বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > ফোনে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস মমতার, বিক্ষোভস্থলে গেলেন ডেরেক
বিক্ষোভস্থলে ডেরেক
বিক্ষোভস্থলে ডেরেক

ফোনে কৃষকদের পাশে থাকার আশ্বাস মমতার, বিক্ষোভস্থলে গেলেন ডেরেক

  • কৃষকদের আন্দোলনকে টুইটের মাধ্যমে সমর্থন করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্রের নয়া কৃষি আইনের বিরোধিতায় সরব কৃষকরা। এই প্রেক্ষাপটে কৃষকদের আন্দোলনকে টুইটের মাধ্যমে সমর্থন করলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আন্দোলনের পাশে থাকার বার্তা নিয়ে মমতার নির্দেশে দিল্লি–হরিয়ানার–সিঙ্ঘু সীমানায় পৌঁছে গেলেন তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও ব্রায়েন। আন্দোলনে সহমর্মিতা জানিয়ে ফোনে কৃষক পরমজিত সিংয়ের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। এই কথা জানিয়েছেন তৃণমূল সাংসদ ডাঃ কাকলি ঘোষদস্তিদার।

কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। শুক্রবার সিঙ্গুর আন্দোলনের অনশন কর্মসূচির বর্ষপূর্তিতে ফের কেন্দ্রকে খোঁচা দিয়ে টুইট করেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। আন্দোলনরত কৃষকদের সঙ্গে ডেরেকের মাধ্যমে ফোনে সরাসরি কথাও বলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কৃষকরা টেলিফোনে মমতাকে বোন সম্বোধন করে পাশে থাকার জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

সংসদের বাদল অধিবেশনে তিনটি কৃষি বিল পাশ করায় কেন্দ্রীয় সরকার। তাঁদের দাবি, চাষিদের স্বার্থেই নয়া আইন কার্যকর করা হয়েছে। পালটা বিরোধীদের অভিযোগ, কৃষকদের অধিকার কেড়ে নিতেই এই বিল আনা হয়েছে। সেই আইন প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন কৃষকরা। তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। ১৪ বছর আগের সিঙ্গুর আন্দোলনের অনশন কর্মসূচির বর্ষপূর্তিতে শুক্রবার টুইট শুরু করেন মুখ্যমন্ত্রী। টুইটে লেখেন, ‘‌১৪ বছর আগে ২০০৬ সালের ৪ ডিসেম্বর, আমি ২৬ দিনের অনশন কর্মসূচি শুরু করি। কৃষিজমি জোর করে দখল করা যাবে না, এই দাবিই তুলেছিলাম। আমি শ্রদ্ধা জানাই সেই সমস্ত কৃষকদের যাঁরা কেন্দ্রের আনা কৃষি আইনের বিরোধিতা করছেন।’‌

বিধানসভা নির্বাচনের আগে মমতা তৃণমূলকে আবার কৃষক–আন্দোলনমুখী করে তুলতে চাইছেন। তৃণমূল আরও বেশি করে গ্রামের দিকে নজর দেবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। আগেই তিনি বলেছিলেন, ‘‌আমি কৃষি আন্দোলন নিয়ে খুবই উদ্বিগ্ন। কেন্দ্রীয় সরকার এখনই নয়া কৃষি আইন প্রত্যাহার করুক। অন্যথায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে আমরা আন্দোলনে নামব।’‌ আগামী সোমবার ৭ ডিসেম্বর তাঁর মেদিনীপুরের সভাকে মমতা আন্দোলনরত কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোর সভা হিসাবে দেখতে চাইছেন।

হরিয়ানায় গিয়ে কৃষকদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে বৈঠক রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’‌ব্রায়েনের। কলকাতায় দলের কার্যালয়ে শুক্রবার সাংবাদিক সম্মেলন করলেন আর এক সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার। তিনি বলেন, ‘‌বহুজাতিক সংস্থার কাছে দেশকে বিক্রি করার চক্রান্ত চলছে। নয়া এই আইন যদি কৃষকদের উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়, তাহলে সর্বতোভাবে বিরোধিতা করা হবে।’‌

তৃণমূল নেত্রীর স্পষ্ট বার্তা, নয়া কৃষি বিরোধী আন্দোলনে তিনি ও তাঁর দল আন্দোলনকারীদের পাশে থাকবে। কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে সাংসদ কাকলি ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘‌কৃষি রাজ্যের বিষয়। সমস্ত ক্ষমতা কুক্ষিগত চাইছে কেন্দ্র। কার এই স্বার্থে এই আইন আনা হল? এই আইন লাগু হলে দেশে ফের দুর্ভিক্ষ দেখা দেবে।’‌

 

বন্ধ করুন