বাংলা নিউজ > ময়দান > ফুটবলের মহারণ > FIFA World Cup 2022: ইরানি ফুটবলারদের আচরণ নজর রাখছে সরকার- প্রতিবাদ করলেই পরিবারকে অত্যাচারের হুমকি

FIFA World Cup 2022: ইরানি ফুটবলারদের আচরণ নজর রাখছে সরকার- প্রতিবাদ করলেই পরিবারকে অত্যাচারের হুমকি

ইরান ফুটবলারদের চাপে রেখেছে ইরান সরকার।

মঙ্গলবার তৃতীয় ম্যাচেও ইরানের ফুটবলারদের আচরণের উপর কড়া নজর রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। ইরান থেকে যাঁরা কাতারে খেলতে গিয়েছেন, তাঁদের দলের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মেলামেশা করা নিষিদ্ধ। বিদেশিদের সঙ্গেও বেশি কথাবার্তা বলতে পারবেন না ইরানিরা, এমনটাই নির্দেশ রয়েছে।

নকআউটে পর্বে যাওয়ার বড় সুযোগ রয়েছে ইরানের সামনে। মঙ্গলবার আমেরিকাকে হারালেই তারা প্রি-কোয়ার্টারে পৌঁছে যাবে। কিন্তু মাঠে নামার আগে এতটুকু স্বস্তিতে নেই ইরানি ফুটবলাররা। সূত্রের দাবি, ইরানের ফুটবলারদের পরিবারকে রীতিমতো হুমকি দেওয়া হচ্ছে ইরান সরকারের তরফে।

জানা গিয়েছে, আমেরিকার বিরুদ্ধে ম্যাচ চলাকালীন মাঠে ইরানের ফুটবলারদের আচরণের উপর নজর রাখবে সরকার। সরকার-বিরোধী আচরণ দেখলেই ফুটবলারদের পরিবারের উপর শুরু হবে অত্যাচার। সিএনএন-এর খবর, ইতিমধ্যে ইরানে ফুটবলারদের পরিবারের সদস্যদের গ্রেফতার এবং অত্যাচারের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পড়শিদের সঙ্গে ড্র চলবে কেনদের, ইরান-আমেরিকার অঙ্কের লড়াই

হিজাব বিরোধী আন্দোলনের জেরে ইরানে এখন আগুন জ্বলছে। প্রাণভয়, অত্যাচার উপেক্ষা করেই সরব গোটা ইরান। আর সেই আন্দোলনের সমর্থনে সামিল হয় ইরানের ফুটবলাররা। আর সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবার জানাতে বিশ্বকাপের মঞ্চকেই তারা বেছে নেয়। কাতার বিশ্বকাপে ইরান প্রথম খেলতে নামে গত ২১ নভেম্বর। ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সেই ম্যাচে ইরানি ফুটবলাররা দেশের জাতীয় সঙ্গীতে গলা মেলাননি। ম্যাচ শুরুর আগে জাতীয় সঙ্গীত চলাকালীন তাঁরা সকলে নীরব ছিলেন। যা নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে বিস্তর চর্চা হয়েছে। এ ভাবেই বিশ্বমঞ্চে প্রতিবাদ জানিয়েছিল ইরানের ফুটবলাররা।

সূত্রের খবর, এর পরেই ইরানের জাতীয় দলের সব ফুটবলারকে নিয়ে বৈঠকে বসে ইরানিয়ান রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। সেখানে তাঁদের বলা হয়, আগামী ম্যাচে যদি তাঁরা জাতীয় সঙ্গীতের সময় নীরব থাকেন, বা তেহরান শাসনের বিরুদ্ধে কোনও রকম রাজনৈতিক প্রতিবাদ তাঁদের আচরণে ধরা পড়ে, তবে দেশে তাঁদের পরিবার বিপদে পড়বে। বিশ্বকাপে ওয়েলসের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলে ইরান। সেই ম্যাচে ফুটবলাররা জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন। ২-০ গোলে জিতেওছিল ইরান।

আরও পড়ুন: জিততেই হবে সেনেগালকে, কোন অঙ্কে পরের রাউন্ডে ডাচ ও ইকুয়েডর

মাস দুয়েক আগে হিজাব বিরোধী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মাহশা আমিনির মৃত্যুর পর থেকেই ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। দলে দলে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষ। হিজাব না পরার ‘অপরাধে’ মাহশাকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ আন্দোলনকারীদের। তাই প্রতিবাদে নেমে ইরানের মেয়েরা হিজাব পুড়িয়ে, চুল কেটে মাহশা-মৃত্যুর বিরোধিতা করেছেন। ইরানে এই সমস্ত আন্দোলন কড়া হাতে দমন করছে সরকারও। বিক্ষোভকারীদের উপর প্রকাশ্যে লাঠিচার্জ, গুলিবর্ষণ থেকে শুরু করে নির্বিচারে ধরপাকড় লেগেই আছে ইরানে। ইতিমধ্যেই বেশ কিছু বিক্ষোভকারীকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবু বিক্ষোভ থামানো যায়নি।

এ বার ইরানের ফুটবলারদের উপরেও নেমে এসেছে হুমকিতে ভরা বার্তা। মঙ্গলবার তৃতীয় ম্যাচেও ইরানের ফুটবলারদের আচরণের উপর কড়া নজর রাখা হবে বলে জানা গিয়েছে। ইরান থেকে যাঁরা কাতারে খেলতে গিয়েছেন, তাঁদের দলের বাইরে অন্য কারও সঙ্গে মেলামেশা করা নিষিদ্ধ। বিদেশিদের সঙ্গেও বেশি কথাবার্তা বলতে পারবেন না ইরানিরা, এমনটাই নির্দেশ রয়েছে। প্রতি মুহূর্তে ফুটবলারদের গতিবিধির উপর নজর রাখছেন ইরানের নিরাপত্তারক্ষীরা।

সূত্রের দাবি, ফিফা আয়োজিত বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের ফুটবলারদের সমর্থনে ইরান সরকারের তরফে অনেক সমর্থক পাঠানো হয়েছে কাতারে। কিন্তু একই সঙ্গে ফুটবলারদের পরিবারকেও অত্যাচারের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ফলে সরকারের সমর্থন সবটাই ‘লোকদেখানো’ বলে দাবি করা হচ্ছে।

বন্ধ করুন