বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রি দুর্নীতিতে কেভেন্টার্সের দফতরে ইডির হানা
এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট।
এনফোর্সমেন্ট ডাইরেক্টরেট।

মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রি দুর্নীতিতে কেভেন্টার্সের দফতরে ইডির হানা

  • মেট্রো ডেয়ারিতে রাজ্য দুগ্ধ ফেডারেশনের ৪৭ শতাংশ শেয়ার মাত্র ৮৫ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয় রাজ্য সরকার। কয়েকদিনের মধ্যেই তার ১৫ শতাংশ শেয়ার সিঙ্গাপুরের একটি বিনিয়োগকারী সংস্থাকে ১৭০ কোটি টাকায় বিক্রি করে কেভেন্টার্স।

মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রি সংক্রান্ত দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে বেসরকারি সংস্থা কেভেন্টার্সের দফতরে হানা দিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। বৃহস্পতিবার ইডির গোয়েন্দারা কলকাতার মাঝেরহাট সেতুর পাশে সংস্থার দফতরে হানা দেন। দীর্ঘক্ষণ নানা নথিপত্র পরীক্ষা করেন তাঁরা। তল্লাশি চলাকালীন দফতরের কর্মীদের প্রবেশ ও বেরনো নিষিদ্ধ করেন গোয়েন্দারা। মোতায়েন হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী। 

রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার জলের দরে কেভেন্টার্সকে বিক্রি করার অভিযোগে আদালতের দ্বারস্থ হন অধীররঞ্জন চৌধুরী। এর পরই ঘটনার তদন্ত শুরু করে ইডি। এই দুর্নীতির তদন্তে কেভেন্টার্সের কর্তা ময়াঙ্ক জালানকেও তলব করেছে ইডি। অধীরবাবুর দাবি মেট্রো ডেয়ারিতে রাজ্য দুগ্ধ ফেডারেশনের ৪৭ শতাংশ শেয়ার মাত্র ৮৫ কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয় রাজ্য সরকার। কয়েকদিনের মধ্যেই তার ১৫ শতাংশ শেয়ার সিঙ্গাপুরের একটি বিনিয়োগকারী সংস্থাকে ১৭০ কোটি টাকায় বিক্রি করে কেভেন্টার্স। এই দরে রাজ্য শেয়ার বিক্রি করলে রাজ্যের কোষাগারে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা আসার কথা ছিল। 

দুগ্ধ ফেডারেশনের চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল বিধায়ক পরশ দত্তের দাবি, ওই সময় মেট্রো ডেয়ারির সম্প্রসারণের জন্য ৩০০ কোটি টাকার প্রয়োজন ছিল। তার মধ্যে ২০০ কোটি টাকা দেবে বলে জানিয়েছিল কেভেন্টার্স। আর ১০০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা ছিল ফেডারেশনের। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ফেডারেশন সেই টাকা জোগাড় করে উঠতে পারেনি। তাই শেয়ার বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। 

এই দুর্নীতিতে রাজ্যের ৪ আমলার বক্তব্যও জানতে চেয়েছে ইডি। সমস্ত প্রক্রিয়া মেনে শেয়ার বিক্রি হয়েছিল কি না তা খতিয়ে দেখছেন গোয়েন্দারা। মেট্রো ডেয়ারির শেয়ার বিক্রিতে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র। তাঁর ওপরেও কোনও চাপ ছিল কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। 

এছড়া মধ্যপ্রাচ্যে কৃষিপণ্য রফতানিতেও কেভেন্টার্সের বিরুদ্ধে বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ইডির দাবি, বিদেশে কৃষিপণ্য রফতানির যে রসিদ কেভেন্টার্স জমা দিয়েছে আর যে সংস্থাকে রফতানি করা হয়েছে তাদের রসিদে বিস্তর ফারাক রয়েছে। কর ও শুল্ক ফাঁকি দিতে কেভেন্টার্স একাজ করে থাকতে পারে বলে মনে করছেন গোয়েন্দারা।

 

বন্ধ করুন