বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > UNICEF ‘ফটো অব দ্যা ইয়ার'-এ প্রথম বাংলার সুপ্রতিম, দ্বিতীয় সৌরভ
ছবি : সুপ্রতিম ভট্টাচার্য (Supratim Bhattacharjee)

UNICEF ‘ফটো অব দ্যা ইয়ার'-এ প্রথম বাংলার সুপ্রতিম, দ্বিতীয় সৌরভ

  • এটাকে স্রেফ প্রতিযোগিতা বলে ভাবলে ভুল হবে। এই ছবিগুলির মাধ্যমেই উঠে আসে কোনও নাম না জানা স্থানের দুর্দশার কাহিনী। সেখানে শিশুদের দুরাবস্থার কথা নজরে আসে ইউনিসেফ তথা গোটা বিশ্বের।

UNICEF ‘ফটো অব দ্যা ইয়ার ২০২১'-এ প্রথম ও দ্বিতীয় স্থানে দুই বাঙালি। প্রথম স্থান পেলেন পশ্চিমবঙ্গের সুপ্রতিম ভট্টাচার্য। দ্বিতীয় স্থানে সৌরভ দাস। অন্য দিকে তৃতীয় হয়েছেন ইরাকের কুর্দ ইউনেস মহম্মদ।

মূলত বিশ্বজুড়ে কঠিন অবস্থায় প্রভাবিত ও সমস্যার মাঝে লড়াই করা শিশুরাই এই ফটোগ্রাফি প্রতিযোগিতার মূল বিষয়বস্তু হয়। তবে এটাকে স্রেফ প্রতিযোগিতা বলে ভাবলে ভুল হবে। এই ছবিগুলির মাধ্যমেই উঠে আসে কোনও নাম না জানা স্থানের দুর্দশার কাহিনী। সেখানে শিশুদের দুরাবস্থার কথা নজরে আসে ইউনিসেফ তথা গোটা বিশ্বের। তাই ফটো-জার্নালিজম, ফটোগ্রাফি এবং সমাজসেবা, তিনটি দিক থেকেই এই প্রতিযোগিতা তাত্পর্যপূর্ম। ২০০০ সাল থেকে এটি প্রতি বছর আয়োজিত হয়।

এ বছরের প্রথম পুরষ্কার প্রাপক সুপ্রতিম ভট্টাচার্য। তাঁর ছবির প্রেক্ষাপট সুন্দরবন। সেখানেই বিগত প্রায় দুই দশক ধরে কাজ করছেন তিনি। পরিবেশ আন্দোলন ও মানবাধিকার নিয়ে কাজ করেন তিনি। সুন্দরবনের নামখানার শিশুদের জীবন সংগ্রামের ছবিই ফুটে উঠেছে তাঁর ক্যামেরায়।

বিখ্যাত হয়ে যাওয়া ছবি :

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে সুন্দরবনের একটি মেয়ে। সেই ছবিই লেন্সবন্দি করেছিলেন বারুইপুরের বাসিন্দা সুপ্রতিম। কিন্তু শুধু ছবিটাই যে লেন্সবন্দি করেছিলেন, তা বললে বোধ হয় ভুল হবে। মেয়েটির পেছনে বন্যার জল, ঘুর্ণিঝড় যেন তার মন, জীবনের অবস্থার প্রতিচ্ছবি। অন্যদিকে তার চাহনিতে যেন স্পষ্ট রাগ। আবার যেন কোথাও এসে শূন্য হয়ে যায় সেই দৃষ্টি। বন্যায় ভেসে গিয়েছে সর্বস্ব। আগামী কী? প্রকৃতির এই রোষেরই বা কারণ কী?

সুপ্রতিম জানিয়েছেন, ছবির বছর এগারোর মেয়েটির নাম পল্লবী পাড়ুয়া। 'ঝড়ে ওদের চায়ের দোকান, নামখানা দ্বীপের বাড়ি ভেসে গিয়েছে। ওর মুখে রাগ স্পষ্ট। সেই শক্তিশালী মুখই আমাকে তার ছবি তুলতে বাধ্য করেছে।'

সুন্দরবনের শিশুদের এ হেন বহু ছবি তুলেছেন সুপ্রতিম। কখনও বড়দের সঙ্গে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহে সাহায্য, কখনও বা বাড়ি মেরামত করায় হাত লাগিয়েছে তারা। সুপ্রতিমের ফটো সিরিজে উঠে এসেছে সুন্দরবনের এমনই বহু ছবি। তাঁর সিরিজটির নাম ছিল 'ডুবন্ত স্বপ্ন'।

দ্বিতীয় স্থানে সৌরভ :

ইউনিসেফ ফটো অফ দ্য ইয়ার-এ দ্বিতীয় স্থান পেয়েছেন আরেক বাঙালি সৌরভ দাস। জামুরিয়ার একটি রাস্তার ধারে কুঁড়েঘরের সামনে বসে পড়াশোনা করছে শিশুরা। করোনা পরিস্থিতিতে প্রত্যেকের মুখে মাস্ক। মানা হচ্ছে দূরত্ব বিধিও। জামুরিয়ার বিখ্যাত 'রাস্তার মাস্টার' দ্বীপনারায়ণ নায়েকের সেই অভিনব শিক্ষাদানের সেই ছবিই তোলেন সৌরভ।

ছবি: সৌরভ দাস
ছবি: সৌরভ দাস (Sourav Das)

স্থানীয় তিলকা মাঝি আদিবাসী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক করোনাকালে বাড়িতে বসে থাকেননি। বরং ভাবতে থাকেন কীভাবে এই পরিস্থিতিতেও শিশুদের শিক্ষাদান চালু রাখা সম্ভব। আর তাই করতেই অভিনব পন্থা নেন তিনি। মাটির দেওয়ালেই রঙ করে বানান ব্ল্যাকবোর্ড। নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে বসার আয়োজন করেন। তারপর চালু করে দেন পঠনপাঠন।

করোনা পরিস্থিতিতে কীভাবে শিক্ষার ধরন পাল্টে গিয়েছে, কীভাবে দূরত্ব বজায় রেখেও চাইলে শিক্ষা প্রদান সম্ভব, তাই উঠে এসেছে তাঁর এই ছবিতে। 'রাস্তার মাস্টারের' সেই কাহিনীই তিনি তুলে ধরেছেন আন্তর্জাতিক স্তরে। 

বন্ধ করুন