বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > আমরাই ভারত সেরা, দল হিসেবে খেললে জিতবই- ডার্বি দয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ATK MB কোচ

আমরাই ভারত সেরা, দল হিসেবে খেললে জিতবই- ডার্বি দয়ের পর আত্মবিশ্বাসী ATK MB কোচ

জুয়ান ফেরান্দো।

বিরুদ্ধে হিরো আইএসএলে কখনও জয়ের মুখ দেখেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই ইতিহাস এ বার পাল্টাবে? তবে ইতিহাস বা অতীত নিয়ে ভাবছেন না এটিকে মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তিনি সামনের দিকে তাকাতে চান।তাঁর দাবি, দল হিসেবে খেললে শেষ হাসি হাসবে এটিকে মোহনবাগানই।

কলকাতা ডার্বি জিতে পয়েন্ট টেবলের ছ'নম্বরে উঠে এসেছে এটিকে মোহনবাগান। রবিবার জয়ের ধারা বজায় রাখতে পারলে সেরা চারের মধ্যে চলে আসতে পারবে তারা। কিন্তু সামনে এমন একটা দল, যাদের বিরুদ্ধে হিরো আইএসএলে কখনও জয়ের মুখ দেখেনি এটিকে মোহনবাগান। সেই ইতিহাস এ বার পাল্টাতে পারবে কি?

তবে ইতিহাস বা অতীত নিয়ে ভাবছেন না এটিকে মোহনবাগানের স্প্যানিশ কোচ জুয়ান ফেরান্দো। তিনি সামনের দিকে তাকাতে চান এবং ম্যাচের আগে সাংবাদিকদের বললেন, নিজেদের সেরাটা দিতে পারলে এই ম্যাচে এটিকে মোহনবাগানই শেষ হাসি হাসবে।

জেনে নিন মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে কঠিন ম্যাচে দল নামানোর আগে আর কী কী বললেন ফেরান্দো!

প্রশ্ন: মুম্বই সিটি এফসি-র বিরুদ্ধে এটিকে মোহনবাগান যখনই মাঠে নেমেছে, তখনই ব্যর্থ হয়েছে। এ বার কী পরিকল্পনা নিয়ে নামছেন?

জুয়ান: ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে যে পরিকল্পনা ছিল, তার চেয়ে আলাদা তো হবেই এই ম্যাচে। কারণ, ওরা অন্য দল, ওদের স্টাইল আলাদা। ওদের অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় রয়েছে। ওরা প্রত্যেকেই অভিজ্ঞ। গত মরশুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে খেলে এসেছে। আমাদের কাছে এটা কঠিন ম্যাচ হতে চলেছে। সমর্থকদের সামনে খেলতে পারছি না। পরিকল্পনা তো অবশ্যই আছে। আশা করি, সেটা সফলও হবে।

আরও পড়ুন: I-League চ্যাম্পিয়ন হলেই খেলা যাবে ISL, বদলে গেল ভারতীয় ফুটবলের নিয়ম

প্রশ্ন: ডার্বির পরের ম্যাচ সব সময়ই কঠিন হয়ে এসেছে। এই নিয়ে কী বলবেন?

জুয়ান: গত ম্যাচের পরে আমরা যে অনুশীলনে নেমেছি, সেখানেই মানসিকতা বদলের কথা আলোচনা করেছি। প্রতি ম্যাচের পরেই মানসিকতায় পরিবর্তন আনতে হবে। এখনও ষোলটা ম্যাচ খেলতে হবে। গত ম্যাচে জিতি বা হারি, সেটা অতীত। সেই ম্যাচ নিয়ে আর ভেবে লাভ নেই। বরং পরের ম্যাচের জন্য তৈরি হওয়াটা এখন বেশি জরুরি। এই ম্যাচে তিন পয়েন্ট পাওয়াটা খুবই জরুরি। কারণ, এক নম্বরে থাকা দলের চেয়ে পয়েন্টের ফারাক যত কমবে, তত ওপরের তিন-চারটি দলের মধ্যে থাকতে সুবিধা হবে। সেরা চারের মধ্যে থাকা দলগুলোর প্রত্যেকেরই পারফরম্যান্স যথেষ্ট ভালো। আমাদেরও ভালো পারফরম্যান্স বজায় রাখতে হবে।

প্রশ্ন: মুম্বই সিটি এফসি-র শক্তি, দূর্বলতা কোন কোন জায়গায় আছে বলে আপনার মনে হয়?

জুয়ান: মুম্বইয়ের অনেক কিছুই ভাল। ওদের যেমন শক্তিশালী রক্ষণ আছে, আপুইয়া, ফলদের মতো খেলোয়াড় রয়েছে সেখানে। তেমন আক্রমণও ভালো। ওরা খুব ভালো জায়গা নিয়ন্ত্রণ করে। ওদের আক্রমণে বিপিন, ছাঙতের মতো দ্রুতগতির ফুটবলার আছে। নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখার প্রবণতা দেখা যায় ওদের মধ্যে। উইথ বল, যে কোনও পরিস্থিতিতে ওরা যথেষ্ট ভালো। এ রকম একটা দলের বিরুদ্ধে রক্ষণের কাজ অনেক বেড়ে যায়।

প্রশ্ন: ডার্বির পর আপনি বলেছিলেন এখনও ট্রানজিশনে উন্নতি করতে হবে। সেই উন্নতি কি হয়েছে?

জুয়ান: প্রতি ম্যাচই আমাদের কাছে নতুন পরীক্ষার মতো। আশা করি, আমার দল তৈরি আছে। কারণ, এই ম্যাচ আমাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে আমাদের বেশিরভাগ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে হবে। সে ওঠানামায় বলুন বা রক্ষণে। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। শুধু এই ম্যাচ বলে নয়, প্রায় সব ম্যাচেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে হবে। একটা ম্যাচে ভালো খেললাম, পরের ম্যাচে সেই স্তরের পারফরম্যান্স ধরে রাখতে পারলাম না, এতে আমি খুশি হই না। আমাদের লক্ষ্য নিজেদের ভালো দল হিসেবে গড়ে তোলা এবং ধারাবাহিক ভাবে ভালো খেলা। তবে কখনও কখনও চোট-আঘাত বা কার্ডের জন্য দলে পরিবর্তন আনতে হয়। তবে চেষ্টা করতে হবে যাতে আমাদের স্বাভাবিক ছন্দ বজায় থাকে।

আরও পড়ুন: মোহনবাগানের সামনে থেকে সরবে ATK? শুরু ভাবনাচিন্তা, গঠন করা হল ৫ সদস্যের কমিটি

প্রশ্ন: এটিকে মোহনবাগান যেমন আইএসএলের সব ম্যাচেই ইস্টবেঙ্গলকে হারিয়েছে, তেমন মুম্বই সিটি এফসি-কে কখনও হারাতে পারেনি। এই ম্যাচটা ডার্বির চেয়েও কঠিন?

জুয়ান: আগেই বললাম, ইস্টবেঙ্গল নিয়ে কথা বলে লাভ নেই। কারণ, ওটা অতীত। আমরা এখন পরের ম্যাচে মনোনিবেশ করেছি। আমি ফুটবলের পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবি না। আগে কী হয়েছে না হয়েছে, সে সব নিয়ে ভেবে কোনও লাভ নেই। কারণ এগুলোর ওপর কোনও নিয়ন্ত্রণ থাকে না। তা ছাড়া পরিসংখ্যান বদলাতে থাকে। তাই আমরা টানা সাত-আট বার জিতলাম কি না, তাতে কিছু যায় আসে না। গুরুত্বপূর্ণ হল এই যে, আমরা দু’বছর পরে আবার বিভিন্ন শহরে গিয়ে সেখানকার দর্শকের সামনে খেলছি, এর সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে ভালো খেলে যেতে হবে আমাদের।

প্রশ্ন: মুম্বই সিটি এফসি-তে অনেক ভাল ভাল খেলোয়াড় আছে। তার জন্ কোনও বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে?

জুয়ান: আমার কাছে আমার দলই ভারতের সেরা। আমরা যদি দল হিসেবে খেলতে পারি, তা হলে আমরা একশো শতাংশ সাফল্য পাব। অবশ্যই ওদের প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল। কারণ, ওদের ভালো ভালো খেলোয়াড় আছে। কিন্তু এটিকে মোহনবাগান যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারে, তা হলে ম্যাচটা আমরাই জিতব।

প্রশ্ন: লিস্টন কোলাসো গত মরশুমে যে জায়গায় ছিল, এ বছর তাঁকে সেই জায়গায় পাওয়া যাচ্ছে না। ব্যাপারটা কি আপনাকে ভাবাচ্ছে?

জুয়ান: গত বার যেমন মনবীর ওর সেরা ছন্দে ছিল না, এখন সেরা ফর্মে আছে। সারা বিশ্বে এটা হয়। দীর্ঘ মরশুমে অনেকেই টানা ছ'-সাতটা ম্যাচ ভাল খেলতে পারে না, তার পরে ছন্দে ফিরে আসে। তার পরে দশটা ম্যাচে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখায়। মনবীর, লিস্টনদের পজিশনে সব সময় ভালো পারফরম্যান্স বজায় রেখে যাওয়াটা কঠিন। এটা নির্ভর করে দলের পরিকল্পনার ওপর। দল যদি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা নিয়ে খেলে, তা হলে লিস্টনদের পক্ষে আক্রমণে ওঠা সোজা হয়। কিন্তু দল যদি সঙ্ঘবদ্ধ ভাবে আক্রমণে না উঠতে পারে, এই ব্যাপারে যদি দুর্বল হয়, তা হলে মনে হয়, স্ট্রাইকাররা ভালো খেলতে পারছে না। লিস্টনের ব্যাপারে আমি চিন্তিত নই। কারণ, আমি জানি প্রত্যেক খেলোয়াড়েরই ভালো সময় আসে। যেমন মনবীরের এসেছে। আমার তো মনে হয়, কেরালা ব্লাস্টার্সের বিরুদ্ধে ও-ই সেরা খেলোয়াড় ছিল। চেন্নাইয়িনের বিরুদ্ধে এবং ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধেও ও যথেষ্ট পরিশ্রম করেছে।

প্রশ্ন: দলের ডিফেন্ডারদের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট?

জুয়ান: একজন কোচ হিসেবে আমি কখনওই বলব না, আমি পুরোপুরি খুশি। কারণ, আমি জানি, প্রতি দিনই কোনও না কোনও ছোটখাটো বিষয়ে উন্নতি করা যায়। এগারো জন ফুটবলারের এগারো রকমের আবেগ ও মানসিকতা। সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসতে হয়। একমাত্র এএফসি কাপের পারফরম্যান্সকে আমি হতাশাজানক বলব। তবু ওটাও অতীত। আমরা শিখেছি। এখন আমাদের ভাবনায় মুম্বই ম্যাচ ছাড়া কিছু নেই।

প্রশ্ন: দিমিত্রিয়স পেত্রাতোসের পারফরম্যান্সে আপনি খুশি?

জুয়ান: অবশ্যই। ও দলকে অনেক সাহায্য করছে। আক্রমণের সময় ওকে কখন, কোথায় থাকতে হবে, সেটা ও খুব ভালো বোঝে। অনেক দেরিতে দলের সঙ্গে যোগ দিলেও অল্প সময়ে ও যে ভাবে দলের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছে, তা অসাধারণ। ও সব সময়ে ফুটবল নিয়ে ভাবে। ওর মতো খেলোয়াড় দলে থাকায়, আমার পক্ষে কাজটা করতে অনেক সুবিধা হচ্ছে। ওর আশে পাশে যারা খেলছে, তারাও ভালো পারফর্ম করছে। কারণ, দিমিত্রি জায়গা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, জায়গা খুঁজে নিয়ে সেটা কাজে লাগিয়ে আক্রমণ তৈরি করতে পারে। অসাধারণ খেলোয়াড়। ইস্টবেঙ্গলের বিরুদ্ধে ম্যাচে ও ক্লান্ত ছিল। তা সত্ত্বেও ৯০ মিনিট ধরে এক ভাবে প্রতিপক্ষকে চাপে রেখেছিল। ও দলের খুবই গুরুত্বপূর্ণ সদস্য।

বন্ধ করুন