বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > শীতে শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের যত্ন নেবেন কী ভাবে? রইল কিছু টিপস
দিনে অন্তত দুবার বাচ্চাদের মালিশ করা উচিত।
দিনে অন্তত দুবার বাচ্চাদের মালিশ করা উচিত।

শীতে শিশুদের সংবেদনশীল ত্বকের যত্ন নেবেন কী ভাবে? রইল কিছু টিপস

  • সদ্যজাত শিশুর শরীর হাইড্রেট রাখার জন্য স্তনদুগ্ধ পান করানো উচিত। আবার শিশু ৬ মাসের বড় হলে, তাদের দুধের পাশাপাশি জল ও ফলের রস পান করাতে পারেন।

প্রাপ্ত বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চাদের ত্বক আরও বেশি সংবেদনশীল হয়। তাই শীতকালে তাদের ত্বকের বিশেষ যত্ন নেওয়া হয়ে ওঠে অধিক জরুরি। এর জন্য তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে জীবনযাপন প্রণালী— নানান ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা উচিত। এখানে জানুন, শীতকালে কী ভাবে বাচ্চাদের ত্বকের যত্ন নেবেন—

১. শীতকালে সদ্যজাত শিশু ও বাচ্চাদের যতটা সম্ভব কম স্নান করানো উচিত। সদ্যজাত শিশুদের ২-৩ দিনে একবার স্নান করান। কারণ অধিক স্নান করানোর ফলে শিশুদের শরীরের প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতা হারিয়ে যায়। স্নান করানোর আগে তেল লাগিয়ে অবশ্যই মালিশ করবেন। সদ্যজাতদের স্নান করানোর জন্য ঈষদুষ্ণ জল ব্যবহার করুন।

২. সদ্যজাত শিশুদের জন্য তেলের মালিশ জরুরি। শুধু সদ্যজাতই নয়, এক বছরের বেশি বয়সের বাচ্চাদেরও তেলের মালিশ করা উচিত। দিনে অন্তত দুবার বাচ্চাদের মালিশ করা উচিত। মালিশ করার ফলে শিশুদের হাড় মজবুত হয়। এমনকি শারীরিক ও মানসিক বিকাশও ভালো ভাবে হয়। এর ফলে ত্বক ময়শ্চারাইজ হয় ও শরীর গরম হয়। এমনকি শরীরে রক্ত চলাচলও উন্নত হয়। ডাই ও প্যারাবেন্স মুক্ত তেল ব্যবহার করা উচিত।

৩. শিশুদের স্নান করানোর জন্য হার্বাল সাবান ব্যবহার করা উচিত। স্নানের পর রগড়ে গা মোছানোর পরিবর্তে হাল্কা হাতে থপথপিয়ে শিশুদের গা মোছান। এর ফলে ত্বক লাল হবে না। 

৪. সদ্যজাত শিশুর শরীর হাইড্রেট রাখার জন্য স্তনদুগ্ধ পান করানো উচিত। আবার শিশু ৬ মাসের বড় হলে, তাদের দুধের পাশাপাশি জল ও ফলের রস পান করাতে পারেন। 

৫. শীতকালে অনেকেই হিটারের সাহায্য ঘর গরম রাখেন। তবে বাড়িতে ছোট বাচ্চা, বিশেষত ১ বছর বা তার চেয়ে কম বয়সি কোনও বাচ্চা থাকলে ঘর অধিক গরম করবেন না। কারণ অধিক উষ্ণতার ফলেও শরীর তার আর্দ্রতা হারিয়ে ফেলে ও ত্বক ফাটতে শুরু করে। 

৬. শীতকালে সর্দির হাত থেকে বাঁচাতে আমরা শিশুদের অধিক গরম জামা কাপড় পড়িয়ে রাখি। কিন্তু এর ফলেও শিশুদের ত্বক নিজের কোমলতা হারিয়ে ফেলে। এর পাশাপাশি উলের জামা-কাপড় বেশি পরালে অ্যালার্জিও হতে পারে। এর ফলে চুলকানি ও ত্বকে লাল ছোপও দেখা যেতে পারে।

৭. রোজ অন্তত দিনে দুবার ময়শ্চারাইজার লাগানো উচিত। কম বয়সি বাচ্চাদের জন্য সব সময় প্রাকৃতিক উপাদানে তৈরি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারেন। হাল্কা হাতে ময়শ্চারাইজার লাগালে ত্বক কোমল থাকে। উল্লেখ্য শিশুদের ত্বকে ব্যবহারের জন্য বিশ্বস্ত ব্রান্ডের প্রোডাক্ট কেনাই শ্রেয়। কিছু কেনার আগে, এক্সপায়েরি ডেট ও সামগ্রী তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদানগুলি অবশ্যই দেখে নেবেন। কোনও কিছুতে অ্যালার্জি থাকলে, সেই সামগ্রীর ব্যবহার এড়িয়ে যান।

৮. বর্তমানে বাড়িতে তৈরি কাপড়ের ন্যাপির পরিবর্তে অধিকাংশই ডায়পার পরাতে বেশি স্বচ্ছন্দ বোধ করেন। তবে অনেক দেরি পর্যন্ত ডায়পার পরিয়ে রাখলে অ্যালার্জি হতে পারে। এমনকি ডায়পারের জায়গার ত্বকে ছোট ছোট লাল বা সাদা দানা দেখা দিতে পারে।

বন্ধ করুন