বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > পুরসভার ‘দূষিত জল’ খেয়ে কলকাতায় ২ জনের মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ ফিরহাদের
ফিরহাদ হাকিম। ফাইল ছবি
ফিরহাদ হাকিম। ফাইল ছবি

পুরসভার ‘দূষিত জল’ খেয়ে কলকাতায় ২ জনের মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ ফিরহাদের

  • যদিও জল দূষণের জেরে মৃত্যুর অভিযোগ মানতে নারাজ কলকাতা পুরসভা।

খাস কলকাতায় পানীয় জলে দূষণের আতঙ্ক ছড়াল। কারণ এই জল থেকে ডায়েরিয়ায় মৃত্যুও হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। যদিও জল দূষণের জেরে মৃত্যুর অভিযোগ মানতে নারাজ কলকাতা পুরসভা। সেখানকার জলের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন কলকাতা পুরসভার মুখ্য প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। এই পরিস্থিতি নিয়ে হই–চই পড়ে গিয়েছে।

জানা গিয়েছে, মাদককাণ্ডে ধৃত বিজেপি নেত্রী পামেলা গোস্বামী, আলিপুর মহিলা জেলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আবার এক বিচারাধীন বন্দির মৃত্যু হয়েছে বলে খবর। জেলের আরও পাঁচজন ডায়েরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। রবিবার, কলকাতা পুরসভার ৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৫ নম্বর শশীশেখর বসু রোডের শ্রমিক আবাসনে ৫৫ বছরের ভুবনেশ্বর দাসের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। অভিযোগ ওঠে, পানীয় জলের পাইপ ফেটে যাওয়ায় নিকাশি নালার জল ঢুকে দূষণ ঘটেছে। অভিযোগ, সেই জল খেয়ে একাধিক লোক অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একজনের মৃত্যুও হয়। ১১ মার্চ এই সমস্যা শুরু হয় বলে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত কয়েকদিন ধরেই তাঁরা পানীয় জলে দুর্গন্ধ পাচ্ছিলেন। তারপরই এলাকার বেশ কয়েকজন বাসিন্দা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতিতে তাঁরা জল কিনে খেতে বাধ্য হচ্ছেন। এই ভুবনেশ্বর দাস থাকতেন শ্রমিক কোয়ার্টারে। যাঁর মৃত্যু হয়েছে। আর তাঁর স্ত্রী ও জামাই অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তবে রবিবারের মধ্যে পাইপলাইন ঠিক করে দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয় ওয়ার্ড কো-অর্ডিনেটর রতন মালাকার। তবে জল দূষণের জেরে মৃত্যুর অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। আমি সমবেদনা জানাই। তবে, আমি শুনেছি হার্ট অ্যাটাক এবং অন্যান্য শারীরিক অসুবিধার জেরে উনি মারা গিয়েছেন।’‌

এই ঘটনার পর প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবার পুরসভার অফিসাররা আলিপুর মহিলা জেলে গিয়ে জলের নমুনা পরীক্ষা করে দেখবেন। পাশাপাশি পুরসভার পক্ষ থেকে ওই এলাকায় সকাল–বিকেল ৩টি করে পানীয় জলের গাড়ি পাঠানো হচ্ছে। ঘটনার পর ফিরহাদ হাকিম বলেন, ‘‌আজ সকালে খবরটি শোনামাত্রই আমি সেখানে জল–সরবরাহ বিভাগের ডিজিকে পাঠিয়েছি। নমুনা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই রিপোর্ট হাতে পাব।’‌

বন্ধ করুন