বাংলা নিউজ > টুকিটাকি > Mother's Day 2022: সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের প্রতি ভালোবাসার বন্যা, ওদিকে বৃদ্ধাশ্রমে বাড়ছে ভিড়
মায়েরা কি আসলে আরও একা হয়ে যাচ্ছেন?
মায়েরা কি আসলে আরও একা হয়ে যাচ্ছেন?

Mother's Day 2022: সোশ্যাল মিডিয়ায় মায়ের প্রতি ভালোবাসার বন্যা, ওদিকে বৃদ্ধাশ্রমে বাড়ছে ভিড়

  • ৮ মে মাতৃ দিবসে সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়া ভরে গিয়েছে মায়ের প্রতি ভালোবাসার দেখানোর বার্তায়। অন্যদিকে বাড়ছে বৃদ্ধাশ্রমে মা-বাবাদের ভিড়। 

রণবীর ভট্টাচার্য

রবিবার মা দিবস। ফেসবুক-সহ আজ সোশ্যাল মিডিয়া জুড়ে আজ মায়ের সঙ্গে নিজস্বী দেওয়ার হিড়িক সর্বত্র। ছোটবেলার ছবি থেকে বড়বেলার ছবি, সাদা কালো থেকে রঙিন, আজ যেন সোশ্যাল মিডিয়া জিয়া নস্টালের দিন। কিন্তু সবই যদি এত ভালো থাকে, গুরুজনের প্রতি শ্রদ্ধায় ও ভালোবাসায় নবীন প্রজন্মের দায়িত্বজ্ঞান অটুট থাকে, তাহলে ভারতে লাফিয়ে লাফিয়ে বৃদ্ধাশ্রমের সংখ্যা বাড়ছে কেন?

একটু সংখ্যার দিকে চোখ রাখা যাক! গত বছরের হিসেব অনুযায়ী ভারতে সব মিলিয়ে রয়েছে ৭২৮টি বৃদ্ধাশ্রম। এর মধ্যে তথা অনুযায়ী ৩২৫টিতে বিনামূল্যে থাকা যায়, ১১০ টিতে টাকা দিয়ে বা না দিয়ে থাকার সুযোগ রয়েছে। কেরালা, যদি রাজ্যের সবচেয়ে সাক্ষরতার হার নিয়ে আমাদের গর্বে বুক ফুল ওঠে, সেখানে দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি তথা ২৭৮টি বৃদ্ধাশ্রম রয়েছে। আমাদের বাংলা রয়েছে দ্বিতীয় স্থানেই, ১৬৪টি বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে। তারপর একে একে রয়েছে তামিলনাডু, মহারাষ্ট্র, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, গুজরাট.. উন্নয়ন যেখানে দৌড়ে দৌড়ে এগোচ্ছে। ২০১৭-১৮ সালে একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল যে বৃদ্ধাশ্রমে থাকা মানুষের সংখ্যা বেড়েছে ১৮,০৫৭ থেকে ২৬,৭২৮। আমাদের রাজধানী দিল্লিতে পুরো জনসংখ্যার ১০ শতাংশ সিনিয়র সিটিজেনরা। সব মিলিয়ে ১.৮৬ কোটির কাছাকাছি। দু’টি সরকার চালিত বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে রয়েছে ৪৮টি বৃদ্ধাশ্রম। যেগুলো কিছু এনজিও ও ট্রাস্ট চালিয়ে আসছে।

আর পাশের দেশ পাকিস্তানে কিন্তু আপাতত কোনও বৃদ্ধাশ্রম নেই।

অনেকেই আর্থ সামাজিক কারণ দেখাবেন, বদলে যাওয়া পৃথিবীর স্বঘোষিত নিয়ম কানুনের কথা বলবেন, কিন্তু বাবা মাকে দূরে পাঠিয়ে দেওয়ার প্রবণতা কি অস্বীকারের উপায় রয়েছে? ভারতের মতো দেশে পেনশনের ব্যবস্থা তথৈবচ, ৬০ পেরোলে সরকারি চাকুরিজীবীরা খালি পেনশন পেয়ে থাকেন। অসংগঠিত ক্ষেত্রে টাকা বাঁচানোর জায়গা নেই বললেই চলে। ব্যাঙ্কে স্বল্প সঞ্চয়ে সুদের যা হার, তাতে জমানো টাকা দিয়ে সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজারের অগ্নিমূল্যের মধ্যে। এর সঙ্গে চিকিৎসার খরচ বেড়েছে অনেক, যেখানে ৬০ বছরের পর বিমার খরচ ভারতে যথেষ্ট বেশি। মানুষের গড় আয়ু বেড়েছে অনেকটাই। এই অবস্থায় দেশে বৃদ্ধাশ্রম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার প্রবণতা দেখা দিচ্ছে। তথ্য অনুসারে ভারতে প্রতি বছর ২৫ শতাংশ করে বৃদ্ধাশ্রম বেড়ে চলেছে।

মা দিবস বা বাবা দিবসের একটি কঠিন বাস্তব হল, পশ্চিমি সংস্থাগুলোর বাজার ধরার গিমিক। বদলে যাওয়া পৃথিবীতে কি বয়স হলেই পরিবার থেকে আলাদা থাকার মনের জোর আনতে হবে এই প্রজন্মের বাবা মাকে? না এটাই বাজার অর্থনীতির বাস্তব হিসেবে মেনে নিতে হবে? ইউরোপ কিন্তু আগের চেয়ে ভেবেছে অনেক, সেই অনুযায়ী প্ল্যান করেছে। কিন্তু আমাদের এখানে কি এই নিয়ে ভাবা হচ্ছে? এই মা দিবস অনেক প্রশ্ন মনে করিয়ে দিয়ে গেল আবার।

বন্ধ করুন