বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > বড়মার দেখাশোনা, চিকিৎসা আমি করতাম, যাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তাঁরা জানেন না: মমতা
মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর ও মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি
মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর ও মমতাবালা ঠাকুরের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

বড়মার দেখাশোনা, চিকিৎসা আমি করতাম, যাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসেছে তাঁরা জানেন না: মমতা

  • ‘‌বড়মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রায় ২০–২৫ বছর ধরে বড়মার দেখাশোনা, চিকিৎসা— সবটাই আমি করতাম। বালু (‌মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক)‌ আছে উত্তর ২৪ পরগনায়। বালু আমাকে বলত আর আমি এখানে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতাম বড়মাকে।’‌

মতুয়া সম্প্রদায় পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় গোষ্ঠী। রাজ্য রাজনীতিতেও মতুয়াদের গুরুত্ব বিরাট। তৃণমূল–বিজেপি দুই দলই মতুয়াদের আস্থা (‌পড়ুন, ভোট)‌ অর্জন করতে নানা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বরাবর। আজ, বুধবার বাংলার মাটিতে পা রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর সফরসূচির মধ্যে যে শুক্রবারের মধ্যাহ্নভোজ রয়েছে তা তিনি সারবেন নিউটাউনের আদর্শপল্লীর বাসিন্দা বিজেপি কর্মী নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে। কারণ, নবীনবাবুর আর এক পরিচয় হল তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের সদস্য।

আর বুধবারই নবান্নে এক অনুষ্ঠান থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের কথা ফের মনে করিয়ে দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর খুব কাছের মানুষ ছিলেন মতুয়া মহাসঙ্ঘের বড়মা বীণাপাণি ঠাকুর। মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, ‘‌বড়মা থাকাকালীন নিজের হাতে মতুয়াদের উন্নয়নের ব্যাপার আমি দেখেছি। এখন যাঁরা উড়ে এসে জুড়ে বসছে তাঁরা জানেন না। বড়মা যতদিন বেঁচে ছিলেন, প্রায় ২০–২৫ বছর ধরে বড়মার দেখাশোনা, চিকিৎসা— সবটাই আমি করতাম। বালু (‌মন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক)‌ আছে উত্তর ২৪ পরগনায়। বালু আমাকে বলত আর আমি এখানে হাসপাতালে এনে ভর্তি করাতাম বড়মাকে। সবটাই করতাম। তার পরই মমতাবালা ঠাকুর আর ওঁদের সঙ্গে আমার পরিচয় হয়। তার আগে আমি ওঁদের চিনতাম না।’‌

বরাবরই মতুয়াদের কাছে পৌঁছনোর চেষ্টা চালিয়ে গিয়েছে বিজেপি। কিন্তু কেন্দ্রের এনআরসি ও সিএএ–র জেরে মতুয়া সম্প্রদায়ের যে গোঁসা হয়েছে অমিত শাহ সেটি তাঁর দু’‌দিনের সফরসূচিতে ভাঙানোর চেষ্টা করবেন বলে জানিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের উন্নয়নের স্বার্থে তিনি কিছু বার্তাও দিতে পারেন। কিন্তু তার আগেই বুধবার মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদ গঠন করে তার জন্য ১০ কোটি টাকা দেওয়ার কথা জানিয়ে মোক্ষম চাল দিলেন মমতা। তাঁর কথায়, ‘‌মতুয়ারা শুধু বনগাঁ বা রানাঘাটে থাকেন না, উত্তরবঙ্গে, কৃষ্ণনগরেও অনেক মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষ রয়েছেন। তাই মতুয়া উন্নয়ন পর্ষদের কমিটি সারা বাংলার লোকজনকে নিয়ে তৈরি করতে হবে।’‌

মুখ্যমন্ত্রী এদিন মনে করিয়ে দেন যে তিনিই মতুয়াদের বাড়িতে প্রথম গিয়েছিলেন। তাঁর কথায়, ‘‌আমি আসার পর মতুয়াদের ঠাকুরবাড়ির ওখানে রেলস্টেশনের উন্নয়ন, এলাকার উন্নয়ন হয়েছে। কলেজ তৈরি করে দিয়েছি। ঠাকুরবাড়ি সংলগ্ন গোটা এলাকার উন্নয়নের জন্য পর্যটন দফতর থেকে বিশেষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চাকলা ও কচুয়ার লোকনাথ মন্দির, অনুকুল ঠাকুরের আশ্রমের উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’‌

‘‌ভুলিও না— নীচজাতি, মুখ, দরিদ্র, অজ্ঞ, মুচি, মেথর তোমার রক্ত, তোমার ভাই’‌— স্বামী বিবেকানন্দর এই উক্তি তুলে ধরে এদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে তিনি জাতপাতের ভেদাভেদের বিরোধী। তিনি বলেন, ‘‌স্বামীজির এই কথা আমরা বিশ্বাস করি। আমরা কেউ নীচু–উঁচু নই। আমার বাড়িতে যে মেয়েটিকে ছাড়া আমার চলে না, সে আসলে বাউড়ি সম্প্রদায়ের। ওকে আমি বড় করেছি।’‌

মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, ‘‌এর আগেও এমন অনেককেই মানুষ করেছি আমি। ওরা আমার বাড়িতে থেকেছে। ওদের বিয়ে দিয়েছি। এখন যে ছেলেটি বা মেয়েটি রয়েছে, ওরা কিন্তু বাউড়ি সম্প্রদায়ের। বর্ধমান, বীরভূম, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া থেকে আসা অনেকেরই জীবন গড়ে দিয়েছি আমি। আমি জাতপাত দেখিনা। ওদের বিয়ে দিয়েছি, চাকরি দিয়েছি। এটা করতে আমার ভাল লাগে।’‌ মমতার কথায়, ‘‌সেই ধর্মই ভাল যে ধর্ম গরিব মানুষকে বুকে স্থান দেয়, সেই ধর্মই আসল যে ধর্ম মানবিকতার কথা বলে।’‌

বন্ধ করুন