বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ‌ডাস্টবিনে পড়ে করোনা টিকার ৫০০ ভায়াল, তদন্তের নির্দেশ রাজস্থান সরকারের
‌ডাস্টবিনে পড়ে করোনা টিকার ৫০০ ভায়াল, তদন্তের নির্দেশ রাজস্থান সরকারের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ব্লুমবার্গ)
‌ডাস্টবিনে পড়ে করোনা টিকার ৫০০ ভায়াল, তদন্তের নির্দেশ রাজস্থান সরকারের। (ছবিটি প্রতীকী, সৌজন্য ব্লুমবার্গ)

‌ডাস্টবিনে পড়ে করোনা টিকার ৫০০ ভায়াল, তদন্তের নির্দেশ রাজস্থান সরকারের

কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১১ লাখ ৫০ হাজার ভ্যাকসিন ডোজ নষ্ট করেছে রাজস্থান।

ডাস্টবিনের মধ্যে পড়ে রয়েছে ৫০০টি ভ্যাকসিনের ভায়াল। কোনওটায় অর্ধেকটা রয়েছে, কোনওটায় আবার একটু কম। সারাদেশে যখন ভ্যাকসিনের চাহিদা তুঙ্গে, তখন রাজস্থানে এই ধরনের ঘটনা প্রকাশ্যে আসায় স্বভাবতই অস্বস্তিতে প্রশাসন।ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজস্থান সরকার।

রাজস্থানের বুন্দিতে একটি ভ্যাকসিনেশন সেন্টারের কাছে রাখা ডাস্টবিনে দেখা যায়, তাতে ভ্যাকসিনশুদ্ধ বেশ কয়েকটি ভায়াল পড়ে রয়েছে।এরপরেই এই ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক।কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষবর্ধন চিঠি পাঠায় রাজস্থান সরকারকে।কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ভ্যাকসিনের অপচয় কোনওভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।এরপরেই তড়িঘড়ি বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শুরু করে রাজস্থান প্রশাসন।

এই প্রসঙ্গে বুন্দির স্বাস্থ্যকর্মী শিমলা গোস্বামী জানান,‘‌আমরা একটি ভায়াল থেকে সবচেয়ে বেশি ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করি।’‌ রাজস্থানের স্বাস্থ্য আধিকারিকদের দাবি, একটি ভায়াল থেকে ১০–১২ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায়।একটি ভায়াল খোলার পর ৪ ঘণ্টা রাখা যায়।৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলে ভ্যাকসিন থাকলেও সেই ভায়াল থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া যায় না।তবে এখন পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে রাজস্থান সরকার।রাজস্থান সরকারের তরফে অবশ্য জানানো হয়েছে, মাত্র ২ শতাংশ ভায়াল নষ্ট হয়েছে।তবে কেন্দ্রের স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছে, ১৬ জানুয়ারি থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ১১ লাখ ৫০ হাজার ভ্যাকসিন ডোজ নষ্ট করেছে রাজস্থান।শতাংশের বিচারে ২৫ শতাংশ ভ্যাকসিন ডোজ নষ্ট হয়েছে।

কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে এই ধরনের ঘটনা ঘটায় ইতিমধ্যে সমালোচনায় সরব হয়েছেন বিজেপির আইটি সেলের প্রধান অমিত মালব্য।টুইটে তিনি বলেছেন,‘‌রাজস্থানে করোনার ভ্যাকসিন আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়া হচ্ছে।একদিকে রাহুল গান্ধী রোজ ভ্যাকসিন নিয়ে উপদেশ দেন, অন্যদিকে কংগ্রেস সরকার ভ্যাকসিন নষ্ট করে।করোনার বিরুদ্ধে লড়াইকে দুর্বল করছে কংগ্রেস।’‌

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এখনও পর্যন্ত সবথেকে বেশি ভ্যাকসিন অপচয় হয়েছে ঝাড়খণ্ডে।প্রায় ৩৭ শতাংশ।এরপরেই ছত্তিশগড়ে ৩০ শতাংশ ভ্যাকসিন নষ্ট হয়েছে।ছত্তিশগড়ের পর তামিলনাডুতে ১৬ শতাংশ ভ্যাকসিন অপচয় হয়েছে।পাশাপাশি জম্মু-কাশ্মীর ও মধ্যপ্রদেশে প্রায় ১১ শতাংশ ভ্যাকসিন অপচয় হয়েছে।বিজেপি যখন কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে সরব, তখন উত্তরপ্রদেশের আলিগড়ে ভ্যাকসিন নষ্টের অভিযোগ উঠেছে।উত্তরপ্রদেশ বিজেপি শাসিত রাজ্য।আলিগড়ের জামালপুরে একটি বর্জ্য ফেলার জায়গা থেকে ভ্যাকসিন ভরা ২৯টি সিরিঞ্জ পাওয়া গিয়েছে।

বন্ধ করুন