বাংলা নিউজ > ঘরে বাইরে > উপরাষ্ট্রপতি হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন বেঙ্কাইয়া নাইডু, কারণ জানলে অবাক হবেন!
নির্বাচিত হওয়ার দিন কেঁদেছিলেন। বিদায়ের প্রহরেও ফের চোখে জল। ছবি: সংসদ টিভি (HT_PRINT)

উপরাষ্ট্রপতি হয়ে কেঁদে ফেলেছিলেন বেঙ্কাইয়া নাইডু, কারণ জানলে অবাক হবেন!

চলতি সপ্তাহে বুধবার বেঙ্কাইয়া নাইডুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে তিনি আবার রাজনীতিতে যোগ দেবেন না। তবে আগের মতোই জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন।

২০১৭ সাল। ভারতের উপরাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হন বেঙ্কাইয়া নাইডু। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সে বিষয়ে জানান তাঁকে। তারপরেই আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন তিনি। এতদিন পর, ২০২২ সালে এসে সেই দিনের কথাই মনে করলেন বিদায়ী উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু। একদিকে দীর্ঘদিনের কর্মক্ষেত্র ভারতীয় জনতা পার্টি(বিজেপি) ছাড়া, অন্যদিকে দেশের উপরাষ্ট্রপতির পদ গ্রহণ, আবেগে চোখে জল এসে গিয়েছিল তাঁর।

'কারও বা কোনও দলের বিরুদ্ধে আমার একটুও অসন্তোষ নেই। যেদিন আমাকে ভারতের উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছিল এবং যখন প্রধানমন্ত্রী এবং আমি যে দলের সদস্য ছিলাম, সেই দলের সভাপতি যখন সংসদীয় বোর্ডের সভায় আমাকে সেটা বলেছিলেন, তখন আমি কান্নায় ভেঙে পড়েছিলাম। আমি এটা চাইনি। কিন্তু আপনি জানেন, দলের একজন সুশৃঙ্খল সৈনিক হিসাবে এবং সবাই যেমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, আমি সেটাই মানতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাধ্য হয়ে দল থেকে পদত্যাগ করেছিলাম,' সোমবার কথাগুলো বলার সময়ে দৃশ্যত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন বিদায়ী উপরাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, অশ্রু এই কারণে নয় যে তাঁকে এত বড় একটা দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই কারণেই যে, যে দল তাঁকে জীবনের সবকিছু দিয়েছে, তাকেই ছেড়ে যেতে হয়েছিল।

চলতি সপ্তাহে বুধবার বেঙ্কাইয়া নাইডুর মেয়াদ শেষ হচ্ছে। তিনি আরও বলেছেন যে তিনি আবার রাজনীতিতে যোগ দেবেন না। তবে আগের মতোই জনগণের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবেন এবং তাদের সাথে যোগাযোগ অব্যাহত রাখবেন।

ভারতের নয়া উপ-রাষ্ট্রপতি হিসাবে নির্বাচিত হয়েছেন এনডিএ প্রার্থী জগদীপ ধনখড়। বিরোধীদের প্রার্থী মার্গারেট আলভাকে ৩৪৬ ভোটে হারিয়ে দিয়েছেন তিনি।

তিনি রাজনীতিবিদদের একে অপরকে আঘাত করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। ঘন ঘন কক্ষের কার্যক্রম স্থগিত করার প্রবণতায় নিজের খারাপ লাগার কথাও জানান তিনি। নাইডু বলেন, সাধারণ মানুষ এই আশাটাই করেন যে, সংসদে আলোচনা হবে, বিতর্ক হবে। আলোচনা বিঘ্নিত না করার জন্য আহ্বান জানান তিনি। সংসদের ভাবমূর্তি এবং সম্মান বজায় রাখার জন্য সদস্যদের 'শালীনতা, মর্যাদা এবং নিয়ম' পালন করার অনুরোধ করেন নাইডু।

তাঁর মেয়াদকালে সদস্যদের বিরুদ্ধে তাঁকে যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল, সেই সম্পর্কেও মুখ খোলেন তিনি। তিনি বলেন, 'ছাত্র, গ্রামীণ মানুষ, সাধারণ মানুষ সংসদীয় কার্যক্রম দেখেন। সেই জন্য, কখনও কখনও, আমাকে হস্তক্ষেপ করতে হয়, কঠোর হতে হয়। কিছু সদস্যের জন্য আমাকে বাধ্য হয়েই কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হয়। অন্যথায়, এমন চরম পদক্ষেপ নিতে আমার একটুও ভাল লাগে না। কারও প্রতি বা কোনও দলের বিরুদ্ধে আমার একটুও অসন্তোষ নেই।'

বন্ধ করুন