বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > অজান্তেই বিজেপির প্রচারমূলক গানে দর্শনা-বিশ্বাবসুরা! তৈরি হল বিভ্রান্তি
অজান্তেই হল এই ভুল? 
অজান্তেই হল এই ভুল? 

অজান্তেই বিজেপির প্রচারমূলক গানে দর্শনা-বিশ্বাবসুরা! তৈরি হল বিভ্রান্তি

  • বিজেপির প্রচার ভিডিয়োয় দর্শনা-বিশ্বাবসুদের উপস্থিতি ঘিরে বিভ্রান্তি। জানুন পুরো ঘটনা। 

একুশের ভোটকে পাখির চোখ করে সোনার বাংলা গড়ার ডাক তো আগেই দিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি। সেই লক্ষ্যেই প্রচারমূলক গানও বেঁধে ফেলেছে দল- ‘উন্নয়নের কাণ্ডারি হব, মন ভরা বিশ্বাস, কান্না ভুলে দু’হাত তুলে ধরব আজকে আকাশ’। মোদীর বিভিন্ন ঝলক উঠে এসেছে গানের ভিডিয়োয়, যা সম্প্রতি টুইটারে শেয়ার করেছিলেন দিলীপ ঘোষ। যদিও সেই গানের ভিডিয়োতে আচমকাই তাল কাটে। কারণ সেখানে দেখা যায় টলি-পাড়ার ৪ পরিচিত মুখ- দর্শনা, বিবৃতি, বিশ্বাবসু ও সোমরূপকে। প্রশ্ন জাগে তবে কি শীঘ্রই বিজেপির পতাকা হাতে তুলে নিচ্ছেন চারজনে? এমনতি দর্শনা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ নাকিয়া হিসাবেই পরিচিত। 

বিজেপির সেই প্রচারমূলক ভিডিয়োতে যে তাঁদের মুখ ভেসে উঠেছে এই নিয়ে একেবারেই কিছু জানতে না, চারজন শিল্পী। তবে যে ভিডিয়োটিতে দেখা গেল মনের আনন্দে ক্যামেরার দিকে ছুটে আসছেন তাঁরা। সেটা কীভাবে এল? 

এই ব্যাপারে আনন্দবাজার ডিজিট্যালকে তাঁরা জানিয়েছেন, ক্লিপিংটি একটি বিজ্ঞাপনী ভিডিয়োর অংশ। সেই বিজ্ঞাপন পরিচালনা করেছিলেন চন্দ্রবিন্দু খ্যাত গায়ক,গীতিকার তথা পরিচালক অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। এরপর অনিন্দ্যর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় বছর পাঁচেক আগে একটি রঙের সংস্থার জন্য দুর্গা পুজো স্পেশ্যাল শর্টফিল্ম বানিয়েছিলেন তিনি। সেই ‘পুজো এল ফিরে’ থেকেই সংগ্রহীত ওই অংশটি। সেই প্রচারমূলক ভিডিয়োতে দেখা মিলেছিল দর্শনা বণিক, বিবৃতি চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বাবসু বিশ্বাস ও সোমরূপ দাসের। 

অনিন্দ্যর সাফ বক্তব্য, ‘বিজেপি-র প্রচারে ওই বিজ্ঞাপনের অংশ ব্যবহৃত হয়েছে। এটা অনভিপ্রেত’। যদিও এটা ইচ্ছাকৃতভাবে করা হয়েছে সেই অভিযোগ করেননি পরিচালক। কপিরাইটের প্রশ্ন তোলা হলে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণরূপে সেই সংস্থার বিষয় যাঁদের হয়ে কাজটি তিনি করেছিলেন। 

দর্শনা বনিক, এব্যাপারে একেবারেই অবগত নন। শুধু জানিয়েছেন, রাজনীতিতে আসতে আপতত ইচ্ছুক নন তিনি। বছর ১০ পরে ভেবে দেখতে পারেন। নাম প্রকাশ না করলেও বললেন, একটি নির্দিষ্ট দলের সমর্থক তিনি। বাবুল সুপ্রিয়র ‘বহু যুগের ওপার হতে’ মিউজিক ভিডিয়োতে কাজ করেছেন। তিনিও একই সুরে বললেন, ‘ভিডিয়োটি দেখে নেতিবাচক ভাবনা আসছে না মনে’। বিশ্বাবসুও বিশ্বাস বলেন, ‘অন্য উদ্দেশ্যে বানানো একটি ছবির থেকে একটা অংশ তুলে নিয়ে অন্য কাজে লাগানোটা ঠিক নয়'। রাজনৈতিক দলের প্রচারমূলক ভিডিয়োর অজান্তে অংশ হয়েই খুশি নন সোমরূপ। 

ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিলেন সোমরূপ
ফেসবুকে ক্ষোভ উগরে দিলেন সোমরূপ

তাঁর কথায়, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে কোনও রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই, এবং হতেও চাই না। আর কোনও রাজনৈতিক দলের ভিডিয়ো ফুটেজে থাকতেও আমি চাই ননা। আমার বিরোধিতা আমি প্রকাশ্যে জানাচ্ছি’। 

বন্ধ করুন