FPAI-এর লোগো।
FPAI-এর লোগো।

I-League: চুক্তি বাতিল করা ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি ফুটবলারদের

  • খেলোয়াড়দের সম্মতি ছাড়া Force Majeure শর্ত চাপিয়ে দিতে পারে না কোনও ক্লাব, জানিয়ে দিল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।

মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই চুক্তি ছিন্ন করায় ফুটবলাররা আইনি লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন আই লিগ ক্লাবগুলির বিরুদ্ধে। করোনা ভাইরাসের জেরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চুক্তির অন্তর্গত 'অনিবার্য শর্ত' প্রয়োগ করে বেশ কয়েকটি আই লিগ ক্লাব ফুটবলারদের জানিয়ে দিয়েছে অবশিষ্ট মরশুমের জন্য তাঁদের বেতন দেওয়া হবে না।

FIFA-র নির্দেশিকা অনুযায়ী করোনা মহামারির জেরে 'বাধ্যতামূলক শর্ত' প্রয়োগ করার রাস্তা খোলা থাকলেও ফুটবল ক্লাবগুলি সুযোগের সদ্ব্যবহার করে তার অপপ্রয়োগ করতে পারে না। যেহেতু আই লিগ মরশুম নির্ধারিত সময়ের আগেই বাতিল ঘোষিত হয়েছে, তাই বেশিরভাগ আই লিগ ক্লাব শেষ দু'মাসের বেতন দিতে অস্বীকার করছে ফুটবলারদের।

এখনও পর্যন্ত আই লিগের মাত্র তিনটি দল ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের চুক্তি অনুযায়ী টাকা মিটিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মোহনবাগানের সঙ্গে ফুটবলারদের চুক্তি ছিল ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত। আই লিগ চ্যাম্পিয়নরা নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসার প্রয়োজন মনে করেনি। রিয়াল কাশ্মীর ইতিমধ্যেই ফুটবলার ও কোচিং স্টাফদের বকেয়া মিটিয়ে দিয়েছে। AIFF জানিয়ে দিয়েছে ইন্ডিয়ান অ্যারোজের কোনও ফুটবলারই চুক্তির অর্থ থেকে বঞ্চিত হবেন না।

বাকি দলগুলির ফুটবলারদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। তাঁরা ফুটবল প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার দ্বারস্থ হতে শুরু করেছেন। ইতিমধ্যেই FPAI বেশ কিছু চিঠি ও ফোন পেয়েছে ক্ষুব্ধ ফুটবলারদের কাছ থেকে। সংস্থার তরফে সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের চুক্তিপত্র ও চুক্তি বাতিলের নোটিশ সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে।

প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের তরফে জানানো হয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখে ক্লাবগুলির সঙ্গে কথা বলবে সংস্থা। যদি সমাধানসূত্র না বেরোয় তবে AIFF-এর প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটির সঙ্গে এই নিয়ে আলোচনায় বসবে তারা। FPAI নিশ্চিত যে, প্লেয়ার্স স্ট্যাটাস কমিটি যথাযথ পদক্ষেপ নেবে এই বিষয়ে।

FPAI-এর তরফে জানানো হয় যে, কোনও ক্লাব 'বাধ্যতামূলক শর্ত' চাপিয়ে দিয়ে ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি ছিন্ন করতে পারে না। তার জন্য অবশ্যই ফুটবলারদের সম্মতির প্রয়োজন। তাছাড়া FIFA কখনই এমন পরিস্থিতিতে 'অনিবার্য শর্ত' ব্যবহারের স্বাধীনতা দেয়নি ক্লাবগুলিকে। যদি মরশুম শেষ হতে ৫-৬ মাস বাকি থাকতো, তাহলেও না হয় বিবেচনা করা যেত। কিন্তু শেষ দু'মাসের বেতন আটকে দেওয়া কখনই মেনে নেওয়া যায় না। বিশেষ করে কোনও ক্লাব যখন পরের মরশুমের জন্য ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি করতে শুরু করে দিয়েছে, তারা পুরনো ফুটবলারদের মাঝপথে কিভাবে ছেঁটে ফেলতে পারে!

প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন সংশ্লিষ্ট ফুটবলারদের জানিয়েছে যে, সংস্থার বিশেষজ্ঞ আইনজীবরা রয়েছেন। ফুটবলাররা যদি ক্লাবের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে যেতে চান, তবে তাঁরা আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করতেই পারেন।

বিদেশি ফুটবলারদের ক্ষেত্রে বিষয়টা FIFA পর্যন্ত গড়াতে পারে। ইতিমধ্যেই একজন বিদেশি ফুটবলার তাঁর ক্লাবকে হুমকি দিয়েছেন আরও এক মাসের বেতন না দেওয়া হলে তিনি FIFA-র দ্বারস্থ হবেন। তাঁর সঙ্গে ক্লাবের চুক্তি ছিল ৩০ জুন পর্যন্ত। তবে মার্চের পর তাঁকে আর বেতন দিতে রাজি হয়নি তাঁর ক্লাব। সব মিলিয়ে ক্রমশ উত্তপ্ত হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলমহলের আবহ।

বন্ধ করুন