বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > জোড়হাট বিমানবন্দরেই ‘আটক’, নাগাল্যান্ডে যেতেই দেওয়া হল না কংগ্রেস সাংসদদের
কংগ্রেস সাংসদ গৌরব গগৈ, জিতেন্দ্র সিং আলওয়ার ও অজয় কুমার (ছবি সৌজন্যে এএআই) (ANI)

জোড়হাট বিমানবন্দরেই ‘আটক’, নাগাল্যান্ডে যেতেই দেওয়া হল না কংগ্রেস সাংসদদের

  • নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় যেতে চেয়েছিলেন গগৈরা।

অসমের সাংসদ গৌরব গগৈয়ের নেতৃত্বে কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল বুধবার নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় যেতে চাইলে তাঁদের আটকানো হয়। বুধবার বিকেলে জোরহাট বিমানবন্দরেই থামানো হয়েছিল তাঁদের। নিরাপত্তাবাহিনীর গুলিতে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতেই নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় যেতে চেয়েছিলেন গগৈরা। তবে তাঁদের যেতে দেওয়া হয়নি।

বাধাপ্রাপ্ত হয়ে জোরহাট বিমানবন্দরেই অবস্থান বিক্ষোভে বসে পড়েন গগৈ ও কংগ্রেসের অন্য সাংসদরা। সেই ছবি নিজে পরে টুইটারে পোস্ট করেন কংগ্রেস সাংসদ। গগৈ ছাড়াও কংগ্রেস প্রতিনিধি দলে ছিলেন কংগ্রেস সাংসদ জিতেন্দ্র সিং আলওয়ার ও অজয় কুমার। তাঁদের সবাইকেই জোরহাট বিমানবন্দরের ‘ডিপারচার’ গেটের সামনে মেঝেতে বসে থাকতে দেখা যায়।

টুইটে গগৈ লেখেন, ‘জোরহাটে কংগ্রেস প্রতিনিধিদলের বেআইনি আটকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় যেতে আমাদের বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে (অবস্থান বিক্ষোভ করছি আমরা)।’ অপর এক টুইটে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মাকে ট্যাগ করে গগৈ লেখেন, ‘কংগ্রেস প্রতিনিধি দলকে জোরহাটে আটক করা হয়েছে। অসম পুলিশ আমাদেরকে অসমের জোড়হাটে আটকে রাখার এবং নাগাল্যান্ডের মোন জেলায় যেতে বাধা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। কেন আমাদের নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না?’

উল্লেখ্য, গত শনিবার অর্থাৎ ৪ ডিসেম্বর নাগাল্যান্ডের মন জেলায় সুরক্ষাবাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় ৬ জনের৷ তার জেরে অশান্তি এবং গ্রামবাসীর সেনার উপর আক্রমণের ঘটনায় মৃত্যু হয় আরও ৮ জন গ্রামবাসীর৷ সেই ঘটনায় রিপোর্ট তলব করে নোটিস ইস্যু করে মানবাধিকার কমিশন৷ সেই নোটিস পাঠানো হয়েছে কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা সচিব, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, নাগাল্যান্ডের মুখ্য সচিব এবং সেরাজ্যের ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশকে৷ এদিকে ঘটনার প্রেক্ষিতে অমিত শাহ নিজেও বিবৃতি পেশ করেছেন সংসদে৷ তাঁর দাবি, নিরাপত্তারক্ষীরা সংশ্লিষ্ট গাড়িকে থামতে বলে, তবে সেটি না থামায় সন্দেহের বসে গাড়িটিকে তাড়া করে গুলি চালানো হয়েছিল৷ যদিও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে গাড়িটির দিকে সামনে থেকে গুলি চালানো হয়৷ তাড়া করা হলে গুলি পিছন থেকে হওয়ার কথা ছিল৷ তাছাড়া সংশঅলিষ্ট স্থানে কোনও চেকপোস্ট ছিল না, তাই গাড়ি দাঁড় করানোর প্রশ্নও ওঠে না৷ সেনা ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে৷ বিরোধীরাও এই নিয়ে ক্রমেই সুর চড়াচ্ছেন৷

 

 

 

বন্ধ করুন