় বলেন, ‘‌হিজ মাস্টার ভয়েস ইতিহাসবিদদের অবশ্য পরিবর্তন হতে হবে। আমার একটা প্রশ্ন আছে। যা দেশের তরুণ প্রজন্ম জিজ্ঞাসা করছে। কে ইতিহাসের সঠিক স্থান থেকে নেতাজিকে বিলুপ্ত করতে চাইছে?‌ কে এটা করছে?‌ কারা মূলচক্রী?‌ যেসব ঐতিহাসিক এমন ইতিহাস লিখছেন তাতে কল্পকাহিনী তৈরি হচ্ছে। ইতিহাস ঐতিহাসিক কল্পকাহিনীর জায়গা নয়।’‌

ভিডিয়ো বার্তায় নেতাজিকন্যা কী বলেছেন?‌ এদিন নেতাজিকন্যা অনিতা বসু বলেন, ‘‌দেশনায়ক নেতাজি হিন্দু বাঙালি হলেও আদ্যোপ্রান্ত অসাম্প্রদায়িক ছিলেন। হিন্দু, মুসলিম সকলকে নিয়ে কাজ করতেন।’‌ অর্থাৎ তিনি বোঝাতে চেয়েছেন, কেন্দ্রে থাকা বিজেপি সরকার বারবার নেতাজি আবেগকে নিজেদের স্বার্থে কাজে লাগাচ্ছে। অথচ সাম্প্রদায়িকতার রং ছেড়ে বেরতে পারেননি তাঁরা। এদিন ঘুরিয়ে মোদী সরকারকেই বার্তা দিয়ে রাখলেন নেতাজিকন্যা বলে মনে করা হচ্ছে।

আর কী বলেছেন রাজ্যপাল?‌ নেতাজিকন্যার ভিডিয়ো বার্তার পর রাজ্যপাল ফের ইতিহাসবিদদের বার্তা দেন। তিনি বলেন, ‘‌আমি মনে করি ইতিহাসের আঁস্তাকুড়ে ফেলা হচ্ছে নেতাজির কীর্তি। কে এসবের জন্য দায়ী?‌ এটাই মূল প্রশ্ন। ইতিহাসে নেতাজি কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস মানেই সব সত্যি নয়। নেতাজি সংক্রান্ত ইতিহাস বদল হওয়া দরকার। নেতাজি সংক্রান্ত যা লুকিয়ে আছে সেটা প্রকাশ্যে আসুক। অর্ধসত্য জানার দিন শেষ। সত্যিটা উঠে আসুক এবার।’‌

বন্ধ করুন