বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > UNICEF: সমাজ উন্নয়ন নিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলির বক্তব্য সংকলিত করে পুস্তিকা প্রকাশ করবে ইউনিসেফ
ইউনিসেফের সাংবাদিক বৈঠক (নিজস্ব চিত্র)

UNICEF: সমাজ উন্নয়ন নিয়ে ধর্মগ্রন্থগুলির বক্তব্য সংকলিত করে পুস্তিকা প্রকাশ করবে ইউনিসেফ

  • হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের নেতাদের দিয়ে গর্ভধারণ, শিশু শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু পাচার ও গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর মতো সামাজিক সমস্যাগুলি নিয়ে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে প্রচার শুরু করেছে ইউনিসেফ।

বাল্য বিবাহ, কিশোরী বয়সে গর্ভধারণ, শিশু শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু পাচার ও গর্ভবতী মায়ের মৃত্যু মতো বিষয়গুলি রাজ্যে অনেকটাই কমলেও তাকে পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। পুরোপুরি নির্মূল করাটাও বেশ কঠিন কাজ। অনেকে আবার ধর্মের দোহাই দিয়ে এই বিষয়গুলিতে সীমারেখা টানেন। তা ভাঙতে অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে শিশু উন্নয়নে কর্মরত রাষ্ট্রসঙ্ঘের অনুমোদিত সংস্থা ইউনিসেফ (UNICEF)। বিভিন্ন ধর্মের গুরুদের দিয়ে এ নিয়ে প্রচার শুরু করেছে তারা।

হিন্দু, ইসলাম, খ্রিস্টান, শিখ, বৌদ্ধ এবং জৈন ধর্মের নেতাদের দিয়ে গর্ভধারণ, শিশু শিক্ষা, পুষ্টি, শিশু পাচার ও গর্ভবতী মায়ের মৃত্যুর মতো সামাজিক সমস্যাগুলি নিয়ে রাজ্যের গ্রামাঞ্চলে প্রচার শুরু করেছে ইউনিসেফ। এ ব্যাপারে তাদের সহযোগী সংস্থা হিসাবে রয়েছে আমানত ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট।

কেন এই উদ্যোগ জানালেন পশ্চিমবঙ্গ ইউনিসেফের প্রধান মোহাম্মদ মহিউদ্দিন। তাঁর কথায়, ‘‘পশ্চিমবঙ্গ বাল্যবিবাহ, কিশোরী বয়েসে গর্ভাবস্থা ও কিশোরী ছেলেমেয়েদের মধ্যে রক্তশূন্যতার মতো সমস্যা দূরীকরণে এখনও পিছিয়ে রয়েছে। এই সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ও সচেতনতা তৈরি করতে ধর্ম বড় রকমের সাহায্য করতে পারে। আমরা বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির সাহায্যে এ নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতে এবং রাজ্য যেখানে পিছিয়ে রয়েছে সে সব ক্ষেত্রে অগ্রগতি করার চেষ্টা করছি।’’

ধর্মগ্রন্থগুলি এই সামাজিক সমস্যাগুলির সমাধানে কী পরার্মশ দিয়েছে তা সংগ্রহ করে একটি পুস্তিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। যে পুস্তিকাটি বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হবে ওই ধর্মগুরুদের মাধ্যমে।

কেন এই উদ্যোগ? মহিউদ্দিনের যুক্তি, ‘‘মানুষ ধর্মীয় নেতাদের উপর অনেক বেশি আস্থা রাখেন। তাই তাঁদের মাধ্যমে যদি এই বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া যায় তবে সমাজের বৃহত্তর অংশের কাছে এর গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।’’

বাংলা, হিন্দি ও ইংরাজি—এই তিনটি ভাষায় পুস্তিকাটি তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গ ইউনিসেফের প্রধান। প্রতিটি ধর্মের জন্য আলাদা আলাদা করে এই পুস্তিকা প্রকাশিত হবে।

বন্ধ করুন