বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > ব্ল্যাক ফাংগাসের ওষুধ ‘অ্যামফোটেরিসিন বি’ উত্পাদন বৃদ্ধিতে আলোচনায় কেন্দ্র
ফাইল ছবি (এডিটেড) : পিটিআই  (PTI)
ফাইল ছবি (এডিটেড) : পিটিআই  (PTI)

ব্ল্যাক ফাংগাসের ওষুধ ‘অ্যামফোটেরিসিন বি’ উত্পাদন বৃদ্ধিতে আলোচনায় কেন্দ্র

এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই এই ওষুধের নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে কেন্দ্র। ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই উত্পাদন বৃদ্ধি হবে।

করোনা পরিস্থিতিতে ক্রমেই চিন্তা বাড়াচ্ছে মিউকরমাইকোসিস (Black Fungus) সংক্রমণ। আর তার নিরাময়ে অ্যামফোটেরিসিন বি ওষুধ সুপারিশ করছেন চিকিত্সকরা। হঠাত্ই এই ওষুধের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর সেই কারণেই এবার কেন্দ্রীয় সরকার এই ওষুধদের উত্পাদন বৃদ্ধির দিকে নজর দিল।

শীঘ্রই বাড়বে উত্পাদন

ফাইল ছবি : ব্লুমবার্গ
ফাইল ছবি : ব্লুমবার্গ (Bloomberg)

এ বিষয়ে ইতিমধ্যেই এই ওষুধের নির্মাতা সংস্থাগুলির সঙ্গে আলোচনা করছে কেন্দ্র। ওয়াকিবহাল মহল সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই উত্পাদন বৃদ্ধি হবে। ফলে বিভিন্ন রাজ্যে যে চাহিদা, তা পূরণ হবে।

মজুত ওষুধের সঠিক বন্টন

পিআইবি সূত্রে খবর, আগামী ৩১ মে-র মধ্যেই এই ওষুধের সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে। নির্মাতা-আমদানিকারক সংস্থাগুলির কাছে বর্তমানে মজুত অ্যামফোটেরিসিন বি-র বিষয়ে জানতে চায় কেন্দ্র। সে বিষয়ে পর্যালোচনার পর ফার্মা বিভাগ গত ১১ মে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চাহিদার ভিত্তিতে এই ওষুধ বরাদ্দ করেছে।

রাজ্যগুলিকেও সমবন্টনের আর্জি কেন্দ্রের

শুধু তাই নয়, রাজ্যগুলিকে এই ওষুধ সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানগুলিতে চাহিদানুসারে বন্টনের আর্জি জানিয়েছে কেন্দ্র। তাছাড়া বিভিন্ন রাজ্যে মজুত অ্যামফোটেরিসিন বি যাতে সঠিকভাবে বন্টন হয়, সেই অনুরোধও জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি, ওষুধের দাম নির্ধারণকারী জাতীয় সংস্থা (এনপিপিএ) এই ওষুধ সরবরাহের ব্যাপারে কড়া নজর রাখছে।

করোনায় বাড়তি চিন্তা ব্ল্যাক ফাংগাস

মিউকরমাইকোসিসের বিস্তারে এখন চিন্তিত দেশের স্বাস্থ্যমহল। স্বাস্থ্যকর্মীদের মতে, এই রোগ দ্রুত ধরা পড়লে চিকিত্সার সমস্ত ব্যবস্থা করাই সম্ভব। কিন্তু সঠিক সময়ে ট্রিটমেন্ট না হলে ৮০% ক্ষেত্রেই রোগীর মৃত্যু হয়। তাছাড়া দৃষ্টিশক্তি বিলোপ, মুখের পেশি হারানোর মতো মারাত্মক প্রভাব এই সংক্রমণে।

ওড়িশায় প্রথম এক ৭১ বছর বয়সী ডায়াবেটিক করোনা রোগীর দেহে এর হদিশ মেলে। এরপর থেকে মহারাষ্ট্র ও গুজরাতেও করোনা রোগীদের মধ্যে ব্ল্যাক ফাংগাসের খবর এসেছে।

কাদের আশঙ্কা বেশি?

করোনা আক্রান্ত রোগীর শারীরিক অবস্থা গুরুতর হলে অনেকক্ষেত্রে তাঁদের স্টেরয়েড প্রয়োগ করাতে হচ্ছে। সেই স্টেরয়েড রক্তে শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। কিছু ওষুধ রোগীর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার উপরেও প্রভাব ফেলে। এই অবস্থায় ছত্রাকের সংক্রমণ বাড়ছে। ভেজা, স্যাঁতস্যাঁতে স্থানে মিউকর নামে এক ছত্রাক জন্মায়। তার প্রভাবেই রোগ।

তাঁর কথায় করোনা থেকে সুস্থ হওয়া কোনও রোগীর যদি কোমর্বিডিটি থাকে, অর্থাৎ তাঁদের ডায়াবেটিস, কিডনি কিনবা হার্টের সমস্যা থাকে, ক্যান্সার প্রভৃতি সমস্যা থাকে তাঁদেরও এই ছত্রাক দ্বারা সংক্রমিত হওয়ার সম্ভবনা বেশি।

এর কিছু লক্ষণ হল মাথা যন্ত্রণা, জ্বর, চোখের নিচে ব্যাথা, নাক বা সাইনাস বন্ধ হয়ে আসা, দৃষ্টিশক্তি বিলোপ।

বন্ধ করুন