বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > উদ্ধার অঙ্কুশের আপ্তসহায়কের ঝুলন্ত দেহ, সাইবার প্রতারণার শিকার ‘বাপ্পাদা’
উদ্ধার অঙ্কুশের আপ্তসহায়কের ঝুলন্ত দেহ
উদ্ধার অঙ্কুশের আপ্তসহায়কের ঝুলন্ত দেহ

উদ্ধার অঙ্কুশের আপ্তসহায়কের ঝুলন্ত দেহ, সাইবার প্রতারণার শিকার ‘বাপ্পাদা’

  • লাগাতার ব্ল্যাকমেল, ভিডিয়ো ফাঁস করে দেওয়ার হুমকি। মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মঘাতী পিন্টু দে, প্রাথমিক তদন্তে জানিয়েছে পুলিশ। 

মঙ্গলবার রাতেই নিজের ব্যক্তিগত সহকারীর মৃত্যুর খবর জানিয়েছিলেন অভিনেতা অঙ্কুশ হাজরা। কিন্তু কীভাবে মারা গিয়েছেন তাঁর প্রিয়া বাপ্পাদা, সেই নিয়ে কিছুই জানাননি তারকা। অবশেষে জানা গেল কাঁকুরগাছির নারকেলডাঙা রোডের বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে পিন্টু দে ওরফে বাপ্পাদার দেহ। বুধবার এই খবর জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়ায়। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের দাবি সাইবার প্রতারণার শিকার পিন্টু দে আত্মঘাতী হয়েছেন। 

খবর, একটি ভিডিয়ো দেখিয়ে দিনের পর দিন ব্ল্যাকমেল করা হত পিন্টু দে-কে। প্রতারক লালবাজারের এক পুলিশকর্তা সেজে হুমকি ফোন ও লাগাতার ব্ল্যাকমেল করছিল অঙ্কুশের আপ্তসহায়ককে। যদিও এইব্যাপারে ঘুণাক্ষরেও কিছু টের পাননি অঙ্কুশ হাজরা (Ankush Hazra)। মঙ্গলবার রাতে বছর ছত্রিশের পিন্টু দে ওরফে বাপ্পার দেহ ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করা হয় বাথরুম থেকে। ওইদিন রাতেই ইনস্টা পোস্টে বাপ্পাদার মৃত্যুসংবাদ জানিয়ে অঙ্কুশ লেখেন ‘বাড়ির ভেতর যেভাবে বাবা-মা আমার খেয়াল রাখেন ঠিক তেমনই বাড়ির বাইরে এই মানুষটি আমায় মা-বাবার মতোই খেয়াল রাখতে.. ১০ বছরের এই পথ চলা কোনোদিনও ভুলব না.. যেখানেই থেকো ভালো থেকো বাপ্পা দা..’। 

মঙ্গলবার নীলরতন সরকার মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয় পিন্টুর, এরপর বুধবার সকালে প্রয়াতর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে। এদিন অঙ্কুশ পৌঁছেছিলেন তাঁর আপ্তসহায়কের বাড়িতে। সেখানে পৌঁছে আক্ষেপের সুরে তিনি বলেন, ‘আগে টের পেলে পদক্ষেপ নিতাম। বাপ্পাদা কিছুই জানতে দিল না’। 'আত্মঘাতী' হওয়ার কয়েকঘন্টা আগেও অঙ্কুশের সঙ্গে কাজ করেছেন পিন্টু দে। একদম স্বাভাবিকভাবেই সব দায়িত্ব তিনি পালন করেছেন বলে জানান অঙ্কুশ। 

ভুয়ো পুলিশকর্তার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, এই নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। বাপ্পার পিসতুতো দাদা রাজু দাস জানিয়েছেন মৃত ভাইয়ের মোবাইল ফোন ঘেঁটে হোয়াটসঅ্যাপে দু’টি নম্বরে চ্যাটে স্পষ্টভাবে তাঁকে  ব্ল্যাকমেল করে বলা হয়েছে, ভিডিয়ো আপলোড করে দেওয়া হবে। বাপ্পা বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন ভিডিয়ো যাতে আপলোড না করা হয়। 

গত  এক মাস ধরে এই ব্ল্যাকমেলের প্রক্রিয়া চলছিল বলে জানা গিয়েছে।এই সময়ের মধ্যে দুই দফায় পিন্টু দে (ওরফে বাপ্পা) ৫ হাজার টাকা ও এক দফায় দশ হাজার টাকা ই-ওয়ালেটের মাধ্যমে জালিয়াতদের পাঠান। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের এক আধিকারিক সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ইন্টারনেটে ব্ল্যাকমেলের শিকার হয়ে মানসিক চাপে ভুগছিলেন পিন্টু। প্রাথমিক ভাবে এ সংক্রান্ত অনেক তথ্যই হাতে আমরা পেয়েছি। গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’ পুলিশ জানায়, পিন্টুর মোবাইল ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ঠিক কী ধরণের ভিডিয়োর জন্য তাঁকে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বন্ধ করুন