বাংলা নিউজ > বাংলার মুখ > অন্যান্য জেলা > প্রাক্তন প্রেমিকের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে গুজরাত থেকে উদ্ধার বীরভূমের বধূ
প্রাক্তণ প্রেমিকের হাতে অপহৃত বধূ গুজরাতের বস্তি থেকে উদ্ধার: ছবি (‌সৌজন্য ফেসবুক)‌
প্রাক্তণ প্রেমিকের হাতে অপহৃত বধূ গুজরাতের বস্তি থেকে উদ্ধার: ছবি (‌সৌজন্য ফেসবুক)‌

প্রাক্তন প্রেমিকের টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করে গুজরাত থেকে উদ্ধার বীরভূমের বধূ

  • সাফল্য বীরভূম জেলা পুলিশের

বধূকে অপহরণ করে গুজরাতে নিয়ে গিয়েছিল তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক। শুধু তাই নয়, মোটা অঙ্কের টাকা মুক্তিপণও চেয়েছিল তাঁর পরিবারের কাছে। অপহৃত ওই গৃহবধূকে গুজরাতের সুরাতের এক বস্তি থেকে উদ্ধার করল বীরভূম জেলা পুলিশ। যদিও সুরাতের আদালতে জামিন পেয়ে যাওয়ার কারণে অভিযুক্ত ওই যুবককে এ রাজ্যে আনা সম্ভব হয়নি। তবে নলহাটি থানার পুলিশের তৎপরতায় অপহৃত গৃহবধূকে উদ্ধার করে রাজ্যে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

সরকারি আইনজীবী সুরজিৎ সিনহা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ওই গৃহবধূকে রামপুরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হলে তাঁকে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন অতিরিক্ত দায়রা বিচারক পরাগ নিয়োগী।

ঘটনাটি কী ঘটেছিল ?‌

বীরভূমের নলহাটি থানার পাইকপাড়া গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে ফেসবুকে আলাপ হয় নেপালের জলেশ্বর থানার হালখোরি গ্রামের বাসিন্দা রাকেশকুমার পান্ডের। রাকেশ নিজেকে হোটেলের ম্যানেজার বলে পরিচয় দিয়ে ওই তরুণীর সঙ্গে আলাপ করে। তারপর দু’‌জনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়তে থাকে। পরে দু’‌জনের মধ্যে প্রণয় সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে বছর দেড়েক আগে রাকেশের সঙ্গে প্রণয়ের সম্পর্ক চলাকালীনই নলহাটিরই এক কৃষক পরিবারে বিয়ে হয়ে যায় ওই তরুণীর। কিন্তু বিয়ে হয়ে যাওয়ার পরেও ওই যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছিলেন গৃহবধূ।

চলতি বছরের মে মাসে নলহাটিতে বাপের বাড়ি ঘুরতে যান ওই গৃহবধূ। ২৩ মে সকালে বাজার করতে যাওয়ার নামে ঘর থেকে বের হন তিনি। তারপর থেকে আর বাড়ি ফেরেননি বধূ। রাত হয়ে গেলেও মেয়ে বাড়িতে না ফেরায় তাঁর পরিবারের লোকেরা বিস্তর খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও মেয়েকে খুঁজে না পেয়ে অবশেষে নলহাটি থানায় নিখোঁজ ডায়রি করেন গৃহবধূর বাপের বাড়ির লোকজন।

তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, নেপালের ওই যুবক কোনও ম্যানেজার নয়, একটি হোটেলের সাফাইকর্মী। তারপর থেকেই এই জুটির খোঁজ করছিল পুলিশ। সূত্র হাতে লাগে মাসখানেকের মধ্যে। যখন ওই যুবক গৃহবধূর বাড়ির লোকদের ফোনে ৬ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। পরিবারের অভিযোগ, ওই যুবক তাঁদের হুমকিও দেয় যে, টাকা না দিলে তাঁদের মেয়েকে বিক্রি করে দেওয়া হবে। মোবাইলের সমস্ত তথ্য দিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হন গৃহবধূর পরিবার। এরপর এই মোবাইলের টাওয়ার লোকেশন ট্র‌্যাক করে পুলিশ জানতে পারে, ওই ফোন গুজরাতের সুরত থেকে করা হয়েছে। এর পরেই পুলিশ সুপার নগেন্দ্রনাথ ত্রিপাঠীর নির্দেশে জরুরী ভিত্তিতে অপারেশন চালানো হয়। নলহাটি থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গুজরাতের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছতেই মেলে সাফল্য। গুজরাতের শচীন পুলিশ স্টেশন এলাকার একটি বস্তি থেকে অপহৃত গৃহবধূকে উদ্ধার করে নলহাটি থানার পুলিশ।

বন্ধ করুন