২০১০ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। ২০১৪ সালে দিল্লির মসনদ দখল করার পরে এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি এনডিএ সরকারও।
২০১০ সালে কেন্দ্রে ইউপিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল। ২০১৪ সালে দিল্লির মসনদ দখল করার পরে এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি এনডিএ সরকারও।

সেনায় নারীর স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে সমান উদাসীন ইউপিএ ও এনডিএ

২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায় এতদিনে সরকার কার্যকর করে থাকলে তদানীন্তন কর্মরত মহিলা অফিসাররা এই সময় ১৪ থেকে ২০ বছরের পেশাদার জীবন অতিক্রম করে ফেলতেন এবং স্থায়ী নিয়োগের জন্য বিবেচিত হতেন।

সেনায় মহিলা অফিসারদের স্থানী নিয়োগের পক্ষে সোমবার রায় দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের দেওয়া রায়কেই এ দিন বহাল রেখে শীর্ষ আদালত কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব বদলানোর পরামর্শ দিয়েছে।

ঘটনা হল, ১৯৯২ সালে প্রথম ভারতীয় সেনাবাহিনীতে স্বল্পমেয়াদী নিয়োগ (শর্ট সার্ভিস কমিশন) ব্যবস্থায় নারীর অন্তর্ভুক্তিকরণ চালু হয়। প্রথমে এই মেয়াদ ৫ বছরের জন্য নির্দিষ্ট হলেও ২০০৪ সালে তা বাড়িয়ে ১৪ বছর করা হয়।

২০১০ সালে বিচারপতি এস কে কাউল এবং বিচারপতি মূলচন্দ গর্গের দিল্লি হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় দেয়, সেনাবাহিনী ও বায়ুসেনায় মহিলা অফিসারদের স্বল্পমেয়াদী নিয়োগের পরিবর্তে তাঁদের স্থানীয় নিয়োগের পক্ষে রায় দেয়। হাইকোর্ট তার নির্দেশে বলে, পুরুষ অফিসারদের স্থায়ী নিয়োগ করা হলেও মহিলাদের তার থেকে বঞ্চিত করার অর্থ, সংবিধানের ১৪,১৫ ও ১৬ ধারা অমান্য করা।

২০১০ সালে কেন্দ্রে এনডিএ সরকার ক্ষমতাসীন ছিল না। কিন্তু ২০১৪ সালে দিল্লির মসনদ দখল করার পরেও এই বিষয়ে কোনও উদ্যোগ নেয়নি এনডিএ সরকার, এ দিন এই মন্তব্য করেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়াই বি চন্দ্রচূড়। বিষয়টি নিয়ে অযথা রাজনীতিকরণ হচ্ছে বলেও তিনি বিরক্তি প্রকাশ করেন।

এ দিন মহিলা অফিসারদের তরফে আইনজীবী মীণাক্ষী লেখি ও ঐশ্বর্য ভাট্টি তাঁদের সওয়ালে মিন্টি আগরওয়ালের উল্লেখ করে বলেন, ফ্লাইট কন্ট্রোলার হিসেবে ওই মহিলা অফিসার উইং কম্যান্ডার অভিনন্দন বর্তমানকে গাইড করেন যখন তিনি পাকিস্তানের এফ-১৬ যুদ্ধবিমান তাড়া করে গুলি করে নামান। এ ছাড়া কাবুলে ভারতীয় দূতাবাসে সন্ত্রাসবাদী হামলার সময় তাঁর সাহসিকতার কারণে সেনা পদকপ্রাপ্ত মিতালি মধুমিতার উল্লেখও করেন দুই আইনজীবী। তাঁরা বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতিতিতে একাধিক বার নারী অফিসাররা অসামান্য সাহসিকতা প্রদর্শন করেছেন।

তাঁদের বিরোধিতা করে কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে আইনজীবী বালাসুব্রহ্মনিয়ম বলেন, ‘মাতৃত্বকালীন দীর্ঘ অবসর, সন্তান মানুষ করা এবং ঘরোয়া নানান কারণে মহিলা অফিসারদের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর দায়বদ্ধতা পালন করা অনেক বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া এই কাজে ঘন ঘন বদলির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ করে যে পরিবারে স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, তাঁদের পক্ষে এই সমস্যা বড় হয়ে দেখা দেয়।’ তাঁর দাবি, ভবিষ্যতে যুদ্ধ হতে চলেছে স্বল্পমেয়াদী, প্রচণ্ড সংঘাতপূর্ণ এবং মারাত্মক। এই কারণে সশস্ত্র বাহিনীতে মহিলাদের স্থায়ী নিয়োগের বিষয়ে নিয়ে ভাবনা-চিন্তা প্রয়োজন।

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ওয়াই বি চন্দ্রচূড় সরকারি আইনজীবীর যুক্তি নস্যাত্ করে জানান, ২০১০ সালে দিল্লি হাইকোর্টের রায় এতদিনে সরকার কার্যকর করে থাকলে তদানীন্তন কর্মরত মহিলা অফিসাররা এই সময় ১৪ থেকে ২০ বছরের পেশাদার জীবন অতিক্রম করে ফেলতেন এবং স্থায়ী নিয়োগের জন্য বিবেচিত হতেন। তিনি বলেন, সরকারের ব্যর্থতার দায় কখনও মহিলা অফিসাররা বহন করতে পারেন না।

সুপ্রিম কোর্টের এই রায় নিয়ে যথারীতি শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক রেষারেষি। একদিকে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী সুপ্রিম রায়কে স্বাগত জানিয়ে কেন্দ্রের এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। অন্য দিকে, কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং শীর্ষ আদালতের রায়কে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, ২০১৯ সালে নির্মলা সীতারামন প্রতিরক্ষামন্ত্রী থাকার সময়েই সেনায় মহিলা অফিসারদের স্থানীয় নিয়োগের বিষয়ে সরকার পদক্ষেপ করে।

বন্ধ করুন