বাড়ি > ময়দান > যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সৌরভকে রেডি করে মাঠে নামিয়ে দেন সতীর্থরা
সচিন, সৌরভ ও লক্ষ্মণ। ছবি- গেটি ইমেজেস।
সচিন, সৌরভ ও লক্ষ্মণ। ছবি- গেটি ইমেজেস।

যুদ্ধকালীন তৎপরতায় সৌরভকে রেডি করে মাঠে নামিয়ে দেন সতীর্থরা

  • কেপ টাউন টেস্টের মজাদার ঘটনার কথা সামনে আনলেন আকাশ চোপড়া।

এমন অদ্ভূত পরিস্থিতির মধ্যে টিম ইন্ডিয়াকে আগে কখনও পড়তে হয়নি। সম্ভবত টেস্ট খেলতে নেমে আর কোনও দলেরই এমন অভিজ্ঞতা হয়নি কখনও। টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকা আকাশ চোপড়া ২০০৭-এর কেপ টাউন টেস্টের মজাদার ঘটনার কথা অনুরাগীদের সঙ্গে ভাগ করে নিলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়।

টেস্টের চতুর্থ দিনে ভারত দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করছিল। মাত্র ৩ ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনার ওয়াসিম জাফর ও বীরেন্দ্র সেহওয়াগ আউট হয়ে বসায় বিপত্তি দেখা দেয়।

তিন নম্বরে রাহুল দ্রাবিড় যথারীতি ব্যাট করতে নামেন। চারে নামার কথা সচিন তেন্ডুলকরের। জাফর আউট হওয়ার পর সচিন যখন ব্যাট হাতে মাঠে নামছেন, তখন চতুর্থ আম্পায়ার তাঁকে বাধা দেন। কারণ, সচিন তৃতীয় দিনে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যাট করার সময় চোটের জন্য মাঠ ছেড়েছিলেন। প্রোটিয়া ইনিংসে যতক্ষণ তিনি মাঠের বাইরে ছিলেন, ভারতীয় ইনিংসে ততক্ষণ পরেই তাঁকে ব্যাট করতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে। তখনও ৫ মনিটি বাকি ছিল তেন্ডুলকরকে ব্যাট করতে যাওয়ার অনুমতি দেওয়ার ক্ষেত্রে।

সচিনের পরে ব্যাট করতে নামার কথা ভিভিএস লক্ষ্মণের। তিনি তখন ড্রেসিংরুমে স্নান করতে ব্যস্ত। অদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয় মাঠে। জাফর ফেরার পর ক্রিজে একা দাঁড়িয়ে দ্রাবিড়। নতুন কোনও ব্যাটসম্যান মাঠে আসছেন না। দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক গ্রেম স্মিথ আম্পায়ারের সঙ্গে কথা বলেন। তবে আম্পায়ার ডারেল হারপার স্মিথকে আউটের আবেদন করতে বারণ করেন। কারণ, এই দেরি ইচ্ছাকৃত ছিল না। টেকনিক্যাল কারণেই সচিনকে মাঠে নামতে দেওয়া হয়নি।

৬ নম্বরে ব্যাট করতে যাওয়ার কথা ছিল সৌরভের। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তিনি প্যাড পরে বসে থাকবেন, এটা আশা করা অন্যায়। ভারতীয় ড্রেসিংরুমে তখন সৌরভকে রেডি করার জন্য কার্যত যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়।

আকাশ চোপড়া বলেন, ‘ভিভিএস যেহেতু স্নান করছিল, তাই দাদাকেই ব্যাট করেত যেতে হতো। কেউ একজন কোথাও থেকে দাদার জার্সি এনে দেয়। কেউ নিয়ে আসে ট্রাউজার। দু’জন দু'পায়ে প্যাড পরিয়ে দেয় তড়িঘড়ি। অবশেষে তাড়াহুড়ো করে কোনও রকমে দাদা মাঠে নামে। লক্ষ্মণ বাথরুম থেকে বেরিয়ে বুঝে উঠতে পারেনি কী ঘটেছে। ওকে যখন বলা হয় যে, ওর ব্যাটিংয়ের সময় চলে গিয়েছে, ও ঠিক করতে পারছিল না কী বলবে। ভাবছিল, দাদা ফিরলে ওর ভাগ্যে দুঃখ রয়েছে। যদিও শেষমেশ কেউ কিছু বলেনি লক্ষ্মণকে।'

বন্ধ করুন