জিন্নাকে রাজাগোপালাচারীর কথায় প্রশ্রয় দিতেন গান্ধী, দাবি নটবরের।
জিন্নাকে রাজাগোপালাচারীর কথায় প্রশ্রয় দিতেন গান্ধী, দাবি নটবরের।

ভাগ্যিস ভারত ভাগ হয়েছিল! জিন্নার নিন্দায় মুখর প্রবীণ কংগ্রেস নেতা নটবর সিং

  • স্বাধীনতার প্রাক্কালে জিন্নার নেতৃত্বে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে মুসলিমদের উদ্দেশে ‘প্রত্যক্ষ সংঘাতের’ ডাক দেয় মুসলিম লিগ। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট এমনই এক প্রত্যক্ষ সংঘাতপূর্ণ দিনে কলকাতার রাস্তায় হিন্দু-মুসলমান সংঘর্ষে মৃত্যুর ঢল নামে।

ভারত ভাগ হয়েছিল বলে আমি খুশি। না হলে দেশকে এগিয়ে যাওয়ার পথে নিরন্তর বাধা সৃষ্টি করে যেত মুসলিম লিগ এবং সে ক্ষেত্রে ‘প্রত্যক্ষ সংঘাতের দিন’ সংখ্যায় বাড়ত। রবিবার নয়াদিল্লিতে এই মন্তব্য করেন বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা কে নটবর সিং।

সাংবাদিক তথা রাজ্যসভার সাংসদ এম জে আকরের নতুন বই ‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল এগেনস্ট জিন্না’স ইসলাম’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে এসে তাঁর ভাষণে মহম্মদ আলি জিন্নার জীবদ্দশায় অখণ্ড ভারতে সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষে কয়েক হাজার হিন্দুর মৃত্যুর উল্লেখ করেন নটবর।

স্বাধীনতার প্রাক্কালে জিন্নার নেতৃত্বে পৃথক মুসলিম রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে মুসলিমদের উদ্দেশে ‘প্রত্যক্ষ সংঘাতের’ ডাক দেয় মুসলিম লিগ। ১৯৪৬ সালের ১৬ অগস্ট এমনই এক প্রত্যক্ষ সংঘাতপূর্ণ দিনে কলকাতার রাস্তায় হিন্দু-মুসলমান সংঘর্ষে মৃত্যুর ঢল নামে। মুসলিম লিগ সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়া নটবর সিং ১৯৮৬ সালের ২ সেপ্টেম্বর ভারতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের উল্লেখও করেন। তিনি বলেন, সেই সরকারে প্রথমে যোগ দিতে না চাইলেও পরে নবগঠিত ক্যাবিনেট অফ কাউন্সিলের সমস্ত প্রস্তাব ভণ্ডুল করে দিতেই তাতে অংশগ্রহণ করে লিগ।

নটবর সিংয়ের ব্যখ্যা, ‘বৃহত্তর প্রেক্ষিতে ভেবে দেখলে বুঝতে পারবেন, ভারত ভাগ না হলে প্রশাসনকে কী ভাবে নিরন্তর উত্যক্ত করে যেত মুসলিম লিগ, যার জেরে দেশ চালনা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত। প্রতি সপ্তাহে অচল হত সরকারি উদ্যোগ।’

নটবর আরও বলেন, ‘ওদের সঙ্গে বসবাস করা অসম্ভব হয়ে পড়ত। কারণ, গান্ধীজির নীতি ছিল অতি উচ্চমার্গের এবং জিন্নার মানসিকতা এতই ধ্বংসাত্মক যে, আমার পক্ষে ওদের সঙ্গে চলা মুশকিল হত।’

একই সঙ্গে ৮৮ বছরের কংগ্রেস নেতা মনে করিয়ে দেন, উপস্থিত শ্রোতাদের মধ্যে তিনিই হয়তো একমাত্র ব্যক্তি, যিনি মহাত্মা গান্ধীকে জীবিত দেখেছেন। তাঁর মতে, দেশের শেষ গভর্নর জেনারেল সি রাজাগোপালাচারীর চাপাচাপিতে জিন্নাকে প্রশ্রয় দিতেন গান্ধী।

কে নটবর সিং জানান, ‘জিন্না বহু বছর ধরে কংগ্রেস সদস্য ছিলেন। কিন্তু গান্ধীজি উদয় হওয়ার পরে নিজের অসহযোগ নীতি নিয়ে তিনি মানিয়ে নিতে অসুবিধায় পড়েন। ১৯২৮ সালে শেষ পর্যন্ত তিনি আইনজীবী হওয়ার উদ্দেশে জিন্না লন্ডন পাড়ি দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর সম্পর্েকর ইতি ঘটে। তিনি তখন ব্যক্তিগত রাজনৈতিক ভবিষ্যতের স্বপ্নে মশগুল।’

এ দিনের অনুষ্ঠানে এম জে আকবরের সাম্প্রতিক বইটির প্রশংসা করেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল। বইটি ‘সুলিখিত’ এবং ‘গভীর গবেষণার ফল’ বলে মন্তব্য করেন প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। তিনি জানান, দেশভাগের ইতিহাস অধ্যয়ন করতে চাইলে আকবরের বইটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক গ্রন্থ হিসেবে বিবেচিত হবে।

‘গান্ধী’স হিন্দুইজম: দ্য স্ট্রাগল এগেনস্ট জিন্না’স ইসলাম’ বইটির প্রকাশক ব্লুমসবেরি।

বন্ধ করুন