বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কঙ্কাল কাণ্ডে তান্ত্রিক যোগ?‌ মাথা থেঁতলে ছেলেকে খুন করে দেহ পোড়ানোর কথা স্বীকার
প্রতীকী ছবি
প্রতীকী ছবি

কঙ্কাল কাণ্ডে তান্ত্রিক যোগ?‌ মাথা থেঁতলে ছেলেকে খুন করে দেহ পোড়ানোর কথা স্বীকার

  • পুলিশ জানিয়েছে, ছোট থেকে অসুস্থ বিশেষভাবে সক্ষম অর্জুন। বাবার ঘনিষ্ঠ অর্জুনকে বরাবরই নাপসন্দ ছিল মায়ের। এদিকে, অন্য দুই সন্তান বিদুর ও বৈদেহী মায়ের বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে সল্টলেকের এজে ব্লকের বাড়ি থেকে কঙ্কাল উদ্ধারের পর শুক্রবার সকালেই ঘটনাস্থলে তদন্তে যান ফরেনসিক আধিকারিকরা। কঙ্কাল যে কাপড় দিয়ে জড়ানো ছিল, সেই কাপড়ের পাশাপাশি ছাদে ওঠার সিড়ি থেকে ছাইও উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। আর সে সব পরীক্ষা করেই ভীষণ চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। আর তা থেকেই তাদের সন্দেহ, এ ঘটনার সঙ্গে যোগ রয়েছে তন্ত্রসাধনার।

প্রাথমিক তদন্তের পর ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ ও পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগকারী অনিলকুমার মাহেনসারিয়ার বড় ছেলে অর্জুনকে খুন করা হয়েছে দেড় মাস আগে। প্রথমে বিশেষভাবে সক্ষম অর্জুনকে কিছু খাওয়ানো হয়, তার পর নোড়া দিয়ে মাথা থেঁতলে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাঁকে। শুধু তাই নয়, খুন করার পর ঘরের ভেতরেই পোড়ানো হয় তাঁর দেহ। পোড়া গন্ধ যাতে ছড়িয়ে না পড়ে তার জন্য লঙ্কা ও গোলমরিচও পোড়ানো হয়। এর পর আধপোড়া দেহ বস্তায় ভরে তা রেখে দেওয়া হয় ছাদের চিলেকোঠায়।

এদিকে, পুলিশের দাবি, খুনের কথা স্বীকার করেছে মৃত যুবকের মা গীতা মাহেনসারিয়া। পুলিশ জানিয়েছে, ছোট থেকে অসুস্থ বিশেষভাবে সক্ষম অর্জুন। বাবার ঘনিষ্ঠ অর্জুনকে বরাবরই নাপসন্দ ছিল মায়ের। এদিকে, অন্য দুই সন্তান বিদুর ও বৈদেহী মায়ের বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল।

বছরখানেক আগে ব্যবসায় মন্দা চলছিল অনিলবাবুর। সুরাহা পেতে বাড়িকে একসময় তান্ত্রিক ডেকেছিলেন গীতাদেবি। তাঁর দাবি, তাতে ব্যবসাবাণিজ্যে কিছুটা উন্নতি হয়। এর পর থেকেই স্বামী–স্ত্রী দু’‌জনের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে। নিয়মিত অশান্তি হতে শুরু করে। এর জেরেই সল্টলেকের বাড়ি ছেড়ে রাজারহাটের ফ্ল্যাটে থাকতে শুরু করেন অনিলবাবু।

এরই মধ্যে চলতি বঠরের ২৯ অক্টোবর তিন ছেলেমেয়েকে নিয়ে ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে নিজের মায়ের বাড়িতে ঘুরতে যান স্ত্রী গীতা। মাসখানেক পর ৩০ নভেম্বর অনিল জানতে পারেন যে রাঁচিতে তাঁর মায়ের সঙ্গে নেই অর্জুন। সেদিনই গীতাকে ফোন করেন অনিল। কিন্তু তিনি অনিলকে জানান যে তাঁর সঙ্গেই রয়েছে তাঁর তিন ছেলেমেয়ে।

কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে বড় ছেলে বেপাত্তা থাকায় বৃহস্পতিবার বিধাননগর পূর্ব থানায় অভিযোগ জানান অনিলবাবু। একটি মামলা দায়ের করে সল্টলেকের এজে ব্লকের ওই অভিজাত বাড়িতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তখনই ছাদ থেকে উদ্ধার হয় একটি কাপড়ে মোড়ানো কঙ্কাল।‌ গ্রেফতার করা হয়েছে গীতাদেবী ও তাঁর ছোট ছেলে বিদুরকে। এ ঘটনার সঙ্গে কোনও তান্ত্রিকের যোগ আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। টানা জেরা করা হচ্ছে ছেলেকে খুনে অভিযুক্ত গীতাদেবীকে।

বন্ধ করুন