বাংলা নিউজ > বায়োস্কোপ > সংসারে উৎকট ঝামেলা-অশান্তি তিনিই ডেকে আনেন, সামলায় গৌরী! মেনে নিয়েছিলেন শাহরুখ
১৯৯১ সালে গৌরীর সঙ্গে বিয়েটা সেরে ফেলেছিলেন শাহরুখ। (ছবি সৌজন্যে - হিন্দুস্তান টাইমস)

সংসারে উৎকট ঝামেলা-অশান্তি তিনিই ডেকে আনেন, সামলায় গৌরী! মেনে নিয়েছিলেন শাহরুখ

এক সাক্ষাতকারে শাহরুখ অকপটে জানিয়েছিলেন স্ত্রী গৌরী যেভাবে তাঁদের সংসার সামলায় তা এককথায় আশ্চর্য বললেও কম বলা হবে।

আজ ২রা নভেম্বর। আজ শাহরুখ খানের জন্মদিন। এদিন ৫৬-য় পা রাখলেন বলিউডের 'বাদশা'। অনেকে মজা করে বলেন হরেদরে শাহরুখ-ভক্তদের কাছে এদিন জাতীয় ছুটির সমান। তিন দশকেরও বেশি সময় বলিউডে কাটিয়েও আজও শাহরুখের জনপ্রিয়তা দেখে চোখ কপালে উঠতে হয়। তবে এত বড় তারকা হয়েও নজর কাড়ে তাঁর নম্রতা এবং বিনয়। শাহরুখের মিষ্টি স্বভাব এবং সুচারু কথাবার্তার গল্প পরিণত হয়েছে প্রাচীন অরণ্য প্রবাদে। অসংখ্য নারীদের হৃদয় কাঁপিয়েও তাঁর মতো একজন 'গ্লোবাল স্টার' আজও কীভাবে পরিবারের প্রতি এত নিবেদিতপ্রাণ তা এককথায় অবিশ্বাস্য লাগে বলিউড বিশেষজ্ঞদের কাছে। এই শাহরুখই একবার এক সাক্ষাতকারে অকপটে জানিয়েছিলেন তাঁর স্ত্রী গৌরী যেভাবে তাঁদের সংসার সামলায় তা এককথায় আশ্চর্য বললেও কম বলা হয়। বিশেষ করে তাঁর মতো একজন মানুষের সঙ্গে এক ছাদের তলায় বাস করাটা মোটেই সহজ কথা নয়।

২০১৭ সালে 'ফেমিনা'-কে দেওয়া ওই সাক্ষাকারে দ্বিধাহীনভাবে 'কিং অফ রোম্যান্স' জানিয়েছিলেন পরিবারে একমাত্র তাঁর জন্য নানান অশান্তি এদিক ওদিক থেকে ঢুকে পড়ে। হরেক রকম অনভিপ্রেত ঘটনার সম্মুখীন হতে হয় তাঁর পরিবারকে, যার দায় শুধুমাত্র তাঁর। এই 'ভুলভাল ঝামেলা'-র কারণেই অনেকসময় তাঁর পরিবারে শান্তি নষ্ঠ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবে পরিবারের সদস্যরা কটাক্ষের শিকার হন। শাহরুখ আরও বলেন তাঁর স্ত্রী গৌরীর যখন ১৪ বছর বয়স তখন থেকে তাঁকে তিনি চেনেন। সেই হিসেবে ৩৫ বছরের ওপর তাঁকে চেনা হয়ে গেল 'বাদশা'-র। সেই জায়গা থেকেই ব্যক্তি হিসেবে গৌরির প্রতি দারুণ শ্রদ্ধাশীল তিনি। বলি-তারকার যুক্তি, ‘একজন অভিনেতার সঙ্গে জীবন কাটানো মোটেই সহজ কথা নয়। ওঁর জন্য সাধারণ অনেক কিছু করতে আমি অক্ষম। আমার সঙ্গে বাড়ির বাইরে যেখানেই সে যাবে মানুষজন ছেঁকে ধরবে। ব্যক্তিগত সময় বলে কোনও শব্দের অস্তিত্ব থাকে না’।

শাহরুখ-গৌরী। (ছবি সৌজন্যে - ইউটিউব)
শাহরুখ-গৌরী। (ছবি সৌজন্যে - ইউটিউব)

এখানেই না থেমে শাহরুখ বলে ওঠেন, ' আমার কাণ্ডকারখানা অনেকসময় বাড়িতে অশান্তি বয়ে নিয়ে ইচ্ছে। ওয়াংখেড়ে তে ঝামেলার জন্য আমিই দায়ী ছিলাম। আমার ছেলেমেয়ে কিছুই করেনি। বরং বলা ভালো ছেলেমেয়েকে রক্ষা করতে আমি ব্যর্থ হয়েছি। সেখানে গৌরী কিন্তু সারাটাক্ষণ আমার পাশে থেকে সবটুকু সামলেছে। আগলে রেখেছিল। তাই এটুকু বলব আজ আমি যদি গৌরীর জায়গায় থাকতাম এসব কিছুই পারতাম না। আমার দ্বারা সত্যি এসব সামলানো যেত না!'

বক্তব্য শেষে মজার সুরে 'বাদশা'-র সংযোজন, ‘ সত্যি কথা বলতে কী আমি হচ্ছি মুখের ওপর গজিয়ে ওঠা সেই বাড়তি আঁচিলটার মতো। যাকে না পারবি ফেলতে না ইচ্ছে হবে রাখতে। স্রেফ মানিয়ে নিয়ে তাকে ভালোবাসতে হবে। এছাড়া আর যে কোনও উপায় নেই’।

বন্ধ করুন