বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > কলকাতা > কেন্দ্রীয় দলের একগুচ্ছ অভিযোগ কার্যত মেনে নিল নবান্ন, জারি হল ১১ দফা নির্দেশিকা
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

কেন্দ্রীয় দলের একগুচ্ছ অভিযোগ কার্যত মেনে নিল নবান্ন, জারি হল ১১ দফা নির্দেশিকা

  • শুক্রবার চিঠি দিয়ে বাঙুর হাসপাতাল ও নিউ টাউনের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন রোগীর ৫ দিন পরেও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি বলে মুখ্যসচিবকে জানায় কেন্দ্রীয় দল।

কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের চাপের মুখে অবশেষে রাজ্যের করোনা চিকিৎসার পরিকাঠামো শোধরাতে পদক্ষেপ করল রাজ্য প্রশাসন। কেন্দ্রীয় দলের পর্যবেক্ষণ ধরে ধরে রাজ্যের মেডিক্যাল কলেজ ও করোনা হাসপাতালগুলিকে ১১ দফা নির্দেশ পাঠালেন মুখ্যসচিব রাজীব কুমার। যাতে প্রশ্ন উঠছে, যে পর্যবেক্ষণ রাজ্যের আমলাদের করা উচিত ছিল তা কেন্দ্রের আমলাদের দিল্লি থেকে বিশেষ বিমানে উড়ে এসে করতে হল কেন? তাহলে রাজ্যের আমলারা এই পরিস্থিতিতে করছেনটা কী?

শুক্রবার কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের এক জোড়া চিঠি খাওয়ার পর পড়িমরি করে মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালগুলির সুপার ও প্রিন্সিপ্যালদের ১১ দফা নির্দেশিকা পাঠিয়েছেন মুখ্যসচিব। তাতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের করা বেশ কয়েকটি অভিযোগ কার্যত মেনে নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার চিঠি দিয়ে বাঙুর হাসপাতাল ও নিউ টাউনের কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্রের বেশ কয়েকজন রোগীর ৫ দিন পরেও করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট আসেনি বলে মুখ্যসচিবকে জানায় কেন্দ্রীয় দল। এদিন মুখ্যসচিব হাসপাতালগুলিকে তাঁর নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, নমুনা সংগ্রহের ১২ ঘণ্টার মধ্যে তার ফল জানাতে হবে।

এছাড়া বাঙুর হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডে রোগীর মৃতদেহ দীর্ঘক্ষণ পড়ে থাকছে বলে জানান কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিরা। যার প্রেক্ষিতে রীতিমতো কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদলের বিদ্যেবুদ্ধি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ তথা IMA-র সভাপতি চিকিৎসক শান্তনু সেন। এদিন সেই অভিযোগও কার্যত মেনে নিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দেশিকায় মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, কোনও ওয়ার্ডে রোগীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে দেহ সেখান থেকে সরাতে হবে।

বেশ কয়েকদিন ধরে করোনা আতঙ্কে বিভিন্ন হাসপাতাল নতুন রোগী ভর্তি নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। এমনকী আসন্নপ্রসবাকে ফেরানোর অভিযোগ উঠেছে NRS মেডিক্যাল কলেজের বিরুদ্ধে। মুখ্যসচিব নির্দেশিকায় জানিয়েছেন, কোনও রোগী হাসপাতাল ফেরাতে পারবে না। এছাড়াও রোগীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা যাবে না। হাসপাতাল নিয়মিত স্যানিটাইজ করতে হবে। স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শন করতে হবে বলে জানানো হয়েছে নির্দেশিকায়।

প্রশ্ন হল, করোনা পরিস্থিতি ভয়াল আকার ধারণ করার পর ১ মাস কেটে গেল। চরম বিপর্যয় চলছে গোটা বিশ্বে। রোগীর সংখ্যা বাড়ছে এরাজ্যেও। তার মধ্যে কলকাতায় সংক্রমণ ছড়াচ্ছে ঝড়ের বেগে। এই পরিস্থিতিতে যে স্বাস্থ্য ভবনের আধিকারিকদের নিয়মিত হাসপাতাল পরিদর্শনে যেতে হবে তা বোঝাতে কেন্দ্র থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লির আমলাদের আসতে হল কেন?



বন্ধ করুন