বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > FIFA World Cup 2022: রিজার্ভ বেঞ্চে থাকাটা মোটেও ভালো ভাবে নেয়নি রোনাল্ডো- মেনে নিলেন পর্তুগালের কোচ

FIFA World Cup 2022: রিজার্ভ বেঞ্চে থাকাটা মোটেও ভালো ভাবে নেয়নি রোনাল্ডো- মেনে নিলেন পর্তুগালের কোচ

ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো।

দলের সঙ্গে তাঁর ঝামেলার খবর পর্তুগালের চৌকাঠ ডিঙিয়ে টুকটাক বাইরে বের হয়ে আসছিলই। তবে ফাটল যে কতটা গভীর, সেটা বোঝা গিয়েছে সুইৎজারল্যান্ড ম্যাচে। যখন তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে, তাঁর জায়গায় অনামী গনসালে রামোসকে মাঠে নামিয়ে দেন স্যান্টোস। 

২০২২ কাতার বিশ্বকাপ জুড়ে নানা বিষয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে নিয়ে চলছে তীব্র বিতর্ক। সে তিনি প্রথম একাদশ থেকে ছিটকে গিয়ে হোক, কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোসের সঙ্গে ঝামেলা হোক বা গোল করে, গোল না করে- সবেতেই তাঁকে নিয়ে চলছে তীব্র চর্চা। সেই সঙ্গে তো রয়েইছে ম্যাঞ্চেস্টার ইউনাইটেড ছাড়া এবং নতুন ক্লাবে যোগ নিয়ে নানা জল্পনা।

দলের সঙ্গে তাঁর ঝামেলার খবর পর্তুগালের চৌকাঠ ডিঙিয়ে টুকটাক বাইরে বের হয়ে আসছিলই। তবে ফাটল যে কতটা গভীর, সেটা বোঝা গিয়েছে সুইৎজারল্যান্ড ম্যাচে। যখন তাঁকে রিজার্ভ বেঞ্চে বসিয়ে, তাঁর জায়গায় অনামী গনসালে রামোসকে মাঠে নামিয়ে দেন স্যান্টোস। সেই রামোস আবার বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমে হ্যাটট্রিকও করে ফেলেন। যা রিজার্ভ বেঞ্চে বসে দেখতে হয় রোনাল্ডোকে।

যাইহোক প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে তাঁকে বেঞ্চে বসানোর বিষয়টি স্বাভাবিক কারণেই হজম করতে পারেননি রোনাল্ডো। এ দিকে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। নানা প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছিল যে, পর্তুগাল অধিনায়ক এবং তাঁর দলের মধ্যে তীব্র বিবাদ তৈরি হয়েছে। কেউ কিছু প্রকাশ্যে স্বাকীর না করলেও, কোচের সঙ্গে রোনাল্ডোর সম্পর্কের উষ্ণতাও বেশ টের পাওয়া যাচ্ছিল। শুক্রবার মরক্কোর বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের আগে পর্তুগালের কোচ ফার্নান্দো স্যান্টোস এই সব বিষয় নিয়ে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন।

আরও পড়ুন: নেইমার বনাম মেসি হল না,সেমিতে লড়াই আর্জেন্তিনার-ক্রোয়েশিয়ার, জানুন ম্যাচের সূচি

স্যান্টোস স্বীকার করে নিয়েছেন, রোনাল্ডোকে যখন ম্যাচের দিন রিজার্ভ বেঞ্চে বসানোর সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়, তখন তিনি মোটেও বিষয়টি ভালো ভাবে নেননি। প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচের পরেই সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছিল, রোনাল্ডো মারাত্মক রকম ভাবে অখুশি ছিলেন পুরো বিষয়টি নিয়ে। এবং তিনি দল ছেড়ে মাঝপথে ফিরে যাওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

স্যান্টোস অবশ্য এই বিতর্ককে কিছুটা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘ম্যাচের আগে আমাদের কথা হয়েছিল। এমন নয় যে প্রথম একাদশের বাইরে থাকা সব ফুটবলারের সঙ্গে কথা বলি। কিন্তু রোনাল্ডো দলের অধিনায়ক। তাই ম্যাচের আগে ওকে ডেকে আমার পরিকল্পনার কথা বলেছিলাম। প্রথমে ওর খারাপ লেগেছিল। কিন্তু পরে দলের স্বার্থে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছিল। আমাদের মধ্যে কোনও সমস্যা হয়নি।’

স্যান্টোস এর পর ব্যাখ্যা করেছেন কী ভাবে এবং কোথায় তিনি এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে রোনাল্ডোকে জানিয়েছিলেন এবং ৩৭ বছরের তারকার কী প্রতিক্রিয়া ছিল।

আরও পড়ুন: মেসি-ম্যাজিক আর টিমগেম- দুইয়ের যুগলবন্দিতে স্বপ্ন সাজাচ্ছে আর্জেন্তিনা

পর্তুগাল কোচ যোগ করেন, ‘ম্যাচের দিন মধ্যাহ্নভোজের পরে আমাদের কথাবার্তা হয়েছিল। এর আগে আমি ওর সঙ্গে কথা হয়নি। রবিবার বা সোমবারও নয়। খেলার দিন লাঞ্চের পরেই কথা বলি। আমরা দেখা করি এবং আমি ওকে ব্যাখ্যা করে বলি, কেন ওকে প্রথম একাদশে রাখছি না। আমি ওকে বুঝিয়েছিলাম যে, এটি একটি কৌশল। ওর জন্য দ্বিতীয়ার্ধে খেলা ভালো বিষয় হবে।’

তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘রোনাল্ডো সব সময় প্রথম একাদশে থাকে। তাই রিজার্ভ বেঞ্চে থাকা ওর পছন্দ নয়। ও জিজ্ঞেস করেছিল, এটা আদৌ ঠিক হবে? কিন্তু পরে প্রতিটা গোলে দলের সঙ্গে উল্লাস করেছে ও। সবার সঙ্গে কথা বলেছে। সাইডলাইন থেকে নিজের মতামত দিয়েছে।’

রোনাল্ডোকে নিয়ে এত বিতর্ক আর আলোচনার কারণে জর্জরিত হচ্ছে পর্তুগাল টিম। যে কারণে স্যান্টোস কোয়ার্টার ফাইনালে মরক্কোর বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে রোনাল্ডোকে একা থাকতে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। পাশাপাশি সুইৎজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে রোনাল্ডোকে প্রথম একাদশে না রাখার জন্য তিনি নাকি দল ছেড়ে দেশে ফেরার বিমান ধরতে চেয়েছিলেন, সেই খবরের সত্যতাও স্বীকার করেননি স্যান্টোস।

তিনি উল্টে বলেছেন, ‘রোনাল্ডো আমাকে কোনও দিন বলেনি যে ও দল ছেড়ে দেশে ফিরতে চায়। এ বার আমাদের এই নিয়ে কথা বলা বন্ধ করতে হবে। দয়া করে ওকে একা ছেড়ে দিন। রোনাল্ডো পর্তুগালের ফুটবলের জন্য কী করেছে সেটা মনে রাখুন।’

বন্ধ করুন