বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > পুরুষদের মধ্যে দেখা দেয় প্রস্টেট ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যবেন না
মূত্র ত্যাগের সময় ব্যথা হলে বা সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মূত্র ত্যাগের সময় ব্যথা হলে বা সমস্যা দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

পুরুষদের মধ্যে দেখা দেয় প্রস্টেট ক্যানসার, এই ৬ লক্ষণ ভুলেও এড়িয়ে যবেন না

৬০ বছর বয়সের পর পুরুষদের শরীরে এই ক্যানসারের প্রকোপ দেখা যায়। সমস্যা হল প্রাথমিক পর্যায় এই ক্যানসারের কোনও লক্ষণ ধরা পড়ে না।

পুরুষদের শরীরে দানা বাঁধে এমন একটি সবচেয়ে সাধারণ ক্যানস্যার হল প্রোস্টেট ক্যানস্যার। ৬০ বছর বয়সের পর পুরুষদের শরীরে এই ক্যানস্যারের প্রকোপ দেখা যায়।সমস্যা হল প্রাথমিক পর্যায় এই ক্যানসারের কোনও লক্ষণ ধরা পড়ে না। শরীরের অন্য অংশে ছড়ানোর পর এর লক্ষণ প্রকাশ্যে আসে। এ কারণে কিছু নির্দিষ্ট সমস্যার প্রতি পুরুষদের সজাগ দৃষ্টি দিতে বলেন চিকিৎসকরা। 

দিল্লির অ্যাপোলো স্পেক্ট্রার ইউরোলজিস্ট ড: এস কে পাল এই ক্যানস্যার ও তাঁর আগাম সতর্কতা সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।

প্রস্টেট সংক্রান্ত কিছু তথ্য

ড: এস কে পাল জানান যে, ‘প্রস্টেট একটি ছোট আখরোটের আকারের গ্রন্থি, যা পুরুষের পেলভিক অংশে, মূত্রাশয়ের পাশে অবস্থিত। এই প্রস্টেট নানা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি সেমিনাল তরল উৎপন্ন করে, যা স্পার্মকে নারিশ করতে ও একে পরিবাহিত করতে সাহায্য করে।’

প্রাথমিক পর্যায় প্রস্টেট ক্যানস্যারকে চিহ্নিত করা যায় না। কারণ হাড় বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে না পড়া পর্যন্ত এর কোনও চোখে পড়ার মতো লক্ষণ দেখা পাওয়া খুব কঠিন। ড: এস কে পালের মতে ‘সচেতনতার অভাব, ছোটখাটো লক্ষণ এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা, পুরুষ ইগোর কারণে অস্বীকারের প্রবণতা, গুরুতর কিছু যেমন- মূত্রত্যাগেস সমস্যা দেখা না-দেওয়া পর্যন্ত বার্ষিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা এড়িয়ে যাওয়া, এর কারণ।’

প্রস্টেট ক্যানস্যারের কারণ

প্রেস্টেটের মধ্যে এই ক্যানস্যার দানা বাঁধে। এটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠলেও দ্রুত ছড়ায়। চিকিৎসক পালের মতে, ‘এ ধরনের ক্যানস্যারের কারণ এখনও জানা নেই, তবে এর জিনগত প্রবণতা সম্পর্কে জানা যায়। সাধারণথ জন সংখ্যার তুলনায়, কারও পরিবারের কোনও পুরুষ সদস্য প্রস্টেট ক্যানস্যারে আক্রান্ত হলে সেই পরিবারের পরবর্তী প্রজন্মের পুরুষ সদস্যের এই ক্যানস্যার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ১০ গুণ বেশি। তবে সচেতনতা এবং প্রাথমিক পর্যায় রোগ নির্ণয় করলে এর মোকাবিলা করা যেতে পারে।’

ড: এস কে পাল এই রোগের কিছু লক্ষণ সম্পর্কে জানিয়েছেন, যা উপেক্ষা করা উচিত হবে না—

১. মূত্র ত্যাগের সময় ব্যথা হলে বা সমস্যা দেখা দিলে দেরি না-করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কষ্টপূর্ণ মূত্রত্যাগ ও বীর্যপাত এই রোগের প্রধান লক্ষণ।

২. আবার রাতে বার বার মূত্রত্যাগ করলেও সাবধান হন। এটি বয়সজনিত প্রস্টেট গ্রন্থির বেড়ে যাওয়ার কারণে হতে পারে। আবার প্রস্টেট ক্যানসার দায়ী হতে পারে। সিরাম পিএসএ পরিমাপের একটি রক্ত পরীক্ষা করানোর মাধ্যমেই এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা যাবে। তাই বিলম্ব না-করে নিজের ইউরোলজিস্টের পরামর্শ নেবেন।

৩. মূত্য ত্যাগ আটকানো বা থামানো অথবা শুরু করতে সমস্যা হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

৪. কোনও পুরুষের যৌন জীবন যদি ইরেকটাইল ডিসফাংশানের কারণে বাধিত হয়, তা হলে এটি প্রস্টেট ক্যানসারের কারণে হয়ে থাকতে পারে।

৫. মূত্র বা বীর্যে রক্ত নিঃসৃত হওয়াও প্রস্টেট ক্যানসারের দিকে ইশারা করে। তবে ভয় পাবেন না। নিজের চিকিৎসকের পরামর্খশ নিয়ে এই সমস্যার আসল কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হন।

৬. মূত্রত্যাগে অক্ষমতা, প্রস্রাব চেপে রাখতে না-পারা, পেলভিক অংশে ফোলা ভাব, পা ও পায়ের পাতা অসাড় হয়ে যাওয়া। হাড়ে ব্যথা ও সামান্য আঘাত বা অন্য যে কোনও কারণেই হাড় সহজে ভেঙে যাওয়া এই ক্যানসারের অন্যতম কারণ।

বন্ধ করুন