বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > দগ্ধ অবস্থায় ১ কিমি দৌড়েছিলেন উন্নাওয়ের নিগৃহীতা, ডাইনি সন্দেহে এগোননি কেউ
এখানেই ওই তরুণীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)
এখানেই ওই তরুণীর গায়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল (ফাইল ছবি, সৌজন্য পিটিআই)

দগ্ধ অবস্থায় ১ কিমি দৌড়েছিলেন উন্নাওয়ের নিগৃহীতা, ডাইনি সন্দেহে এগোননি কেউ

সাহায্যের আর্তি নিয়ে স্টেশন থেকে গৌরা পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ান উন্নাওয়ের নিগৃহীতা। কিন্তু, ডাইন সন্দেহে প্রথমে কেউ এগিয়ে আসেননি।

সারা দেহে জ্বলছে আগুন। সাহায্যের আর্তি জানিয়ে পাগলের মতো রাস্তা দিয়ে দৌড়াচ্ছেন তরুণী। কিন্তু, পোড়া চামড়া দেখে তাঁকে ডাইনি ভেবে বসেন গ্রামবাসীরা। ভয়ে তরুণীর কাছেও ঘেঁষেননি কেউ। এরকমভাবে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ান উন্নাওয়ের নিগৃহীতা ওই তরুণী। তারপরে মেলে সাহায্য। কিন্তু, শেষরক্ষা হয়নি। গতরাতে হাসপাতালে মৃত্যু হয় তাঁর।

গত বছর ডিসেম্বরে দুই যুবকের বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ তোলেন উন্নাওয়ের ওই তরুণী। প্রথমে অভিযোগ নিতে চায়নি পুলিশ। মাসতিনেক পর দায়ের করা হয় অভিযোগ। পরে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে পুলিশ। দিনদশেক আগে জামিন পায় এক অভিযুক্ত। অন্যজনকে পুলিশের খাতায় পলাতক দেখানো হয়েছিল।

এরইমধ্যে বৃহস্পতিবার সকালে মামলার শুনানিতে হাজিরা দিতে রায়বরেলি যাচ্ছিলেন। বৈশ্বর বিহার রেলস্টেশনে যাওয়ার পথে নিগৃহীতাকে বাধা দেয় দুই অভিযুক্ত যুবক-সহ পাঁচজন। প্রথমে ওই তরুণীকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, জ্বলন্ত অবস্থায় সাহায্য চেয়ে প্রায় এক কিলোমিটার দৌড়ে যান ওই তরুণী।

কিন্তু, ডাইনি ভেবে তাঁর সাহায্যে কেউ আসেননি কোনও গ্রামবাসী। শেষপর্যন্ত অনেক চেষ্টায় স্থানীয় একটি গ্যাসের গোডাউনের নিরাপত্তারক্ষী বোঝান, তিনি ডাইনি নন। সেই দৃশ্য ভেবে এখনও শিউরে ওঠেন রবীন্দ্র প্রকাশ সিং নামে ওই রক্ষী। তিনি বলেন, "গবাদি পশুদের জন্য খাবারের বন্দোবস্ত করছিলাম আমি। সেই সময় রাস্তার দিকে থেকে একটা চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাই। তিনি (তরুণী) কাছে আসতেই ডাইনি ভেবে আমি ভয়ে কাঁপছিলাম।"

একগ্রাস আতঙ্ক নিয়ে রবীন্দ্র জানান, বাঁচার আকুতি নিয়ে সাহায্য চান তরুণী। দয়া করে আমায় বাঁচাও, আমায় সাহায্য কর। তিনি এক হাতে একটি ছোটো ব্যাগ ও অন্য হাতে ফোন ধরে ছিলেন। নিজের বাবার নামও জানান ওই তরুণী। শেষপর্যন্ত আশ্বস্ত হন রবীন্দ্র। তিনি আগুন নিভিয়ে রাজ্যের জরুরি পরিষেবা বিভাগে খবর দেন। একজন অপারেটরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন তরুণী। পুরো ঘটনাটির বিবরণ দেন। রবীন্দ্র বলেন, "ফোনটা আমি ওঁর মুখের কাছে রেখেছিলাম যাতে ওপারে যিনি আছেন তিনি কথা শুনতে পান।"

সেই সময় সেখানেই ছিলেন রবীন্দ্রের স্ত্রী সীতাদেবী। তিনি বলেন, “ওঁর অবস্থা দেখে আমি ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। সাহায্যের জন্য ওঁর আর্তি শুনতে পেয়েছিলাম শুধু। আর কিছু না"। একই অবস্থা রবীন্দ্রের। এখনও তাঁর কানের কাছে ভাসছে তরুণীর আর্তনাদ, বাঁচার আকুতি - "ওরা আমায় খুন করতে চাইছে। দয়া করে সাহায্য করুন।"

বন্ধ করুন