ফাইল ছবি (PTI)
ফাইল ছবি (PTI)

ছয় নয় তিন, করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হল মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে

একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য করোনারোগী ভর্তি রয়েছে বলে দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক শুরু হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যে। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ৬ জন নয়, রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। বুধবার সন্ধ্যায় নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে এমনটাই দাবি করলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার দাবি, বাকিদের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়া ও কিডনির সমস্যায়।

গত ১৫ মার্চের পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় এখনো পর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৬ জনের। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত অবস্থায় মৃত্যু হলেও তাঁদের মৃত্যুর জন্য সংক্রমণই দায়ী এমনটা মানতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, 'রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৩ জনের। তার মধ্যে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে নিউমোনিয়ায়। বাকি যাঁদের করোনায় মৃত্যু হয়েছে বলে দেখানো হচ্ছে তাদের কিডনি-সহ অন্যান্য সমস্যা ছিল।' এব্যাপারে সংবাদমাধ্যমকে দায়িত্বশীল হয়ে সংবাদ পরিবেশনের উপদেশও দিয়েছেন তিনি। সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, জারি রয়েছে মহামারি আইন। মানে যে কোনও গ্রেফতার করা যেতে পারে যে কাউকে।

একই সঙ্গে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল প্রচার পাওয়ার জন্য করোনারোগী ভর্তি রয়েছে বলে দাবি করছে বলে অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাদের সাবধান করে দেন মমতা। বলেন, লড়াইয়ের এই সময়ে এমন প্রচার চালাবেন না।

হাসপাতালগুলি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে পশ্চিমবঙ্গে করোনায় মৃত ৬ জনের প্রথম জনের মৃত্যু হয় যুবভারতী স্টেডিয়ামের পিছনে একটি বেসরকারি হাসপাতালে। দ্বিতীয় জনের মৃত্যু হয় উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। মঙ্গলবার ভোরে তৃতীয় জন মারা যান হাওড়া জেলা হাসপাতালে। মঙ্গলবার চতুর্থ ও পঞ্চম জনের মৃত্যু হয় যথাক্রমে হাওড়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ও এনআরএস মেডিক্যাল কলেজে। বুধবার সকালে ষষ্ঠ জনের মৃত্যু হয়েছে রথতলার একটি নার্সিংহোমে।

এর আগে রাজ্যে ডেঙ্গিতে সংখ্যা কম করে দেখানোর অভিযোগ উঠেছিল সরকারের বিরুদ্ধে। এমনকী ডেঙ্গি রোগীর সংখ্যা কমাতে রাজ্যে ডেঙ্গির র্যাপিড টেস্ট পর্যন্ত বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। এবার করোনায় মৃতের সংখ্যা নিয়েও শুরু হল একই বিতর্ক।


বন্ধ করুন