বাংলা নিউজ > ভোটযুদ্ধ ২০২১ > পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন 2021 > 'বামেদের নীতিবিরুদ্ধ কাজ করছিলেন বুদ্ধবাবু, তাই সিঙুরে নিজের দলেরই সমর্থন পাননি'
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

'বামেদের নীতিবিরুদ্ধ কাজ করছিলেন বুদ্ধবাবু, তাই সিঙুরে নিজের দলেরই সমর্থন পাননি'

  • জমি অধিগ্রহণের নীতি কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে সরকার, বণিকমহল ও কৃষকদের যৌথ কমিটি গঠন করলে সমস্যা মিটে যাবে বলে আশা করি।

ক্ষমতায় এলে কী ভাবে শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করবেন তাঁরা? এই নিয়ে আলোচনার সময় বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তাঁর দাবি, বামপন্থীদের নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে সিঙুরে শিল্পস্থাপনের চেষ্টা করেছিলেন বুদ্ধবাবু। তাই সফল হননি তিনি। 

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় একটি সংবাদমাধ্যমে সম্প্রচারিত সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন শাহ। রাজ্যে ক্ষমতায় এলে কী করে জমি অধিগ্রহণ করবে বিজেপির সরকার? এই প্রশ্নের উত্তরে শাহ বলেন, ‘জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত সমস্যা বহু রাজ্যেই রয়েছে। কিন্তু সেখানকার সরকার ল্যান্ড ব্যাঙ্ক তৈরি করেছে। তাছাড়া জমি অধিগ্রহণের নীতি কী হওয়া উচিত তা নির্ধারণ করতে সরকার, বণিকমহল ও কৃষকদের যৌথ কমিটি গঠন করলে সমস্যা মিটে যাবে বলে আশা করি। আলোচনার মাধ্যমে যে কোনও সমস্যার সমাধান সম্ভব বলে মনে করি। সরকারের ইচ্ছাশক্তিও একটা বড় ব্যাপার।’

এর পরই শাহকে প্রশ্ন করা হয়, সিঙুর আন্দোলনের সময়ও তো বুদ্ধদেববাবু অনেক আলোচনা করেছিলেন। কিন্তু সমস্যা মেটেনি। জবাবে শাহ বলেন, ‘ওনার দল ওনার পাশে ছিল না। বুদ্ধদেববাবু কমিউনিস্টদের নীতিবিরুদ্ধ কাজ করছিলেন। আমাদের পার্টিতে পরিস্থিতি তেমন নয়। আমরা মনে করি শিল্পায়নের ফলে কর্মসংস্থান তৈরি হয়। তবে কৃষকের জমির অধিগ্রহণে ভারসাম্য থাকা উচিত। কৃষকের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ পাওয়া উচিত। তার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হওয়া উচিত’।

২০০৬ সালে সিঙুর আন্দোলন দিয়ে রাজ্যে তৃণমূলের উত্থানের শুরু। শিল্পায়নের জন্য জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কৃষক বিক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে পরবর্তীতে মসনদে বসেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এর পর জোর করে কৃষকের কোনও জমি সরকার গ্রহণ করবে না বলে ঘোষণা করে তাঁর সরকার। সেই থেকে রাজ্যে বৃহৎ শিল্পের আগমন বন্ধ। গত ১০ বছরে পশ্চিমবঙ্গে কোনও শিল্প আনতে পারেনি তৃণমূল সরকার। যার ফলে কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যে যেতে হয়েছে লক্ষ লক্ষ যুবককে। 

 

বন্ধ করুন