বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > International Family Day: পরিবারের ভবিষ্যৎ কী? পরিবার বলে কি আর কিছু থাকবে না? প্রশ্নটি আজ দরকারি কেন
‘শাখা-প্রশাখা’ ছবির দৃশ্য। (প্রতীকী ছবি)
‘শাখা-প্রশাখা’ ছবির দৃশ্য। (প্রতীকী ছবি)

International Family Day: পরিবারের ভবিষ্যৎ কী? পরিবার বলে কি আর কিছু থাকবে না? প্রশ্নটি আজ দরকারি কেন

  • ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে পরিবার ব্যক্তিগত বা সামাজিক যে কোনও সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির সমীকরণ বদলে যাচ্ছে দিন কে দিন।

রণবীর ভট্টাচার্য

রবিবার বিশ্ব পরিবার দিবস। মানুষ একটি সামাজিক প্রাণী। মানব সভ্যতার উন্নতির অন্যতম একটি সূচক হল সুস্থ স্বাভাবিক পরিবার। অন্যান্য প্রাণীর মধ্যেও পরিবারের চল রয়েছে। কিন্তু সেখানে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গৌণ। বিজ্ঞানসম্মত ভাবে বলা হয়ে থাকে যে সুস্থ পরিবেশ এবং স্বাভাবিক পারিবারিক সম্পর্ক যে কোন ব্যাক্তির পূর্ণাঙ্গ বিকাশের জন্য একান্ত প্রয়োজন। প্রাকৃতিক বিপর্যয় বা কোনও ধরনের সমস্যার কারণে যদি কেউ পরিবার থেকে বিচ্যুত হয়, তখন একাধিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। ভারতের মতো তৃতীয় বিশ্বের উন্নয়নশীল দেশে পরিবার ব্যক্তিগত বা সামাজিক যে কোনও সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিন্তু পারিবারিক পরিস্থিতির সমীকরণ বদলে যাচ্ছে দিন কে দিন। আর্থ সামাজিক পরিবর্তন দায়ী এর জন্য। কিন্তু শুধুই কি তাই?

বিশ্বায়ন পূর্ববতী সময়ে যৌথ পরিবারকে বলা হত ভারতীয় সমাজের ভিত্তি। যৌথ পরিবারের সুযোগ সুবিধা আগের প্রজন্মের অনেকেই উপলব্ধি করতে পেরেছেন। বিশ্বায়নের ফলে নতুন চাকরির ক্ষেত্র তৈরি হল, দেশ নতুন করে প্রযুক্তি নির্ভর শিল্পায়নের মুখ দেখল। প্রয়োজন পড়ল এক জায়গা থেকে আরেক জায়গা যাওয়ার - ছোট ছোট পরিবারের মুখ দেখল ভারত। ছোট পরিবার মানেই সুখি পরিবার— এই ধরনের বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হলেও বাস্তবের মুখোমুখি হয়ে নতুন সমস্যার মুখোমুখি হতে হল কমবয়সী ভারতীয়দের। গার্হস্থ্য হিংসা কমল না, আর্থিক বোঝা কমে গেল সেটাও স্পষ্ট করে বলা চলে না। তবে কোভিড নতুন করে প্রশ্নচিহ্ন এনে দিল পরিবারের ভিত্তির উপর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বেকারত্বের হার চিন্তায় ফেলার মতো। বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতিতে নাকানিচোবানি খাচ্ছে গড়পড়তা মানুষ। বেসরকারি স্বাস্থ্যক্ষেত্রে সাধারণ পরিষেবা আমজনতার নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। শিক্ষার দিকটিও খুব আলাদা নয়। এর ফলে পরিবারে খরচের জায়গা বাড়লেও রোজগার বাড়ছেনা। পরিবারে সংঘাত বাড়ছে, সমাধান হচ্ছে না, নৈরাশ্য ঘিরে ধরছে। অনেকেই বিবাহ বিচ্ছেদকে অন্য আঙ্গিকে দেখেন কিন্তু এই পরিস্থিতিতে বিচ্ছেদের সংখ্যা বাড়ছে অনেকটাই। সব মিলিয়ে মধ্যবিত্ত এবং নিম্নবিত্ত পরিবারবর্গ কঠিন সময়ের মুখোমুখি। বিশ্বায়নের পরবর্তী সময়ে অর্থের জোগান যেই সাময়িক সুখের ইঙ্গিত দিয়েছিল, আজকের বাজার অর্থনীতি ঠিক তার উল্টো। তাই বর্তমান সময়ে পরিবারের ভিত্তিকে শক্তপোক্ত করাই মূল লক্ষ্য। এর জন্য দরকার একে অন্যের উপর বিশ্বাস ও বোঝাপড়া। আজ আন্তর্জাতিক পরিবার দিবসে সুস্থ ও সুখী পরিবারের সংকল্পই বেঁচে থাকার গান হয়ে উঠেছে।

বন্ধ করুন