বাংলা নিউজ > ময়দান > আইপিএল ২০২০ > IPL 2020: রূঢ় বাস্তবে কুপোকাত KKR, IPL-এর মাঝপথে প্রকট সঠিক-কৌশল কম্বিনেশনের অভাব
ম্যাচ হারছে দল, চিন্তায় দীনেশ কার্তিক এবং ইয়ন মর্গ্যান (ছবি সৌজন্য আইপিএল)
ম্যাচ হারছে দল, চিন্তায় দীনেশ কার্তিক এবং ইয়ন মর্গ্যান (ছবি সৌজন্য আইপিএল)

IPL 2020: রূঢ় বাস্তবে কুপোকাত KKR, IPL-এর মাঝপথে প্রকট সঠিক-কৌশল কম্বিনেশনের অভাব

  • গত দু'ম্যাচে হারতে হারতে জয়ের পর সেই ফাঁকফোকরে সাময়িক চাপা দেওয়া হয়েছিল।

শেষ লগ্নে বোলারদের দাপট এবং বিপক্ষের ব্যর্থতা - দুইয়ের যুগলবন্দিতে একাধিক অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়নি। কিন্তু রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরে্র বিরুদ্ধে সেই সৌভাগ্য হল না। বরং চমকপ্রদ জয়ের দুনিয়া থেকে নেমে রূঢ় বাস্তবের সম্মুখীন হল কলকাতা নাইট রাইডার্স। তার জেরে আবারও প্রশ্ন উঠল, কবে নাইটদের সঠিক কম্বিনেশন গড়ে উঠবে? কবে ঠিক হবে কৌশল?

এবারের আইপিএলে প্রথম থেকেই কোনও কম্বিনেশন গড়ে তুলতে পারেনি কেকেআর। আগের ম্যাচে যিনি ওপেন করছেন, পরের ম্যাচে তিনি সাতে নেমে যাচ্ছেন। কোনও ম্যাচে আটে ব্যাট করছেন। প্রথম চার ম্যাচে ওপেন করেছিলেন সুনীল নারিন। সেজন্য দিল্লি ক্যাপিটালসের বিরুদ্ধে বিশেষজ্ঞ ওপেনারকে আটে নামতে হয়েছে। পরে চাপের মুখে চেন্নাই সুপার কিংস ও কিংস ইলেভন পঞ্জাব ম্যাচে শুরুতে নামালেও ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে রাহুলকে সাতে পাঠানো হয়। এক ম্যাচ ব্যর্থ হলেও তাঁকে সাতে নামানোর যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না ক্রিকেট বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের বক্তব্য, নীতিশ রানা তো তেমন আহামরি ফর্মে নেই। সেক্ষেত্রে রাহুলকে তিনে পাঠানো যেত। 

(আইপিএলের যাবতীয় আপডেট, লাইভ স্কোর দেখুন এখানে)

তবে কম্বিনেশন নিয়ে প্রথম থেকেই দোলাচলে আছে কেকেআর। টুর্নামেন্টের প্রথম পর্বের শেষদিকে তাও মিডল অর্ডার কিছুটা থিতু হয়েছে। চারে আসছেন ইয়ন মর্গ্যান। পরিস্থিতি বিচার করে পাঁচ ও ছয় নম্বরের মধ্যে আন্দ্রে রাসেল ও দীনেশ কার্তিক নামছেন। কিন্তু ব্যাট হাতে তাঁরা কেউই তেমন ফর্মে নেই। মর্গ্যান যখন ভালো ছন্দে ছিলেন, তখন তাঁকে নীচের দিকে খেলানো হচ্ছিল। শুরুর দিকে মর্গ্যান নামছিলেন কখনও পাঁচে, কখনও ছয়ে। ব্যাট হাতে ফর্মে নেই রাসেলও। কার্যত দীনেশ কার্তিকের একটা ম্যাচ, রাহুল এবং শুভমন গিল ছাড়া ব্যাট হাতে তেমন কেউ সফল হননি। টম ব্যান্টনও প্রথম ম্যাচে একেবারেই ছন্দে ছিলেন না। এদিক-ওদিক ব্যাটিং পারফরম্যান্সে গত দু'ম্যাচে কিছুটা ভদ্রস্থ খাড়া করছিল কেকেআর। কিন্তু রোজ তা সম্ভব নয়। ব্যাঙ্গালোর ম্যাচে সেই প্রমাণ পেয়েছে কলকাতা।  

সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নাইটদের ভুল কৌশল। সন্দেহজনক বোলিং অ্যাকশন রিপোর্ট জমা পড়ার পর সোমবার খেলেননি নারিন। তাঁর পরিবর্তে দলে আসেন ব্যান্টন। অর্থাত্ বিশেষজ্ঞ বোলারের (অলরাউন্ডার হলেও) পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ ব্যাটসম্যানকে খেলানো হয়। টুর্নামেন্টের গোড়ার দিকে শারজায় ম্যাচটা হলে সেই পরিবর্তন তবুও কিছুটা যুক্তিসংগত হত। কিন্তু আগের ম্যাচেই প্রমাণ মিলেছিল, শারজার উইকেট স্লো হচ্ছে। সেখানে স্পিনারের পরিবর্তে দলে সুযোগ পেলেন ব্যাটসম্যান। সেই কৌশল যে কতটা ভুল, তা প্রমাণ করে দিয়েছেন ওয়াশিংটন সুন্দর ও যুজবেন্দ্র চহাল। তাঁরা আট ওভারে ৩২ রান দিয়ে তিন উইকেট পেয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ভালো বল করেছিলেন কেকেআরের বরুণ চক্রবর্তীও। কিন্তু তিনি একা পড়ে যাচ্ছিলেন।

(কেকেআরের যাবতীয় আপডেট খবর দেখুন এখানে)

আর সেই কৌশলের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে কেকেআরে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি। তাও নারিনের পরিবর্ত হিসেবে ক্রিস গ্রিন চলে যাবেন। কিন্তু বাকিদের বিকল্প কোথায়? প্রথম একাদশের কেউ চোট পেলে বা খেলতে না পারলেই সেই সমস্যা আরও প্রকট হয়ে উঠছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কে না আছেন কোনও দুর্দান্ত মানের ভারতীয় ব্যাটসম্যান না অলরাউন্ডার। নিখিল নায়েক, রিঙ্কু সিংরা এক সেই জায়গায় পৌঁছাননি। বোলিংয়ের অবস্থা তাও কিছুটা ভালো। বাইরে বসে আছেন কুলদীপ যাদব। পেস বিভাগে আছেন লকি ফার্গুসন, শিবম মাভিরা। 

তবে সেই ফাঁকফোকর একেবারেই নতুন নয়। কিন্তু গত দু'ম্যাচে হারতে হারতে জয়ের পর সেই ফাঁকফোকরে সাময়িক চাপা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ব্যাঙ্গালোরের বিরুদ্ধে হারের পর তা আবারও ফোকলা দাঁতের মতো বেরিয়ে পড়ল। দ্বিতীয় পর্ব শুরুর আগে তা ভালোভাবে ঠিক না করলে প্লে-অফের স্বপ্ন আবারও অধরা থেকে যাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

বন্ধ করুন